সববাংলায়

জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গা

জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গা বের করা অনেক সময় কষ্টকর হয়ে পড়ে, বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে। তবে পশ্চিমবঙ্গ এবং তার আশেপাশের কিছু জায়গায় জুনেও রয়েছে মনোরম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মিলনে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে অনন্য। নদীতীর, সৈকত, জঙ্গল কিংবা ঐতিহাসিক শহর—এরম অনেক জায়গা রয়েছে। এখানে আমরা পশ্চিমবঙ্গ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গা নিয়ে আলোচনা করব।

১) তাজপুর

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত তাজপুর একটি শান্ত ও নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত। এখানে দীঘা ও মন্দারমণির তুলনায় অনেক কম ভিড় হয়। জুন মাসে এখানে আবহাওয়া মনোরম থাকে, গ্রীষ্মের কষ্টদায়ক গরম কিছুটা হলেও কমে আসে এবং বর্ষা আসার আগে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। ঝাউবনের ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া এবং সাগরের পাশে ফাঁকা সৈকতে হাঁটার অভিজ্ঞতা একান্ত স্বাচ্ছন্দ্যের। তাজপুরে থাকার জন্য ভাল কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। এখানে সি-ফুড খাওয়ার জন্য সৈকতে বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে বসে সমুদ্রের পরিবেশ এবং সি ফুড উপভোগ করা যায়। যারা শান্ত পরিবেশে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে চান, তাদের জন্য জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গার মধ্যে প্রথমেই তাজপুরের আম আসবে। তাজপুরে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

২) টাকি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত টাকি শহরটি জুন মাসে ভ্রমণের জন্য ভাল জায়গা হতে পারে। এখান থেকে বাংলাদেশ স্পষ্ট দেখা যায় এবং নদীর ধারে হালকা শীতল বাতাস গরম থেকে মুক্তি দেয়। নদীর ধারে ভাল বসার জায়গা রয়েছে যেখানে সপরিবারে বসে নদীর অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পারবেন। তাছাড়া নদীভ্রমণও করতে পারবেন। টাকিতে ঘোরার অনেক জায়গা আছে যেগুলো স্থানীয় কোন টোটো বা রিক্সাচালকের সাথে যেতে পারেন। সেইসব ঐতিহাসিক জায়গা ঘুরতে ঘুরতে ঐতিহ্যবাহী বাংলার বিভিন্ন রূপ দেখতে পারবেন। তাছার টাকির মিনি সুন্দরবন এক অসাধারণ জায়গা। সুন্দরবনের অনুকরণে তৈরি এই জায়গায় আপনার একবার হলেও জায়গা উচিত। যারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের জন্য টাকি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। টাকিতে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

৩) শান্তিনিকেতন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে বাঙালিরা সারা বছর ধরেই ঘুরতে যায়। জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গার মধ্যে শান্তিনিকেতন অন্যতম। তবে এপ্রিল মে এখানে ভ্রমণের জন্য একদম উপযুক্ত নয়। জুন মাসে ঘুরতে গেলে গ্রীষ্মের তাপ কিছুটা কমে যায় এবং পরিবেশ শান্ত ও মনোরম থাকে। বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাস, রবীন্দ্রভবন, স্থানীয় বাজার, সোনাঝুরি হাট— সব মিলিয়ে এখানে সাংস্কৃতিক ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে রয়ে যায়। শিল্প-সংস্কৃতি ও প্রকৃতি ভালোবাসীদের জন্য শান্তিনিকেতন একটি অসাধারণ গন্তব্য। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য এখানে পরিবেশ বেশ উপযোগী। শান্তিনিকেতনে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

৪) বিষ্ণুপুর

জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গার মধ্যে বিষ্ণুপুর অন্যতম। বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী শহর যেখানের টেরাকোটা মন্দির, রাজবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপত্যশৈলী পর্যটকদের মন জয় করে। গরম কিছুটা কমে যাওয়ায় সকালে ও বিকেলে এখানে ঘোরাফেরা করা যাবে। তবে দুপুরে বেরনো কষ্টদায়ক হবে। যারা ইতিহাস ও সংস্কৃতি ভালোবাসেন, তাদের জন্য জুন মাসে বিষ্ণুপুরে যাওয়া উপযুক্ত। শুধু ঘোরাই নয়, বালুচরি শাড়ির জন্যও বিষ্ণুপুর বিখ্যাত। বিষ্ণুপুরে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে

৫) পুরী

জুন মাসে ঘোরার সেরা পাঁচটি জায়গার মধ্যে পুরী অন্যতম। পুরীতে সারা বছর ধরেই বাঙালি ঘুরতে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে সহজেই ট্রেনে বা গাড়িতে এখানে যাওয়া যায়। জুন মাসে সমুদ্র সৈকতে ঢেউ একটু বেশিই হতে পারে, তবে সূর্যাস্ত দেখা খুবই চমৎকার হয়। জগন্নাথ মন্দির দর্শন, সৈকতে সময় কাটানো ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার জন্য পুরী একটি সুন্দর গন্তব্য। হালকা গরম ও বৃষ্টি মিশ্র আবহাওয়ায় এখানে ভ্রমণ অনন্য আনন্দ দেয়। যারা সমুদ্রসৈকত উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য পুরী জুন মাসে ভালো অপশন। পুরীতে কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন, কী করবেন সেই সব বিস্তারিত জানতে পড়ুন এখানে


সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৫


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব সংকলন

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading