ভারতবর্ষের অধ্যাত্ম জগতে আজ অবধি যে কজন সিদ্ধ পুরুষ তথা যোগ সাধক আবির্ভূত হয়েছেন শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাঁদের মধ্যে এক উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক। বাবা লোকনাথ এমনই এক মহাযোগী যিনি অপার আশীর্বাদ ও অনন্ত ভরসা হিসেবে সাধারণ থেকে অতি সাধারণ মানুষের কাছে বারংবার দেখা দিয়েছেন। প্রায় মিথ হয়ে যাওয়া তাঁর সেই বাণী ”রনে,বনে,জলে,জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে আমাকে স্মরণ করিও,,আমি রক্ষা করিব”- কত যে আর্ত, অসহায় প্রাণে এক অক্ষয় ভরসা হয়ে দেখা দিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। বলা বাহুল্য বাবা লোকনাথের আগে বা পরে আর কোন সাধক নেই যিনি এই প্রত্যয়ের সাথে, এই দৃঢ়তার সাথে পাশে দাঁড়ানোর অভয়বাণী দিয়েছেন। না ঠিক অভয়বাণী নয়, বলা ভালো এরকম শপথ করেছেন। আর ঠিক এই কারণেই বাবা লোকনাথ আলাদা, অনন্য, অতুলনীয় এক ব্যক্তিত্ব। সাধারণত সকল সাধকই কোন না কোন দেব দেবীকে ইষ্টজ্ঞানে অবলম্বন করে তাঁর সাধক জীবন শুরু করেন। লোকনাথ এই ধারার এক বিরল ব্যতিক্রম। তাঁর সাধক জীবন শুরু হয়েছিল ব্রহ্মজ্ঞান প্রাপ্তির অবিচল আকাঙ্খায়। ফলত কেবল মানুষই নয়, সামান্য কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে সকল প্রাণীকূল বাবার কৃপাধন্য হয়েছে বারংবার। বাবা লোকনাথ এমনই এক বর্ণময় চরিত্র, যিনি তাঁর অন্তরের অসীম করুণা দ্বারা যেমন বারেবারে মানুষকে সিক্ত করেছেন, তেমনই তাঁর অপার অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে অভিভূত, স্তম্ভিতও করেছেন।
বাবা লোকনাথের প্রকৃত জন্মস্থানের বিষয়ে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে দুটি মত প্রচলিত। এক পক্ষের দাবি বাবার জন্ম উত্তর ২৪ পরগনা জেলার চৌরাশি চাকলা গ্রাম যা বর্তমানে চাকলা ধাম নামে পরিচিত। কিন্তু এই দাবির বিরোধিতা করে বাবার এক ভক্ত নিত্যগোপাল সাহা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত রায় দেয় লোকনাথ বাবার জন্মস্থান কচুয়ায়। কিন্তু ভক্তি আর কবে আইনের কচকচি মেনেছে! কচুয়ার স্বপক্ষে দাবি জোরালো করল ১৯৭৮ সালে তৈরি লোকনাথ মিশন। কিন্তু ১৯৮০ সালে গঠিত লোকনাথ সেবাশ্রম সঙ্ঘ দাবি করল চাকলাই বাবার প্রকৃত জন্মস্থান। তাঁদের মতে ১৮৮৫ সালের ৮ এপ্রিল বাবা লোকনাথ নারায়ণগঞ্জের সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট এন টেলরের সামনে বলেছিলেন, ‘আমার বাড়ি মৌজা চাকলা, জেলা বারাসত।’ জন্মস্থান সংক্রান্ত এই বিতর্ক চলেছে এখনও। আর এই জন্মস্থান বিতর্কের হাত ধরে গুটিগুটি পায়ে এসে পড়ে লোকনাথ উৎসব পালনের দিন প্রসঙ্গ। লোকনাথ মিশনের দাবি জন্মাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে বাবার আবির্ভাব। তাই সেই দিনটিই উৎসব হিসেবে পালনীয়। কিন্তু লোকনাথ সঙ্ঘ বাবার তিরোধান দিবস ১৯ জ্যৈষ্ঠকেই প্রধান উৎসব হিসেবে প্রচার করে।
যাঁর জন্মস্থান নিয়ে এত বিতর্ক তাঁর জন্ম যে আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মত হতে পারেনা এ কথা বলাই বাহুল্য। এই ধরাধামে তাঁর আবির্ভাবের সময় থেকেই বাবা লোকনাথ তাঁর লীলা প্রদর্শন শুরু করেন। তিনি যে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই জীবনটা কাটিয়ে দিতে পৃথিবীতে আসবেননা তাঁর জন্মের আগেই তাঁর বাবা মা বুঝতে পেরেছিলেন। ভাবছেন তো সে আবার কিরকম ব্যাপার? দাঁড়ান, বিষয়টা তাহলে খুলেই বলি। লোকনাথের বাবার নাম রামকানাই ঘোষাল এবং মায়ের নাম কমলাদেবী। রামকানাই অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ছিলেন। তৎকালীন সময়ে প্রচলিত ছিল বংশের কেউ সন্ন্যাসী হলে তাঁর হাত ধরেই সমগ্র বংশ জন্মান্তরের কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করে। রামকানাইয়ের মনেও এমনই এক গভীর সুপ্ত বাসনা ছিল – তাঁর একটি ছেলে অন্তত সন্ন্যাসী হোক। একদিন রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন রামকানাই কোন এক জ্যোতির্ময় ব্যক্তি তাঁর অন্ধকার ঘরে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর উজ্জ্বল প্রভায় ঘরের সমস্ত আঁধার ঘুঁচে গেছে। সেই দীপ্ত পুরুষ রামকানাইয়ের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বললেন – “ আমি তোমার আকুল প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়েছি। খুব শীঘ্রই আমি তোমার পুত্র রূপে জন্ম নেব। “
এই ঘটনার কয়েকদিন পরের ঘটনা। বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গের পূজা অর্চনা করার সময় হঠাৎ কমলাদেবী দেখলেন শিবলিঙ্গের গা থেকে এক আলোক রশ্মি হঠাৎ বিচ্ছুরিত হতে শুরু করেছে। হতচকিত কমলাদেবী কিছু বোঝার আগেই সেই আলোকরশ্মি তাঁর দেহে প্রবেশ করল। ঘটনার আকস্মিকতায় অজ্ঞান হয়ে গেলেন কমলাদেবী। এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই গর্ভবতী হলেন কমলাদেবী। অবশেষে ১১৩৭ বঙ্গাব্দের (ইংরেজি ১৭৩০ সাল) জন্মাষ্টমীর দিন কমলা দেবীর কোল আলো করে জন্ম নিল এক অসামান্য সুন্দর পুত্র। এরপর দেখতে দেখতে ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে গ্রামের বেদজ্ঞ পন্ডিত ভগবান গাঙ্গুলীর কাছে রামকানাই গেলেন ছেলের অন্নপ্রাশন এবং নামকরণের দিন ঠিক করতে। অন্নপ্রাশনের দিন ছেলেকে দেখতে এসেই ভগবান গাঙ্গুলী বললেন – শিবের আরেক নাম লোকেশ। যে লোকেশের আশীর্বাদে এই পুত্রের জন্ম তাঁর নামেই ছেলের নাম রাখলাম – লোকনাথ ।
