ইতিহাস

মেসি সম্পর্কে কিছু তথ্য

মেসি সম্পর্কে কম জানা এবং অজানা দশটি তথ্য

  • মেসি ইতালিয়ান!
    মেসিকে নিয়ে গর্ব করতে পারে ইতালি। হতাশাও প্রকাশ করতে পারে ইতালি। গর্ব, কারণ মেসির দেহে আছে ইতালিয়ান রক্ত। হতাশা, কারণ মেসি ইতালির হয়ে তো আর খেলেন না! মেসির পূর্বপুরুষেরা ইতালির আনকোনার অধিবাসী ছিলেন। ১৮৮৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে অ্যাঞ্জেলো মেসি চলে আসেন আর্জেন্টিনায়।

 

  • গ্রান্দোলিতে শুরু
    মেসির প্রথম ক্লাব হিসেবে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের কথা লেখা হয়। সেটা একদিক দিয়ে ঠিকই আছে। এখানে যুবদলে খেলেই পরে বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘খামার বাড়ি’তে যাত্রা। তবে একেবারে নির্ভুল তথ্য চাইলে মেসির প্রথম ক্লাবটির নাম কিন্তু গ্রান্দোলি। রোজারিওর এই অপেশাদার ছোট্ট ক্লাবটি ছিল আসলে মেসির বাবা হোর্হের। সেখানেই পাঁচ বছর বয়সে শুরু করেছিলেন আজকের এই মহা তারকাটি।

 

  • কষ্টের শৈশব
    শখের ফুটবল কোচ হলেও এ দিয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব ছিল না হোর্হের, সম্ভব ছিল না পরিবারের চাওয়া পূরণ করা। আর তাই কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়েছে হোর্হেকে। মেসির মা সেলিয়াও খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করেছেন। ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের ঘাটতির অসুখ ধরা পড়ে। মাসে ৯০০ডলারের ব্যয়বহুল এই চিকিত্সার ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল না মেসির পরিবারের পক্ষে।

 

  • ন্যাপকিনেই ইতিহাস!
    স্পেনের লেইদায় মেসির কিছু আত্মীয়স্বজন থাকতেন। তাঁদের মাধ্যমেই বালক মেসির অবিশ্বাস্য প্রতিভার খবর পান বার্সার তখনকার ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাস। অবশেষে মেসিকে ট্রায়ালে দেখতে রাজি হন। মেসিকে বার্সা নেবেই—এমন কোনো প্রস্তুতি সম্ভবত ছিল না রেক্সাসের। কারণ, বালক মেসির ফুটবল-ঝলক দেখার পর তাকে সঙ্গে সঙ্গে সই করানোর জন্য কোনো দলিল-দস্তাবেজ তো দূরের কথা, কোনো কাগজই ছিল না। কিন্তু কাগজের জন্য অপেক্ষা করতে আর তর সইছিল না রেক্সাসের। সঙ্গেথাকা ন্যাপকিনেই মেসির বাবার সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেন তিনি! মেসির চিকিত্সার সমস্ত ব্যয়ভারও গ্রহণ করে বার্সা।

 

 

  • ভালোবাসার নাম আর্জেন্টিনা
    মেসির নামেরপাশে এত এত প্রাপ্তি। চার-চারবারের ফিফা বর্ষসেরা হয়েছেন। কিন্তু তার পরও তাঁর আক্ষেপের শেষ নেই। আরধ্য বিশ্বকাপ যে জেতেননি। মেসির নামের পাশে কিন্তু বিশ্বকাপ থাকতেই পারত। সেটি তিনি জিতে যেতেন ২০১০ বিশ্বকাপেই! যদি স্পেনের জাতীয় দলের প্রস্তাবটিতে ‘হ্যাঁ’ বলে দিতেন। ২০০০ সালে বার্সেলোনায় চলে আসেন মেসি।সিনিয়র দলে অভিষেক ২০০৪ সালে। এরই মধ্যে মেসি প্রস্তাব পেয়েছিলেন স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য। কিন্তু মেসি ঠিক করেন স্পেন নয়, তিনি খেলবেন নাড়িপোঁতা আর্জেন্টিনার হয়েই। মেসি অবশ্য পরে স্পেনের নাগরিকত্বও নিয়েছেন। ২০০৫ সাল থেকে তাঁর দুটো পাসপোর্ট।

 

  • আর্জেন্টিনায় জনপ্রিয় নন!
    সেদিনও এক সাক্ষাত্কারে মেসি স্বীকার করেছেন, বার্সেলোনা কিংবা সারা বিশ্বে তাঁর যতটা জনপ্রিয়তা, সেই তুলনায় নিজের দেশ আর্জেন্টিনায় তাঁকে নিয়ে ততটা মাতামাতি নেই। এর পেছনে বড় কারণ হলো, মেসি শৈশবেই চলে গিয়েছিলেন স্পেনে। আর্জেন্টিনার ফুটবলপাগল মানুষদের ভালোবাসা কুড়াতে হলে বোকা জুনিয়র্স কিংবা রিভার প্লেটের মতো ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাতে হয়। যেটি মেসি করেননি। ‘বার্সার মেসি আর্জেন্টিনার মেসি হয়ে উঠতে পারেন না’—এটিও তাঁর নিজ দেশে জনপ্রিয়তার পথে বড় বাধা। তবে আশার কথা, জাতীয় দলের হয়েও ফুল ফোটাতে শুরু করেছেন মেসি। নিজ দেশেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে তাঁর। আর একটা বিশ্বকাপ এনে দিতে পারলে তো কথাই নেই!’

 

  • দাতা মেসি
    রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করা সেই এল ক্লাসিকোতে দুটো গোল করেছিলেন মেসি। দুটো গোলের পরই জার্সির নিচের টি-শার্টটি উঁচিয়ে ধরে উদযাপন করেছিলেন। যেখানে লেখা ছিল, ‘ফ্র্যাজাইল এক্স সিনড্রোম’। অটিজমের জন্যদায়ী এই অসুখের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মেসি আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকেন। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গঠন করেছেন লিও মেসি ফাউন্ডেশন। আয়ের একটা বড় অংশ মেসি দান করেন এ সব দাতব্য কাজে।

কম খরচে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন – contact@sobbanglay.com এ।


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

নেতাজি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে সববাংলায় এর শ্রদ্ধার্ঘ্য



এখানে ক্লিক করে দেখুন ইউটিউব ভিডিও

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন