সব

রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জী

রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জী (NRC) নিয়ে আসাম তথা সারা ভারতে ২০১৮ এর জুলাই মাসের শেষ দিকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু NRC নিয়ে তেমন ধারণা অনেকেরই নেই।

ভারতীয় নাগরিকদের নামের তালিকাই হল ভারতীয় নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় পঞ্জী বা রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জী (National Register of Citizens of India বা সংক্ষেপে NRC)। ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দের আদম সুমারীর উপর নির্ভর করে ১৯৫১ খ্রীষ্টাব্দে প্রথম এই রাষ্ট্রীয় পঞ্জী বা NRC বানানো হয়। এই NRC তে দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সমস্ত নাগরিকের তথ্য আছে এবং তাতে নিরন্তর তথ্য নবায়িত হতে থাকে।

তবে আসামে ভারতীয় নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় পঞ্জী তৈরি ও উন্নীতকরণের জন্য নাগরিকত্ব আইন-১৯৫৫ ও নাগরিকত্ব (নাগরিক পঞ্জীকরণ ও রাষ্ট্রীয় পরিচয় পত্রের জারিকরণ) নিয়মাবলী-২০০৩ তে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল যার ফলে আসামে বসবাস করা ভারতীয় নাগরিক ও অন্যান্য রাজ্যে বসবাস করা ভারতীয় নাগরিকদের সংজ্ঞায় প্রভেদ আছে।

আসাম একর্ড ও আসামের ছাত্র আন্দোলনঃ

১৯৭৯ খ্রীষ্টাব্দে আসু (All Assam Student Union বা ASSU) আসাম গণ সংগ্রাম পরিষদ (All Assam Gan SangramParishad বা AAGSP) আসামে বসবাসকারী অবৈধ শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। ৬ বছরের আন্দোলনের পর ১৯৮৫ খ্রীষ্টাব্দে ভারত সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আসাম একর্ড (Assam Accord) স্বাক্ষরিত হয়। এই একর্ড অনুযায়ী ১৯৫১ সালের রাষ্ট্রপঞ্জী ও ১৯৭১ সালের ২৪ শে মার্চ মধ্যরাত্রি অব্দি নিবন্ধীকৃত বিদেশি শরণার্থি বা তাদের আত্মীয়দের ভারতীয় ও আসামের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে। ২৪ শে মার্চ কে শেষ দিন হিসেবে নেওয়া হয় কারণ ২৫শে মার্চ ভারত সরকারি ভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

 

আসামে NRC নবীকরণ ও খসড়া প্রকাশঃ

আসামে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর ২০১৫ খ্রীষ্টাব্দ থেকে NRC নবীকরণের কাজ শুরু হয়। সমস্ত আসাম বসবাসকারীদের বাড়ি বাড়ি ফর্ম দেওয়া হয় এবং নিকটবর্তী NRC কেন্দ্রে তাদের উপযুক্ত প্রমাণ পত্র সহ পারিবারিক সদস্যদের হিসেব দাখিল করতে হয়। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে জমা পড়া আবেদনপত্র বিচার করে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দের ৩০ জুলাই রাষ্ট্রীয় পঞ্জীর খসড়া প্রকাশ করা হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লক্ষ আসামবাসীর নাম প্রাথমিক খসড়ায় ওঠেনি। যাদের নাম নেই তারা পুনরায় আবেদন করার পর সব কিছু খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

 

সমস্যা ঃ

আসামের রাষ্ট্রীয় পঞ্জী নবীকরণের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সারা ভারতে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। পুনর্বিবেচনার পর ৪০ লক্ষ থেকে সংখ্যাটা কিছু কমে আসার সম্ভবনা কিন্তু যাদের নাম থাকবে না তাদের সঙ্গে কি করা হবে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন নীতি নির্ধারিত নেই – বস্তুত তাঁরা কোন দেশেরই নাগরিক থাকবেন না।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!