লোকনাথ এরপর যত বড় হয়েছেন ততই ব্যতিক্রমী এক বালক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছেন। বালক বয়স থেকেই নিজের লীলা খেলা একরকম শুরু করে দিয়েছিলেন বলা যায়। একবার গ্রীষ্মকালে গ্রামে প্রবল খরা দেখা দিল। বৃষ্টির লেশ মাত্র নেই। প্রবল তাপে ক্ষেত খামার সব পুড়ে যাচ্ছে। চাষিদের হাহাকারে আকাশ বাতাস মথিত। বালক লোকনাথ বাবাকে ডেকে বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গকে মহাস্নান করানোর কথা বললেন। শুধু বাবাকে বলেই ক্ষান্ত হলেন না লোকনাথ, গাঁ সুদ্ধু সবাইকে বলে এলেন তাঁদের বাড়ির শিবলিঙ্গকে মহাস্নান করালে একমাত্র তবেই বৃষ্টি হবে। গোটা গ্রাম এসে এবার লোকনাথের বাড়ির শিবলিঙ্গকে মহাস্নান করাতে শুরু করল। সকলকে তাজ্জব করে দিয়ে বিকেল হতেই মুষলধারে বৃষ্টি নামলো। গ্রামের মানুষ সেই প্রথম পরিচয় পেল লোকনাথের ঐশী ক্ষমতার দাপট কত।
উপনয়নের পর বাল্যবন্ধু বেণীমাধবকে সঙ্গে নিয়ে গুরু ভগবানের সাথে সেই যে গৃহত্যাগী হলেন লোকনাথ তারপর কত ক্রোশ পথ অতিক্রান্ত করলেন হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা তার কোন ইয়ত্তা নেই। গভীর জঙ্গলের মধ্যিখানে লোকনাথ তাঁর ঐশ্বরিক ক্ষমতা বলে নিজের পূর্বজন্মের স্বরূপ দেখতে পেয়ে যারপরনাই হতবাক হয়েছেন। গুরু ভগবানকে ভাব তন্ময় হয়ে শুনিয়েছেন তাঁর পূর্বজন্মের বৃত্তান্ত। বর্ধমানের বেড়ুগাঁ নামক গ্রামে সীতানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচয়ে তিনি জন্মেছিলেন। সেই সীতানাথের সাথে আজকের লোকনাথের কি আশ্চর্য মিল। সেই সীতানাথ আজকের লোকনাথের মতোই অবিবাহিত, স্বভাবলাজুক, মৃদুভাষী। জন কোলাহল থেকে সর্বদা দূরে থাকাতেই ছিল তাঁর অপার আনন্দ।
লোকনাথ যেন প্রবহমান বায়ু। আপন নিয়মে আপন গতিতে সে প্রবাহিত হয়। বায়ু তার প্রবাহ পথে খেয়াল রাখেনা কে ধনী কে গরীব, কে যশস্বী কে রিক্ত, কে হিন্দু কে মুসলমান, কে বর্ণশ্রেষ্ঠ কে অস্পৃশ্য। সকলের জন্যই সে প্রবাহিত হয় উদারভাবে।
হাঁটতে হাঁটতে লোকনাথ বাল্যবন্ধু বেণীমাধব ও আচার্য ভগবানের সাথে গভীর জঙ্গলে তপস্যা করতে এসেছেন। লোকনাথ গুরু এবং বেণীমাধবকে জঙ্গল মধ্যে এক পর্ণকুটিরে সেদিন রাতের মতো শুয়ে পড়তে বলে নিজে কুটিরের বাইরে শুয়ে পড়লেন। মাঝরাতে একদল ডাকাত সেই কুটিরে বিশ্রাম নিতে এসে গেরুয়া কাপড় পরা এক সন্ন্যাসীবেশী লোকনাথকে শুয়ে থাকতে দেখে বেশ খানিকটা হতচকিত হয়ে পড়ে। এরপর ডাকাতরা ঠিক করল লোকনাথকে খুন করবে যাতে তাঁদের পরিচয় গোপন থাকে। ডাকাতদলের সর্দার কিন্তু এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন। খুনের নেশায় উন্মত্ত ডাকাতদলের মধ্যে থেকে একজন লোকনাথকে তরোয়াল নিয়ে আঘাত করতে এলে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। সেই ডাকাত অবাক হয়ে দেখে তরোয়াল ধরা হাতটি সে নাড়াতেই পারছেনা কোনভাবে। অনেক চেষ্টা করেও যখন সে হাত নাড়াতে পারলো না, হঠাৎ দেখলো জঙ্গলের মধ্যে থেকে দুটো বাঘ বেরিয়ে এলো। বাঘ দেখেই বাকি ডাকাতরা পালাল কিন্তু ডাকাত সর্দার দাঁড়িয়ে রইল। অদ্ভুত ব্যাপার, বাঘ কিন্তু ডাকাত সর্দারকে কিছু না করেই আবার জঙ্গলের মধ্যেই মিলিয়ে গেল। এত কিছু যে ঘটেছে লোকনাথ কিন্তু জানতেই পারেননি। অবোধ শিশুর মতোই ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি।
বাবা লোকনাথের সমগ্র জীবনজুড়ে এমন কত যে অদ্ভুত ঘটনা আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। একটা ঘটনার কথা বলি তাহলে। লোকনাথ পদব্রজে ভ্রমণ করতে করতে ত্রিপুরা রাজ্যের দাউদকাঁদি গ্রামে পৌঁছে যান। ত্রিপুরা তখন বাংলাদেশের অন্তর্গত। সেখানে গাছ তলায় বসে ধ্যান করছেন তিনি এমন সময় এক ব্যক্তি হাজির হলেন তাঁর সামনে। হাতজোড় করে বললেন – “ বাবা আমার নাম ভেঙ্গু কর্মকার। ঢাকা জেলার নারায়ণগঞ্জ মহকুমার বারদী গ্রামে আমার বাসা। একটি মিথ্যে ফৌজদারি মামলায় আমি ফেঁসে গেছি। মামলার রায় আমার বিপক্ষে গেলে ছয় মাসের কারাদন্ড নিশ্চিত। আমাকে বাঁচান বাবা। লোকনাথ সব শুনে বললেন – তুই নিশ্চিন্তে যা। আজিই তুই খালাস হয়ে যাবি। আর ঠিক সেটাই হল। সত্যি সত্যি ভেঙ্গু কর্মকার বেকসুর খালাস পেয়ে গেলেন। ক্ষমতা জাহিরের জন্য নয়, মানুষের হিতার্থে আজীবন এভাবেই নিজের অলৌকিক ক্ষমতার প্রয়োগ করেছেন তিনি। বাবা লোকনাথের প্রতি ভেঙ্গু কর্মকারের শ্রদ্ধা ভক্তি শতগুণে বেড়ে গেল। লোকনাথের কাছে এসে কাতরভাবেআবেদন করে বললেন – বাবা একটি বার আপনি আমার গ্রাম বারদী চলুন। না গেলে আমি খুব দুঃখ পাব।“ সাধারণত লোকনাথ এই ধরণের প্রস্তাবে আপত্তি জানান। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ভেঙ্গু কর্মকারের এই প্রস্তাবে এককথায় রাজি হয়ে গেলেন তিনি। তিনি যে ত্রিকালদর্শী। বুঝতে পেরেছেন মানসচক্ষে আগামীদিনে এই বারদীই হবে তাঁর লীলাক্ষেত্র।
বারদীতে এসেই কিন্তু লোকনাথ বাবা মানুষের অন্তরে নিজের আসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। অনেক পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। একবার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখলেন কয়েকজন ব্রাহ্মণ পৈতে নিয়ে ভীষণ আলোচনায় মত্ত। বাবা কাছে গিয়ে বুঝলেন এই ব্রাহ্মণরা তাঁদের পৈতেতে জট ফেলে দিয়েছেন কোনভাবে। কিন্তু সেই জট এখন আর খুলতে পারছেন না। চালচুলোহীন চেহারার লোকনাথ বাবা কাছে গিয়ে পৈতের জট খুলে দেওয়ার আহবান জানালেন। ব্রাহ্মণরা তো তাঁর ঔদ্ধত্য দেখে অবাক। তাঁরা রেগে গিয়ে বাবাকে দূর হয়ে যেতে বললেনতাড়িয়ে দিতে গেলেন প্রায়। বাবা কিন্তু হাসিমুখে তাঁদের সাথে তর্ক না করে তাঁদের গোত্র বলতে বললেন। এরপর বাবা গায়ত্রী জপ করে দুদিক দিয়ে জোর তন্ মারতেই সব জট খুলে গেল। সাধুরা বুঝলেন ইনি কোনো মহাপুরুষ হবেন এবংমহাযোগী হবেন। এই ঘটনার পর থেকে বারদী গ্রামে লোকমুখে বাবার প্রচার শুরু হয়ে গেল।
বারদীর মেঘনা নদী তীরে শ্মশানভূমিতেই লোকনাথ বাবার আশ্রম। এই আশ্রম থেকেই আপামর মানুষের ওপর বাবার কৃপাদৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। বাবার এই কৃপা থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পোকা মাকড় থেকে বৃহদাকার পশু কেউই বাদ যায়না। কাউকেই তিনি বঞ্চিত করেননা তাঁর কৃপাদৃষ্টি থেকে। এভাবে অল্প দিনের মধ্যেই বাবার এই বারদীর আশ্রম তীর্থভূমিতে পরিণত হল।
এই বারদীতে থাকাকালীন সময়েই একদিন ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুর আশ্রমে এসে বাবার একটি ছবি তোলার ইচ্ছে প্রকাশ করেলেন। বাবা জানতে চাইলেন তাঁর ছবি তুলে কার কি লাভ হবে । ভাওয়াল রাজ বলেন যে যাঁরা তাঁর আশ্রমে আসতে পারছেনা তাঁরা বাবার ছবি দেখে অন্তত বাবাকে পুজো করতে পারবে। শেষ পর্যন্ত বাবা অনুমতি দিয়েছিলেন। রাজা বাবার একটি মাত্র ছবি তোলেন। লোকনাথ বাবার প্রতিকৃতি বলতে আমরা সেই ছবিই বুঝি।
মানুষের কল্যানে জগতের হিতার্থে নিজেকে বিলিয়ে দিতে দিতে বাবা বুঝতে পারেন এবার তাঁর যাওয়ার সময় এসে গেছে। তিনি তাঁর ভক্তদের ডেকে বললেন তাঁর ইচ্ছার কথা। সঙ্গে তারিখও জানিয়ে দেন কোন দিন তিনি দেহত্যাগ করতে ইচ্ছুক। ১৯ জ্যৈষ্ঠ তিনি তাঁর দেহত্যাগের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই খবর চাউর হতেই হাজারে হাজারে মানুষ তাঁদের আশা ভরসার একমাত্র আশ্রয়স্থল বাবা লোকনাথের স্বর্গধামে যাত্রা দেখতে আশ্রমে ভিড় জমালেন।
অবশেষে ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৯ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯০ সালের ১ জুন) রবিবার শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে হাজার হাজার ভক্তের সামনে যোগাসনে বসে থাকা অবস্থাতেই বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে বাবা লোকনাথ ইহলোকের মায়া কাটিয়ে অমৃতলোকে যাত্রা করলেন। তাঁর নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেলেও তাঁর সেই অমর উক্তির মধ্যে দিয়েই তিনি আজও বিরাজমান রয়ে গেলেন আমাদের মধ্যে – ‘রনে,বনে,জলে,জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে আমাকে স্মরণ করিও,আমি রক্ষা করিব। ‘
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- পরমপুরুষ শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, সুধাংশুরঞ্জন ঘোষ, পূর্ণ প্রকাশন,জ্যৈষ্ঠ, ১৩৬৩ সন
- https://www.anandabazar.com/
- https://www.sanatanpandit.com/
- https://www.aajbangla.in/


আপনার মতামত জানান