বিজ্ঞান

সী স্যাফায়ার

সমুদ্রের গভীরে এক প্রাণী যে কিনা মুহূর্তে হয়ে যায় অদৃশ্য, আবার পরের মুহূর্তে ফিরে আসে চোখের সামনে, তার নাম সী স্যাফায়ার (sea sapphire)।

এটি আসলে একটি ক্রাস্টেসিয়ান গোত্রের প্রাণী। সহজ কথায় কবচী গোত্রের প্রাণী, যেমন চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি হয়। সমুদ্রের যে অপরিসীম গভীরতায় সূর্যের আলোও প্রবেশ করতে পারেনা, শুধু পৌঁছয় অতিসামান্য সূক্ষ্ম রশ্মি, সেখানে বাস এই মাছেদের।  অতিসামান্য সূক্ষ্ম রশ্মি কাজে লাগিয়েই এরা জীবনধারন করে। মেরিন বয়োলজিস্টদের গবেষণা জানাচ্ছে, এড়া সূক্ষ্ম আলোর বিচ্ছুরণে সক্ষম। সী স্যাফায়ার (sea sapphire)-দের  ত্বকের ভিতর লুকিয়ে আছে মাইক্রোস্কোপিক ষড়ভূজাক্রিতি কোষের সমষ্টি। এই কোষ ক্ষীণ আলোকেও প্রতিফলিত করতে সক্ষম।

সূর্যের সূক্ষ্ম রশ্মি ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে এদের স্বচ্ছ দেহ স্পর্শ করলেই এরা অদৃশ্য হয়ে যায়। কারণ সমুদ্রের নীলাভ পরিবেশের সঙ্গে এদের ত্বক থেকে বিচ্ছুরিত আলট্রাভায়লেট রশ্মি (UV Ray) মিশে এদের অদৃশ্য করে দেয়। সী স্যাফায়ারদের জীবনচক্রে সমুদ্রের অনন্ত গভীর অন্ধকারে আলোর এই খেলা তাদের জীবন সঙ্গী নির্ধারণেও সাহায্য করে। আলোর তীব্রতাই সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। অপরদিকে বিপদসঙ্কুল সমুদ্রে ক্ষুধার্তশিকারি মাছেরও অভাব নেই। দুর্ভাগ্যবশত কখনও সী স্যাফায়ারদের শিকারি মাছের নাগালে যদি পড়ে , ত্বকের আলোর ম্যাজিক এদের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীদের পরীক্ষায় উঠে এসেছে এদের দেহে মৌমাছির বাসার মতো ষড়ভূজাকৃত সাইটপ্লাইজমের অধিক সংখ্যার জন্যই এমন হ্যালুসিনেশন সম্ভব হয়। আকারে সী স্যাফায়ার (sea sapphire)-রা খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির হয়ে থাকে। এই  প্রজাতির আধিপত্য লক্ষ্য করা যায় আফ্রিকা, রোড আইল্যান্ড আর ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রতে। জাপানেও এর কিছু প্রজাতি পাওয়া যায়। জাপানি মাছুরেদের কাছে এরা ‘তামা-মিজু’ (Tama-Mizu) নামে পরিচিত। যার অর্থ চকচকে জল। এছাড়া এদের ওসেন জেম (Ocean Gem) নামেও ডাকা হয়।

সমুদ্রের রহস্যময়ী গভীর আঁধারে ইন্দ্রজালে পারদর্শী এই সী স্যাফায়াররা প্রকৃত অর্থেই রহস্যাবৃত। বিরল এই বায়লুমিনেসেন্ট (bioluminescent) প্রজাতির এখনও নানা আচরণ, গতিবিধি রহস্যের চাদরে আবৃত হয়েই রয়েছে। অপ্রবেশ্য সমুদ্রের অন্দরকে এভাবে আলোর রোশনাইতে ভরিয়ে তুলেছে এরা। বিজ্ঞানের দৃপ্ত দৃষ্টি যতই সমুদ্র গর্ভে নিহিত হচ্ছে ততই প্রাণের স্পন্দন আর নতুন নতুন প্রজাতির উদ্ভবের সাক্ষী হয়ে থাকছেন সমুদ্র বিজ্ঞানীরা।

তথ্যসূত্র


  1. https://www.youtube.com/watch?v=26kus22RaTo
  2. https://www.youtube.com/watch?v=7IACc8gnct8
  3. https://www.youtube.com/watch?v=oRR1y5RpV5g
  4. https://blogs.scientificamerican.com/artful-amoeba/how-do-sea-sapphires-become-invisible/
  5. http://www.deepseanews.com/2014/02/the-most-beautiful-animal-youve-never-seen/
  6. http://www.sciencemag.org/news/2015/07/video-solving-mystery-invisible-sea-sapphire
  7. https://news.nationalgeographic.com/2017/03/sea-sapphires-squid-glowing-turtles/
  8. http://www.thehindu.com/sci-tech/sea-sapphire-the-most-beautiful-animal-youve-never-seen/article5736640.ece
  9. https://www.acs.org/content/acs/en/pressroom/presspacs/2015/acs-presspac-july-15-2015/the-secret-to-the-sea-sapphires-colors-and-invisibility-video.html
  10. https://www.newscientist.com/article/dn27920-beautiful-sea-sapphire-can-make-itself-invisible-in-an-instant/
  11. https://www.sciencealert.com/watch-this-tiny-sea-sapphire-is-a-beautiful-mystery

 
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!