সারা বিশ্বের চিত্রকলার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে হলে যেসব শিল্পীর নাম উপেক্ষা করা যায় না, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলে ইতালীয় চিত্রশিল্পী টিনটোরেটো (Tintoretto)। তাঁর ছবির মধ্যে বিভিন্ন নাটকীয় মুহূর্তের চিত্র ধরা পড়ে এবং তাঁর চরিত্ররা সাধারণত পেশিবহুল। ধর্মীয় বিষয়বস্তু তাঁর চিত্রশিল্পের একটি প্রধান উপকরণ ছিল। তাঁর ছবির একটি জনপ্রিয় বিষয় প্রভু যিশু৷ সেই যিশুকেই বিচিত্রভাবে নানারকম মুহূর্তে, কখনও শিষ্য পরিবৃত অবস্থায়, কখনও বা লাস্ট সাপারে দেখা যায় তাঁর ক্যানভাসে। কেবল ক্যানভাস নয়, প্রচুর ভবনের দেওয়াল ও ছাদেও টিনটোরেটোর চিত্রকর্ম অম্লান হয়ে রয়েছে। ‘স্কুল অব ভেনিস’ ঘরানার এই শিল্পী ম্যানারিজমের অন্যতম একজন প্রবক্তা এবং ইতালীয় রেনেসাঁর একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর অত্যন্ত শক্তিশালী শিল্পকর্মের জন্য তাঁকে ‘ইল ফুরিওসো’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
১৫১৮ সালে ইতালির ভেনিস শহরে টিনটোরেটোর জন্ম হয়। তাঁর জন্ম তারিখ নিয়ে অবশ্য মতভেদ রয়েছে, তবে মনে করা হয় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে অথবা অক্টোবরে তাঁর জন্ম হয়েছিল। জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিল জ্যাকোপো রোবুস্টি। তাঁর পিতা বাতিস্তা (Battista) পেশায় ছিলেন একজন ডায়ার বা টিনটোর অর্থাৎ রজক, যিনি কাপড়ে রঙ করেন। সেই টিনটোর-এর ছেলে বলেই জ্যাকোপো রোবুস্টি টিনটোরেটো নামে পরিচিত হন, যার অর্থ ডায়ারের ছেলে। একটি সূত্র অনুযায়ী টিনটোরেটোর ডোমেনিকো নামে এক ভাই ছিল, কিন্তু ১৭ শতকের একটি বিবরণ জানায় যে, টিনটোরেটোর ভাইবোনের সংখ্যা নাকি ২২।
টিনটোরেটোর শৈশব জীবন বা শিল্পের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে খুব কমই তথ্য মেলে। প্রাথমিকভাবে যে-দুজন টিনটোরেটোর জীবনী রচনা করেছিলেন তাঁরা হলেন কার্লো রিডলফি এবং মার্কো বোসচিনি।
তাঁদের মতে টিনটোরেটোর প্রাথমিক শিল্পশিক্ষার সূচনা হয়েছিল টিটিয়ানের স্টুডিওতে। টিনটোরেটোর বাবা তাঁকে দেওয়ালে রঙ করতে দেখে এবং স্কেচ করতে দেখেই টিটিয়ানের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও এই টিটিয়ান নাকি মাত্র দশ দিন পরেই খুবই ক্রুদ্ধ হয়ে টিনটোরেটোকে স্টুডিও থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। এই বিতাড়নের কারণ উক্ত দুজন জীবনীকার দুরকম জানিয়েছেন। কার্লো রিডলফির মতে, টিনটোরেটোর মধ্যে প্রথম থেকে প্রচুর সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, সেইজন্য কেবল ঈর্ষা থেকেই টিটিয়ান তাড়িয়ে দিয়েছিলেন টিনটোরেটোকে। রিডলফি জানিয়েছিলেন যে, টিটিয়ানের থেকে চিত্রাঙ্কনের কৌশলও অনেক আলাদা ছিল টিনটোরেটোর। এই ভিন্নতা থেকেও বিবাদ জন্ম নিয়েছিল। অন্যদিকে মার্কো বোসচিনি জানান যে, ব্যক্তিত্বের সংঘর্ষের কারণেই টিটিয়ান ক্রুদ্ধ হয়ে বিতাড়িত করেছিলেন তাঁর ছাত্রকে। এই সময় থেকে, টিনটোরেটো ক্রমাগত টিটিয়ানের কাজের অকুন্ঠ প্রশংসা করা সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্বপূর্ণ সম্পর্কই ছিল। টিটিয়ান এবং তাঁর সমর্থকরা এমনকি টিনটোরেটোকে অপমান পর্যন্ত করেছিলেন।
জানা যায় যে, টিটিয়ানের স্টুডিও থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর টিনটোরেটো আর কখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রশিক্ষণের চেষ্টাও করেননি। নিজে নিজেই কঠোর অধ্যয়নের মাধ্যমে স্বশিক্ষিত হয়েছিলেন তিনি। মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর ডন, ডে, ডাস্ক ও নাইটের মডেলগুলি দেখে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং মোম ও কাদামাটির মডেলিং-এ একজন বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বিভিন্ন কোণ থেকে টিনটোরেটো সেই মডেলগুলি অঙ্কন করতেন। এই মডেল নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা পরবর্তীতে তাঁর ছবির ওপরেও প্রভাব ফেলেছিল। চিত্রকর্মে আলো-ছায়ার নাটকীয়তাকে ধরবার জন্য মডেল তৈরি করে বিভিন্ন দিক থেকে আলো ফেলে আলো-ছায়ার ব্যাপারটি অধ্যয়ন করতেন তিনি৷ তাঁর চিত্রকর্মে আলো ও রঙের ব্যবহার প্রচলিত ভেনিশিয়ান ঘরানার চিত্রকর্মকে স্মরণ করায়। রিডলফির মতে, টিনটোরেটো বিভিন্ন কারিগর যারা পৌরাণিক দৃশ্যের ছবি দিয়ে আসবাবপত্র সজ্জিত করত, তাদের সঙ্গে কাজ করেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন এবং মৃতদেহ ছিন্ন করে শারীরস্থানও অধ্যয়ন করেছিলেন। বিভিন্নরকম ব্যাস-রিলিফ (যেসব ভাস্কর্যের প্রেক্ষাপট বা ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু থাকে না), প্রিন্ট সংগ্রহ করতেন টিনটোরেটো এবং সেগুলির সাহায্যে অনুশীলন করতেন।
টিনটোরেটো তাঁর চার বছরের জুনিয়র তরুণ চিত্রশিল্পী আন্দ্রেয়া শিয়াভোনের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ছিলেন। সেই শিয়াভোনকে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই দেওয়াল চিত্র অঙ্কনে সাহায্য করেছিলেন টিনটোরেটো। পরেও বহুকাজ তিনি বিনা পারিশ্রমিকেই করেছিলেন, কিন্তু এই ধরনের কাজগুলির দ্বারাই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি এবং কিছু কাজের দায়িত্ব পেতে থাকেন। টিনটোরেটোর প্রথমদিকের দুটো ম্যুরাল পেন্টিং, যেদুটি অন্যগুলির মতোই বিনা পারিশ্রমিকে করা হয়েছিল, মনে করা হয় সেই দুটি হল, ‘বেলশাজার’স ফিস্ট’ এবং ‘ক্যাভালরি ফাইট’। এই দুটি কাজ অবশ্য অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রথমদিকের দৃষ্টি আকর্ষণকারী একটি উল্লেখযোগ্য কাজ ছিল তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের একত্র প্রতিকৃতি, এই ছবিটিও অবশ্য হারিয়ে গিয়েছে। তবে টিনটোরেটোর প্রথমদিককার ছবিগুলির মধ্যে একটি, যা এখনও বিদ্যমান, সেটি ভেনিসের কারমাইনের চার্চে দেখা যায়। ছবিটির নাম ‘প্রেজেন্টেশন অব জিসাস ইন দ্য টেম্পল’ নামে পরিচিত। আনুমানিক ১৫৪২ সাল নাগাদ এটি অঙ্কিত হয়েছিল। অন্যদিকে এস. বেনেদেত্তোতে দেখা যায় দুটি ছবি, যথা, ‘অ্যানানসিয়েশন’ এবং ‘ক্রাইস্ট উইদ দ্য ওম্যান অব সামারিয়া’।
‘স্কুওলা ডেলা ট্রিনিটা’র জন্য টিনটোরেটো জেনেসিস (হিব্রু বাইবেল এবং খ্রিস্টান ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রথম বই) থেকে চারটি বিষয় নিয়ে সেগুলি অবলম্বনে ছবি এঁকেছিলেন। তার মধ্যে দুটি ছবি, ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ এবং ‘ডেথ অব অ্যাবেল’ বর্তমানে ভেনিসের গ্যালারি ডেল’অ্যাকাডেমিয়ায় রয়েছে। এই কাজদুটিই ইঙ্গিত করে যে, টিনটোরেটো সেই সময়ের একজন পরিপূর্ণ চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াও যেসব শিল্পী সর্বোচ্চ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাঁদের একজন ছিলেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত ‘এম্বার্কাশন অব সেন্ট হেলেনা ইন দ্য হোলি ল্যান্ড’-এর মতো শিল্পকলার জন্য শিয়াভোনেকে কৃতিত্ব দেওয়া হত। তবে নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই শিল্পকর্ম টিনটোরেটোর কৃতিত্ব বলে মান্যতা দেওয়া হয়।
১৫৪৮ সালে স্কাওলা ডি এস. মার্কো ভবনে চারটি ছবি আঁকার দায়িত্ব পেয়েছিলেন টিনটোরেটো। সেখানেই একটি বৃহৎ চিত্র অঙ্কন করেছিলেন, যেটি, ‘মিরাকেল অব দ্য স্লেভ’ নামে পরিচিত। এই ছবি আঁকার দায়িত্বটি টিনটোরেটোর কাছে, নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবার একটি সুবর্ণ সুযোগ দিয়েছিল, সেই কারণেই অত্যন্ত যত্ন নিয়ে নিখুঁত ভাবে এই চিত্রকর্মটি সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। সেই ছবিতে এক ক্রিশ্চান ক্রীতদাসের ওপর হওয়া অত্যাচার এবং অলৌকিক উপায়ে তা থেকে মুক্তি লাভের নাটকীয় মুহূর্তকে তুলে ধরেছিলেন টিনটোরেটো। এই ছবিটি সত্যিই খুব জনপ্রিয়তা এবং প্রশংসা অর্জন করেছিল। টিনটোরেটোর বন্ধু পিয়েত্রো আরেটিনো এই কাজটির খুবই প্রশংসা করেন। এই সফলতার পরে প্রচুর কাজের দায়িত্ব পেতে শুরু করেন টিনটোরেটো।
১৫৫১ সালে চিত্রশিল্পী পাওলো ভেরোনিস ভেনিসে আসেন এবং টিনটোরেটোর একজন কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। এইসময় টিনটোরেটো দুটি বিশাল ক্যানভাস আঁকার প্রস্তাব নিয়ে যান ম্যাডোনা ডেল’ওর্তোর গির্জার কর্তৃপক্ষের কাছে। এই সময়তেই ১৫৫১ থেকে ১৫৫৬ সালের মধ্যে টিনটোরেটো তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘প্রেজেন্টেশন অব দ্য ভার্জিন’ সৃষ্টি করেন এই গির্জার জন্য। এই ছবিটির বিষয়ের সঙ্গে ১৫৩৪-৩৮ সালের মধ্যে টিনিয়ানের আঁকা একটি ছবির সাদৃশ্য রয়েছে। এছাড়াও যে-দুটি বিশাল ক্যানভাসের ছবির প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, সেই দুটি ছবি হল, ‘ওরশিপ অব দ্য গোল্ডেন কাফ’ এবং ‘লাস্ট জাজমেন্ট’। রেনেসাঁর যুগের সবচেয়ে বড় ক্যানভাসে আঁকা ছবি হল এই দুটি ছবি। সেই ম্যাডোনা ডেল’ওর্তো গির্জার পাশেই বসবাস শুরু করেছিলেন টিনটোরেটো।
১৫৬০ সালে টিনটোরেটো ফাউস্টিনা ডি ভেসকোভিকে নামক এক মেয়েকে বিবাহ করেন, যিনি ভেনিসের একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কন্যা ছিলেন। এই দম্পতির সম্ভবত তিনটি ছেলে এবং চারটি মেয়ে অনেকদিন জীবিত ছিল। সম্ভবত এই ফাউস্টিনার সঙ্গে বিবাহের পূর্বে এক জার্মান মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল টিনটোরেটোর। সেই মহিলা সম্ভবত নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন।
১৫৬৪ সালে টিনটোরেটো স্কুওলা ডি এস মার্কোর জন্য আরও যে-তিনটি ছবি আঁকেন, সেগুলি হল, ‘ফাইন্ডিং অব দ্য বডি অব সেন্ট মার্ক’, ‘সেন্ট মার্ক’স বডি ব্রট টু ভেনিস’ এবং সেন্ট মার্ক রেসকিউইং আ সারাসেন ফ্রম শিপরেক’।
১৫৬০ সালে টিনটোরেটো ‘ডোজ’স প্যালেস’ পুনরায় সজ্জিত করবার জন্য তৎকালীন ডোজ গিরোলামো প্রিউলির প্রতিকৃতি-সহ বেশকিছু চিত্রকর্ম তৈরি করেছিলেন। ১৫৭৭ সালে প্রাসাদটি আগুনে পুড়ে গেলে টিনটোরেটোর অনেক কাজ নষ্ট হয়ে যায়।
১৫৬৫ থেকে ১৫৬৭ সালের মধ্যে এবং পরে ১৫৭৫ থেকে ১৫৮৮ সালের মধ্যে টিনটোরেটো স্কুওলা গ্র্যান্ডে ডি সান রোকোর কনফ্রাটারনিটি বিল্ডিং-এর ছাদে এবং দেওয়ালে প্রচুর চিত্র অঙ্কন করেছিলেন। এখানকার কাজে যুক্ত থাকার নেপথ্যের ঘটনাটি তাঁর জীবনের একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও বটে। ১৫৬৪ সালে স্কুওলা চারজন, অর্থাৎ টিনটোরেটো, ফেদেরিকো জুকারো জিউসেপ্পে সালভিয়াতি এবং পাওলো ভেরোনিস-কে সালা ডেল আলবার্গো হলের মূলত সিলিং পেইন্টিং-এর জন্য সেন্ট রচ ইন গ্লোরি বিষয়ের উপর অঙ্কিত ছবি আহ্বান করেছিলেন। স্কেচের পরিবর্তে টিনটোরেটো একটি পূর্ণ আকারের ছবি এঁকেছিলেন ও সেই হলের সিলিং-এ স্থাপন করে দিয়েছিলেন এবং প্রতিযোগিতার দিন এটিকে একটি ফেইট অ্যাকম্পলি (যা পূর্বে ঘটে গেছে এবং বর্তমানে যার আর পরিবর্তন করা যাবে না) বলে ঘোষণা করেন। এরপর তিনি জানান যে সেই ছবিটিকে তিনি উপহার হিসেবে দিচ্ছেন। তাঁর এখানকার ছবিগুলিতে যিশু খ্রিস্টের জীবন, ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’-এর দৃশ্য এবং বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পৌরাণিক চিত্রকর্ম সহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলির মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, ‘ক্রুসিফিকেশন’ এবং ‘পাশাল ফিস্ট অ্যান্ড মোজেস স্ট্রাইকিং দ্য রক’। ক্রুশিফিকেশন কাজটির জন্য ২০০ ডুকাটস অর্থাৎ সোনার মুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল টিনটোরেটোকে।
