সববাংলায়

মাদারবোর্ড ।। লজিকবোর্ড

ডেস্কটপ কম্পিউটারের কেস খুলে দেখলে সেখানে একটা বোর্ড দেখতে পাওয়া যাবে, যেটা কম্পিউটারের সকল আলাদা হার্ডওয়্যারগুলোকে একত্র করে রেখেছে। যেমন সিপিইউ, মেমোরি, হার্ড ড্রাইভ, মাউস বা কীবোর্ড  সরাসরি বা তার দিয়ে মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত থাকে।  তবে শুধু কম্পিউটার নয়, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা আরো ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলোতেও মাদারবোর্ড থাকে। মাদারবোর্ড হল কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা অন্যান্য এরকম ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রের প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সাহায্যে সেই যন্ত্রের সকল হার্ডওয়্যারগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে। মাদারবোর্ডকে কম্পিউটারের মেরুদণ্ডও বলা যায়, আবার কম্পিউটারের মাদারও বলা যায়।  কখনও কখনও একে মেইনবোর্ড, বেসবোর্ড, প্ল্যানার বোর্ড বা সিস্টেম বোর্ড -ও বলা হয়। তবে ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে একে লজিকবোর্ড বলা হয়।

মাদারবোর্ড হল একরকমের প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড। মাদারবোর্ড সিস্টেমের অন্যান্য হার্ডওয়্যারগুলোর মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ সরবরাহ করে যাতে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে। ডেক্সটপ কম্পিউটারের মাদারবোর্ড মডেল এবং দাম অনুসারে আলাদা আলাদা আকারের হয়। যে কোম্পানির মাদারবোর্ড কেনা হচ্ছে, সে কোম্পানি থেকে পরিষ্কার গাইড লাইন দেওয়াই থাকে, সেই মাদারবোর্ড কোন কোন টাইপের আলাদা  হার্ডওয়্যারগুলোকে সমর্থন করতে পারবে। মাদারবোর্ড প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আসুস, ইন্টেল, গিগাবাইট, ইসিএস ইত্যাদি।

ডেস্কটপ কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে বিভিন্ন হার্ডওয়্যারগুলো লাগানোর জন্য বিভিন্ন স্লট, সকেট বা জায়গা রয়েছে। যেমন প্রসেসর লাগানোর জন্য সিপিইউ সকেট, র‍্যাম লাগানোর জন্য মেমোরি স্লট, হার্ড ডিস্ক ড্রাইভের জন্য আইডিই বা সাটা কানেক্টর, এসএমপিএস থেকে ইলেক্ট্রিসিটি সরবরাহের জন্য পাওয়ার কানেক্টর  ইত্যাদি। এই যে ডেস্কটপ কম্পিউটার কেনার সময় আমরা বলি, অ্যাসেম্বেল করাতে হবে, সেটা হল এই সমস্ত হার্ডওয়্যারগুলোকে মাদারবোর্ডের সঠিক জায়গায় বসানো। আবার পরবর্তীকালে যদি নতুন উচ্চমানের হার্ডওয়্যার (যেমন ২ জিবি র‍্যামের জায়গায় ৪ জিবি র‍্যাম লাগানো) লাগানোর প্রয়োজন হয়, মানে আপগ্রেডেশনের দরকার হয়, সেক্ষেত্রে নতুন হার্ডওয়্যার কিনে মাদারবোর্ডের ঠিক জায়গায় লাগিয়ে দিলেই কম্পিউটার আপগ্রেড হয়ে গেল।

তবে ল্যাপটপের ক্ষেত্রে আপগ্রেড করার সুযোগ খুব কম। কেননা  সিপিইউ-এর মত কিছু উপাদান ল্যাপটপের মাদারবোর্ডে একেবারে ঝালিয়ে যুক্ত করা থাকে। এর সকেট এবং স্লটগুলোর জন্যও খুব কম জায়গা রয়েছে। তাই চাইলেই কোন নতুন হার্ডওয়্যার এর মাদারবোর্ডে যুক্ত করা যায় না। তবে র‍্যাম বা অপটিক্যাল ড্রাইভ বদলানোই যায়। এবং সমস্তটাই নির্ভর করে আমরা কি ল্যাপটপ কিনছি, তার কনফিগারেশানের ওপর।

স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে মাদারবোর্ডে কোনও নতুন হার্ডওয়্যার কোনভাবেই যোগ করা যায় না, কারণ স্মার্টফোনের মাদারবোর্ড ডেস্কটপের বা ল্যাপটপের মাদারবোর্ডের তুলনায় খুবই ছোট। তাছাড়া এতে এতোগুলো জিনিস থাকেও না। এতে যা থাকে সব ঝালাই করে লাগানো থাকে। নতুন করে কোনোকিছু বাইরে থেকে লাগানোর কোন সম্ভাবনাই এখানে নেই।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading