বিজ্ঞান

গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ

আমরা সাধারণত ৮ রকম ব্লাড গ্রুপের কথা জানি, কিন্তু এর বাইরেও আছে অনেক রকমের ব্লাড গ্রুপ। আর তার মধ্যে একটি ব্লাড গ্রুপ আছে, যা বিশ্বে পঞ্চাশ জনেরও কম লোকের আছে বলে এখনও অব্দি নথিভুক্ত হয়েছে। এটি ‘গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ’ নামে পরিচিত।

গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ আসলে কি জানতে হলে জেনে নিতে হবে কিভাবে রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয়। আমাদের রক্তে অবস্থিত লোহিত রক্ত কণিকার উপরিতলে মোট ৩৪২ রকমের অ্যান্টিজেন থাকে যা অ্যান্টিবডি তৈরি করতে ট্রিগার করে। রক্ত কণিকায় এই ধরণের কোন অ্যান্টিজেন উপস্থিত বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের বিভাগ নির্ণয় করা হয়। এর মধ্যে প্রধান হল A এবং B অ্যান্টিজেন গ্রুপ। রক্তে A, B অ্যান্টিজেনগুলির উপস্থিতির উপর নির্ভর করে A, B,  AB বা দুটিই অনুপস্থিত হলে O গ্রুপের রক্ত বলা হয়।

এরপর আসে রিস্যাস (Rhesus) D অ্যান্টিজেন যার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে পজিটিভ বা নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত বলা হয়। আমরা সাধারণভাবে রক্তের এটুকুই ভাগ করে থাকি। কিন্তু এর বাইরেও আরও অ্যান্টিজেন গ্রুপ আছে, মোট ৩৫ রকমের অ্যান্টিজেন গ্রুপে ৩৪২ টি অ্যান্টিজেন আছে। এর মধ্যে রিস্যাস গ্রুপে সব থেকে বেশি মোট ৬১ টি অ্যান্টিজেন আছে। এর আগেই বলা হয়েছে, যে Rh অ্যান্টিজেনগুলির মধ্যে D অ্যান্টিজেনটি না থাকলে নেগেটিভ রক্ত বলা হয়। কিন্তু এমন যদি হয় যে এই বিভাগের ৬১ টি অ্যান্টিজেনই না থাকে তাহলে সেটা অতি বিরলতম ঘটনা। মানে পুরো একটা ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম নেই – একে বলে Rh Null। এই রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা পর্যায়ে ফেলা হয়, বিশেষ করে অন্যান্য যেকোন বিরল ব্লাড গ্রুপের ক্ষেত্রে এই গ্রুপের রক্ত দেওয়া যায়। বিরলতম এবং সর্বজনীন দাতা বলে এই ব্লাড গ্রুপকে গোল্ডেন ব্লাড গ্রুপ বলে।

সর্বজনীন দাতা হলেও এই গ্রুপের রক্ত খুবই অপ্রতুল তাই খুব ভেবে চিন্তে দেওয়া দরকার, কারণ এদের নিজেদের রক্ত দরকার হলে এই রক্ত পাওয়া খুব কঠিন। রক্ত দানের জন্যে প্রয়োজনে এক দেশ থেকে অন্য দেশে উড়ে যেতে হয় এই গ্রুপের রক্তদাতাকে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!