প্রেস্টেজা নামক দ্রুত ছবি আঁকার কৌশলগুলি আরও ভাল করে আয়ত্ত করেন টিনটোরেটো, যার ফলে ক্লায়েন্টদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা তিনি পূরণ করতে পারেন। টিনটোরেটো এরপরে গোটা স্কুওলা এবং সান রোকোর সংলগ্ন গির্জার পেইন্টিং-এর দায়িত্ব পান। ১৫৭৭ সালের নভেম্বর মাসে প্রতি বছর ১০০ ডুকাটের বিনিময়ে কাজগুলি করবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। স্কুওলা এবং গির্জায় টিনটোরেটোর ৫২টি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর্ম রয়েছে। এই কাজগুলির মধ্যে গির্জার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হল ‘ক্রাইস্ট কিউরিং দ্য প্যারালাইটিক’ এবং স্কুওলার কাজগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘অ্যাডোরেশন অফ দ্য ম্যাগি’, ‘ক্রাইস্ট ক্যারিং হিজ ক্রশ’ ইত্যাদি।
ডোজ’স প্যালেসে টিনটোরেটো সহকর্মী পাওলো ভেরোনিসের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের পর পুনরায় কাজ করতে শুরু করেন। সেখানে যেসমস্ত চমৎকার চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন, সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘থ্রি গ্রেস অ্যান্ড মার্কারি’, ‘এসপোসাল অফ সেন্ট ক্যাথরিন টু জেসাস’, ‘কুইন অব দ্য সী’ এবং ‘ক্যাপচার অব জারা ফ্রম দ্য হাঙ্গেরিয়ানস’, ‘মিনার্ভা ডিসকার্ডিং মার্স’, ‘ফোর্জ অব ভালকান’ ইত্যাদি। তবে ডজ’স প্যালেসের জন্য আঁকা ‘প্যারাডাইস’ ছবিটি টিনটোরেটোর জীবনের একটি সেরা শিল্পকর্ম। এটি ক্যানভাসে অঙ্কিত সবচেয়ে বড় ছবি হিসেবেও খুবই জনপ্রিয়। এই প্যারাডাইস চিত্রকর্মটির দায়িত্ব পাওয়ার জন্য টিনটোরেটো অনেক শিল্পীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ১৫৭৭ সালে একটি বিরাট বড় স্কেচও জমা দিয়েছিলেন যা এখন ল্যুভর মিউজিয়ামে রয়েছে। ১৫৮৩ সালে দ্বিতীয় আরেকটি স্কেচও আঁকেন। যদিও প্রথমে এই প্যারাডাইস আঁকবার দায়িত্ব যৌথভাবে ভেরোনিস এবং ফ্রান্সেস্কো বাসানোকে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু কাজ শুরু করার আগে ১৫৮৮ সালে ভেরোনিস মারা যান এবং তাঁর স্থলে টিনটোরেটোকে নিয়োগ করা হয়। এই ছবিটি শেষ করতে টিনটোরেটোকে তাঁর ছেলে ডোমেনিকোও সাহায্য করেছিল বলে জানা যায়। গোটা ভেনিস সেই কাজটির প্রশংসা করেছিল।
১৫৯২ সালে স্কুওলা ডেই মারকেন্টির সদস্য হয়েছিলেন টিনটোরেটো। ১৫৯২ থেকে ১৫৯৪ সাল পর্যন্ত ‘সান জর্জিও ম্যাগিওর’ গির্জার জন্য তিনি তাঁর জীবনের আরেকটি অন্যতম সেরা চিত্র ‘লাস্ট সাপার’ অঙ্কন করেছিলেন।
১৫৯৪ সালে প্রচন্ড জ্বর এবং পেটে ব্যাথায় আক্রান্ত হন টিনটোরেটো। সেই কারণে প্রায় এক পক্ষকাল তিনি ভাল করে খেতে পর্যন্ত পারেননি। অবশেষে ১৫৯৪ সালের ৩১ মে ৭৫ বছর বয়সে রেনেসাঁ যুগের এই কিংবদন্তি শিল্পী টিনটোরেটোর মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান