ধর্ম

গুরু গোবিন্দ সিং জয়ন্তী

শিখ ধর্মের দশম গুরু হলেন গুরু গোবিন্দ সিং।যিনি ছিলেন একই সাথে শিখ গুরু, আধ্যাত্মিক গুরু, কবি, দার্শনিক ও যোদ্ধা। শিখদের নবম গুরু তেগবাহাদুরের একমাত্র সন্তান গুরু গোবিন্দ সিং এর প্রকৃত নাম- গোবিন্দ রাই । বিহারের পাটনা শহরের সোধি খাত্রী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৬৬৬ সালের ৫ই জানুয়ারি গুরু গোবিন্দ।ওনার মায়ের নাম ছিল-মাতা গুজরি।

দিল্লীতে ১৬৭৫ সালের ১১ই নভেম্বর ঔরঙ্গজেবের নির্দেশে গুরু গোবিন্দ সিং-এর বাবা গুরু তেগ বাহাদুরের শিরশ্ছেদের পর শিখ ধর্মাবলম্বীরা ২৯শে মার্চ ১৬৭৬ সালে দশ বছরের গুরু গোবিন্দ সিং কে দশম গুরু হিসেবে মান্যতা দেয়।দশম গুরু হওয়ার পরও লেখা পড়া চালিয়ে যেতে থাকেন গুরু গোবিন্দ।একই সঙ্গে চলতে থাকে যুদ্ধ শিক্ষাও।তিন স্ত্রী সহ চার সন্তানের পিতা ছিলেন গুরু গোবিন্দ।১৬৯৯ সালে গুরু গোবিন্দ বৈশাখী উৎসবের সময় খালসা (বিশুদ্ধ যিনি)নামে একটি যোদ্ধা সম্প্রদায় গঠন করেন।খালসার প্রথম পাঁচ সদস্যকে উনি নাম দেন- পাঁজ প্যায়ারে। এই পাঁচ জনকে উনি নতুন পদবী দেন- সিং-সিংহ । গুরু গোবিন্দ সিং শিখ ধর্মের পঞ্চ ক'র প্রতিষ্ঠাতা। এই পঞ্চ ক হল-

কেশ-  না কাটা চুল
কাঙ্গা- কাঠের চিরুনি
কারা- লোহা বা ইস্পাতের বালা যা ডান হাতে পড়তে হয়।
কৃপাণ- ছোরা/ছুরি
কাচ্ছেরা- দড়ি বাঁধা সুতির অন্তর্বাস।

শিখ ধর্মের বহু উল্লেখযোগ্য রীতি বা ঘটনার প্রবক্তা গুরু গোবিন্দ সিং। তিনি যেসব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি করেছিলেন-

১. তিনি গুরু গ্রন্থ সাহেবের প্রবর্তন করেন এবং এই বইটিকে শিখদের চিরন্তন গুরু হিসেবে ঘোষণা করেন।

২. তিনি খালসা যোদ্ধাদের তামাক ও হালাল মাংস নিষিদ্ধ করেন। একই সাথে ব্যভিচারী ও যৌন সংসর্গে লিপ্ত হতেও বারণ করেন।

৩.তিনি নারী পুরুষ জাতি বর্ণ উচ্চ নিচ নির্বিশেষে খালসার সদস্য হওয়ার কথা বলেন। শিখ ধর্মের জাতিভেদ বা বর্ণভেদ প্রথা না থাকার কারণ এটি

৪.গুরু গোবিন্দ সিং মোগলদের বিরুদ্ধে ১৩টি যুদ্ধ করেছিলেন।

১৭০৮ সালের ৭ই অক্টোবর বর্তমান ভারতের হাজুর সাহেব নানদেদ -এ যুদ্ধে আহত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!