প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট কিছু দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণকরা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। তেমনই বিশ্বব্যাপী পালনীয় সমস্ত দিবসগুলির মধ্যে একটি হল ‘বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস’ (World Rabies Day)।
প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হয়ে থাকে৷ এই দিবসটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের মানুষকে জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে এক জোট করার কথা বলা হয়৷
গ্লোবাল এলায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোলের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবার এই দিবসটি উদযাপনের করা হয়েছিল৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা-র অ্যালায়েন্স ফর রেবিস কন্ট্রোল এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনস একসাথে দিনটি পালন করে থাকে। বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জলাতঙ্কের টিকা আবিষ্কার করেছিলেন যার মাধ্যমে রোগটি শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। লুই পাস্তুরের মৃত্যু দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। ২০০৯ সালে অর্থাৎ তৃতীয় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে একশোটিরও বেশি দেশে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক এই প্রচারাভিযান প্রসার পেয়েছিল৷ বিশ্বব্যাপী প্রায় একশো মিলিয়ন মানুষ জলাতঙ্ক সম্পর্কে অবগত হন৷
রেবিস’ বা ‘জলাতঙ্ক’ ভাইরাস ঘটিত একটি রোগ যা সাধারণত কুকুর, শেয়াল, বাদুড় প্রভৃতি প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। এই রোগ এক প্রাণী থেকে আরেক প্রাণীর দেহে তার লালা বা রক্তের দ্বারা স্থানান্তরিত হতে পারে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের কুকুর জাতীয় প্রাণীদের মধ্যেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। প্রতিবছর বিশ্বে যত মানুষ কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার ৯৯ শতাংশই এই রোগের কারণে হয়ে থাকে৷
প্রতিবছর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে বেশ কিছু অনুষ্ঠান পালন করা হয়। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে বিশ্বব্যাপী জলাতঙ্ক রোগের বর্তমান অবস্থা বিষয়ে পর্যালোচনা এবং এই পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা ও সাধারণ জনগণ, চিকিৎসক এবং সরকারী-বেসরকারী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা। এছাড়াও এই রোগ সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে এই দিনে বিশেষ শোভাযাত্রা, বিনামূল্যে টীকা প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়।
প্রত্যেক বছর একটি নির্দিষ্ট থিম বা প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে এই দিনটি পালিত হয়ে থাকে। ২০১৮ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – জলাতঙ্ক: বার্তাটি শেয়ার করুন (Rabies: Share the message)। ২০১৯ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – জলাতঙ্ক: নির্মূল করার জন্য টিকা দিন (Rabies: Vaccinate to eliminate)। ২০২০ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – জলাতঙ্ক শেষ করতে সহযোগিতা করুন এবং টিকা দিন (End rabies: collaborate and vaccinate)। ২০২১ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – জলাতঙ্ক: তথ্য, ভয় নয়” ( Rabies: Facts, not Fear )। ২০২২ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – এক স্বাস্থ্য, শূন্য মৃত্যু” ( One Health, Zero Death )। ২০২৩ সালের প্রতিপাদ্য ছিল – সকলের জন্য ১, সবার জন্য একটি স্বাস্থ্য” ( All for 1, One Health for all )। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য হল – জলাতঙ্কের সীমানা ভেঙে ফেলা (Breaking Rabies Boundaries)।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান