জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর (Gnanendramohan Tagore) একজন ভারতীয় বাঙালি যিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন প্রথম বাঙালি তথা প্রথম ভারতীয় তথা প্রথম এশীয় ব্যারিস্টার হিসেবে।
১৮২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি কলকাতায় জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের জন্ম হয়৷ তাঁর বাবা প্রসন্নকুমার ঠাকুর, ঠাকুর পরিবারের পাথুরিয়াঘাটা শাখার সদস্য ও তৎকালীন হিন্দুসমাজের একজন রক্ষণশীল নেতা ছিলেন। তিনি ছিলেন হিন্দু কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গোপীমোহন ঠাকুরের নাতি। ১৮৫১ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন তাঁর পরামর্শদাতা রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাবে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং তাঁর কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা কমলমণিকে বিয়ে করেন। এই ঘটনার ফলস্বরূপ প্রসন্নকুমার ঠাকুর তাঁকে ত্যাজ্যপুত্র করেন এবং তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে জ্ঞানেন্দ্রমোহনকে বঞ্চিত হন। পরবর্তী সময়ে জ্ঞানেন্দ্রমোহন আদালতের মাধ্যমে কিছু উত্তরাধিকার ফিরে পেয়েছিলেন৷
জ্ঞানেন্দ্রমোহনের প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তিনি হিন্দু কলেজে পড়াশোনা করেন৷ তারপর ১৮৪১ সালে মাসিক ৪০ টাকা সিনিয়র স্কলারশিপ পেয়ে ১৮৪২ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন যদিও শেষপর্যন্ত তিনি চিকিৎসাবিদ্যার পাঠ সমাপ্ত করেননি।
১৮৫৯ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক ইংল্যান্ড যান। আরোগ্য লাভের পর ১৮৬২ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন লিঙ্কনস ইন থেকে ব্যারিস্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রথম বাঙালি তথা প্রথম ভারতীয় তথা প্রথম এশীয় ব্যারিস্টার হিসেবে। তিনি লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু আইন ও বাংলা ভাষায় অধ্যাপনাও করতেন। ১৮৬৪ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহন দেশে ফিরে আসেন এবং ১৮৬৫ তে কলকাতা হাইকোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন। ১৮৬৯ সালে জ্ঞানেন্দ্রমোহনের স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি দুই কন্যা ভবেন্দ্ৰবালা ও সত্যেন্দ্ৰবালাকে নিয়ে ইংল্যাণ্ড চলে যান। ঠাকুর পরিবারের পাথুরিয়াঘাটার সিনিয়র ব্রাঞ্চ এবং জোড়াসাঁকোর জুনিয়র ব্রাঞ্চের মধ্যে কিছু তিক্ততা থাকলেও মিলও ছিল। সেই কারণেই হয়ত ১৮৭৭ সালে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ইংরেজি শিক্ষা ও সহবত শেখার জন্য লন্ডনে এসে জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের বাড়িতে ওঠেন৷ পরে অবশ্য তিনি ভাড়া বাড়িতে চলে যান৷
১৮৯০ সালের কেনসিংটনে ৫ জানুয়ারি জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের মৃত্যু হয়। সেখানেই ব্রম্পটন সেমেট্রিতে সমাধিস্থ করা হয় তাঁকে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান