২০২৪ লোকসভা নির্বাচন সমাপ্ত হল। ফলাফল সামনে এসে গেছে। এই নির্বাচন নিয়ে আপনার মতামত কী? কী আশা করেছিলেন, কী হল, ভাল মন্দ কেমনলাগল সবই শেয়ার করতে পারেন এখানে।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও ধর্মকে কেন্দ্র করে যে রাজনীতির রমরমা সেটা কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে, সেটা একটা ভালো দিক বলে মনে হয়। সুস্থ গণতন্ত্রের পক্ষে বিরোধীপক্ষের অবস্থান শক্ত হওয়া ভালো। প্রাপ্তি এটুকুই।
এই ভোটের ফলাফলে বেশ কিছু ভালো দিক উঠে এসেছে, যেমন –
১. মানুষ মন্দিরের রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলেছে। অযোধ্যায় হার এবং বিজেপির অনেকটা খারাপ ফল এই ব্যাপারটিকে স্পষ্ট করেছে।
২. সরকার ও বিরোধীপক্ষের আসন পার্থক্য খুব কম। তাই আশা করা যায় যে সকল সাংসদ নিজের দায়িত্ব পালন করলে ইচ্ছেমতো বিল পাস করে নেওয়া বা স্বেচ্ছাচারিতা করা সম্ভব হবে না। গত 5 বছরে এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ফলে অবশ্য কিছুটা আশঙ্কার ইঙ্গিত থেকেই যাচ্ছে। কারণ –
১. পশ্চিমবঙ্গের লাইন যদি বাকি দেশ অনুসরণ করে অর্থাৎ দেদার ভাতা দিয়ে ভোট বাক্স ধরে রাখা তাহলে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
২. দেশের ক্ষেত্রে কোন মুখ ধরে ভোট না হলেও রাজ্যে এখনও মমতা ব্যানার্জির নামে ভোট হয় তাই রচনা, সায়নীর মত প্রার্থীদের জয় সম্ভব হচ্ছে। এটা চিন্তার।
৩. পশ্চিমবঙ্গে মেরুকরণ কিছুটা হলেও হয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে – যে কারণে অধীরের মত হেভিওয়েট হেরে যায়, আর ইউসুফ পাঠান জিতে যান। এখানে অবশ্য আমার ধারণা ভুল হতে পারে, ভুল হলেই খুশি হবো।
৪. মাঠে নেমে রাজনীতি করা নেতাদের হার (অধীর, দিলীপ, সেলিম) আর উৎকো উড়ে এসে জুড়ে বসাদের জয় (কীর্তি আজাদ, ইউসুফ, রচনা ইত্যাদি) খুবই ভয়ানক ট্রেন্ড।
৫. পশ্চিমবঙ্গের চিরকালীন বাইনারিতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া এবং একটি দলের প্রতি সমস্ত ভোট ঢেলে দেওয়া – এগুলো এখনো চলছে। বাম, কংগ্রেস কিছুটা প্রাসঙ্গিকতা রাখলে রাজ্যের ভাল হতো বলেই মনে হয়।
আমি এই আলোচনায় কিছু জরুরী পয়েন্ট যোগ করতে চাই। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ ইত্যাদির মাঝে বারবার বাধ পড়ে যাচ্ছে যে নামটা, সেটা মণিপুর। আমার ব্যাক্তিগত মতে উত্তরপ্রদেশের পর মণিপুরে বিজেপির হার সবচেয়ে সিগ্নিফিকেন্ট।
INDIA জোট কাঁটায় কাঁটায় টক্কর দিলেও আগামী পাঁচ বছরে বিরোধী শক্তি হিসেবে সরকারকে কতটা চাপে রাখতে পারবে, তা নিয়ে আমি যথেষ্ঠ কনফিডেন্ট নই। যাঁরা আশাবাদী তাঁরা আমায় দুকথা শুনিয়ে দিতেই পারেন, কিন্তু তাতে আমার রিডিং বদলাবে না।
বামপন্থী দলগুলোর আমূল স্ট্র্যাটেজিক রিভিশন দরকার, বিশেষত প্রচারের ন্যারেটিভে। তৃণমূল, বিজেপি-কে ভোট কেন দেওয়া উচিত নয় এর থেকে বামপন্থীদের ভোট দেবে কেন, এটা সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্কার হচ্ছে না। তার ফলে মিডিয়ার তৈরি বিজেপি ভার্সেস তৃণমূল বাইনারি জায়েজ হয়ে যাচ্ছে। ইলেক্টোরাল বন্ড, খাটের তলায় কোটি কোটি টাকা বেরোনোর পরও যখন খেলা ঘুরছে না, তখন সামাজিক-প্রতিফলনে কোথাও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছে বলে মানুষ ভোট দিচ্ছে বলা আত্ম স্লাঘা ছাড়া কিছুই না। নিজেদের শর্টকামিং আইডেন্টিফাই করতে না পারলে দোষারোপ ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
এ ছাড়া বামপন্থী শিবিরের সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার অনেক বেশি কৌশলগত, রেকারিং, ইস্যু ভিত্তিক, এবং সহজবোধ্য হওয়া প্রয়োজন। আজ একটা এআই, কাল একটা মীম, পরশু একটা সেন্টিমেন্টাল পোস্ট কোনোও অভিঘাত সৃষ্টি করছে না, সেটা তো বোঝাই যাচ্ছে।
এইবারের লোকসভা নির্বাচনে অনেক কিছু বিষয় ঘটেছে যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। সকলেই জানে বিজেপির হাতে কতটা ক্ষমতা ছিল এবং বিরোধীদের ওপর তারা কতটা চাপ সৃষ্টি করেছিল। তা সত্ত্বেও যখন এইরকম একটা ফল পাচ্ছি, তাতে বোঝাই যাচ্ছে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। মানুষ তার কথা বলেছে। পাঞ্চালী এবং সম্বিতদার সঙ্গে মোটামুটি সহমত আমি। বিশেষ করে INDIA জোট কাঁটায় কাঁটায় টক্কর দিলেও আগামী পাঁচ বছরে বিরোধী শক্তি হিসেবে সরকারকে কতটা চাপে রাখতে পারবে, তা নিয়ে আমিও যথেষ্ঠ কনফিডেন্ট নই। একসাথে এতগুলো দল মিলে একটা একজোট হয়ে কতটা চাপ তৈরি করবে জানা নেই। তবে করলেই ভাল। আবার একই নিয়মে পড়ে বিজেপিও হুটহাট করে যা ইচ্ছে করতে পারবেনা। তাকেও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। মোদীজি পরিচালিত বিজেপি, জোট সরকার কীভাবে চালায় সেটা দেখার আগ্রহে বসে আছি। কারণ তাদের ঔদ্ধত্য মানুষ আগে দেখেছে। এবারে একসাথে কীভাবে চলবে সেটা অবশ্যই দেখার। ব্যক্তিগতভাবে আমি নীতিশ কুমারের রাজনীতি দেখার আগ্রহে বসে আছি। বিরোধীরা চাপ না তৈরি করলেও ইনি যে করবেন তা আমি একপ্রকার নিশ্চিত। এই নির্বাচনে মোদী ম্যাজিক কি কাজ করল সকলেই দেখতে পেল। মানুষকে taken for granted নিয়ে নিলে কি হয় সেটা সকলেই দেখল। আশা করছি বিজেপি এই বিষয় গুলো নিয়ে আগামী দিনে ভাববে।
একইসাথে রাজ্যে এটাও চিন্তার যে শুধুমাত্র দিদির নামেই লোকে ভোট দিয়েদিল। নাহলে হেভিওয়েট নেতারা কীভাবে আনকোরা নবাগতদের কাছে হেরে যায়! কারণ মানুষ দেখেইনি কে দাঁড়াচ্ছে। তারা সোজা তৃণমূলে ভোট দিয়েছে। তবে বামেরা কিছুজন এলেও ভাল লাগত।বেশ কিছু ভাল প্রার্থী তাদের ছিল। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বামেদের আলাদা সমস্যা। বিশেষ করে বাম সমর্থকরা অনেকেই এখনও এলিট ক্লাস মার্কা কথাবার্তা ছেড়ে বেরোতে পারেনি। তাদের মতে তাদের সঙ্গ না দিলেই সেই মানুষ মূর্খ বা তার কোন ক্লাস নেই। তাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েই এখন গরীবদের সোশ্যাল মিডিয়াতে আক্রমণ করে যাচ্ছে। বাম সমর্থকদের এই মনোভাবের জন্য মানুষ তাদের ওপর কিন্তু আস্থা রাখতে পারছেনা।
তবে যাই হোক না কেন, বিরোধীরা একজোট হয়ে যেমন নির্বাচন লড়লেন, তেমনই আগামী পাঁচবছর একজোট থেকে সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এই আশা করে আমার লেখা শেষ করব।
দারুন রেজাল্ট…
দারুন ভোট..
যেমন একদিকে একটা stable Govt হতে চলেছে এবার কিন্তু বিরোধীরা ও কিন্তু বেশ Strong..
আমার সমস্ত দেশবাসীকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা…
আশা করা যায় শিক্ষা,স্বাস্থ্য,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সাথে গ্যাসের দাম,ট্যাক্সে ছাড়ের সুবিধাও সরকার দেখবে…
আর পশ্চিমবঙ্গে এবার একটু কাজ করুন MP রা কাজ করুন আরো..
আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চাইবো যে Education এবং Technology টাকে গ্রাম ও সাধারন মানুষের কাছে আরো পৌঁছে দেওয়া যায় MP ও সরকারের হাত ধরে…
যুবক দের কাজ হোক..
মাইনে বাড়ুক.আর দেশ আরো আরো উন্নতি করুক…
বিজেপি তৃনমূল সিপিএম কংগ্রেস এবার দলের নয় দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে কাজে নামুক…
খুনোখুনি মারামারি নয়…
শান্তি থাকুক দেশজুড়ে
বন্দেমাতরম
ভোটের ফল আশানুরূপ হয়েছে। হিন্দু মুসলিম খেলা জমেছে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি বাজার, দাম, খরচ, একাউন্টে সরাসরি টাকা আসা এগুলো দাগ টেনেছে। শুধুই ধর্ম নয় সাথে সুযোগ সুবিধাও চাই। ভোটের ফলে তরুণ প্রজন্মকে পড়াশুনো ছেড়ে ব্যবসা করার চিন্তা করতে হবে। ভাইজান কে বাদ দিয়ে বিজেপিকে যে ঠেকাতে পারবে তার হাত মজবুত করেছে। বাংলার মুসলিম তৃণমূল কে বেছে নিয়েছে বাঁচতে। আর হিন্দুরা বিজেপিকে ঢেলেছে রাজ্য টাকে গুজরাট বা উত্তর প্রদেশ করতে চায় নি। মোটের উপর এ যাত্রায় সংবিধান বাঁচলো। কিন্তু এলাহাবাদ আর থাকলো না।
মিজানুরদা একটা কথা ঠিক বলেছ। তরুণ প্রজন্মকে ব্যবসা করার চিন্তা করতে হবে। কারণ যেদিকে যাচ্ছে তার ফলে এটা একটা উপায় হতে পারে। তবে পড়াশুনো ছেড়ে কখনই নয়। আবার একইসাথে সকলেই যে ভাল ব্যবসায়ী হতে পারবে সেটাও নয়। তাই চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু এটা কখনই একমাত্র পথ হতে পারে না। সেটা ভাবলে সরকারের যে কোন গাফিলতি/ অবক্ষয়ের দায় মানুষ নিজের কাঁধে তুলে নেবার কথা ভাবছে। এটা কাম্য নয়।
ভোট এর রেজাল্ট –
এবারের ভোটের রেজাল্টে অনেকে অখুশি , লক্ষ্মীর ভান্ডার জিতে গেল , শিক্ষা হেরে গেলো।
কিন্তু কেন লক্ষ্মীর ভান্ডার জিতে গেলো?
কেন শিক্ষা হেরে গেলো?
কেন তাদের বোঝানো গেলো না?
কেন তারা বুঝলেন না?
আমি প্রথমেই বলে রাখি যেহেতু আমি ছোটবেলা থেকে বামপন্থীদের সানিধ্যে ছিলাম তাই কিছু ভুল বললে ক্ষমা করবেন।
বাম এবারও খাতা খুলতে পারলো না কেন?
আগে আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন বাম রাজ্য , ঠিক এখন যেমন বলা হয় দিদির দূর্গ পশ্চিমবঙ্গ তখনও বলা হত লাল দূর্গ / জ্যোতি বসুর দূর্গ।
সেই দূর্গ ভেঙে গেলো ২০১১ সালে, আর মাত্র ১০ -১৪ বছরে সেই দূর্গের ইট/ পাথর ও পাওয়া যাচ্ছে না। ভোট শূন্য হয়ে আমরা বলছি বটে শিক্ষার থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার বেশি বড়।
হ্যাঁ ভাই , সময় বিশেষে শিক্ষার থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার বেশি বড় হয়।
পশ্চিমবঙ্গ মনে কলকাতা নয়। কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ একটি জেলা। আবার প্রতন্ত্য গ্রামও নয়। গ্রাম- মফস্বল- শহর নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ।
আচ্ছা আমার পাশের বাড়ির যে কাকিমা লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন , সে তো BA / MA পাশ করেছিলেন , চাকরি তো পান নি, এখন যদি কেউ সেধে টাকা দেন তিনি নেবেন না? আবার কোনো দিদি ধরুন ক্লাস ৮ পাশ করেছিলেন , সে ও লক্ষ্মীর ভান্ডারের সমান টাকাই পাচ্ছেন। আর যিনি কোনো পাশ দিতে পারেন নি তিনিও একই টাকা পাচ্ছেন। সবাই সমান না এখানে?
এটাই তো সাম্য! 🤔
এবার বলি কই ২০১১ এর পর থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলা বন্ধ হয়ে গেলো কেন? আমি তো শেষ ১৪ বছরে আমাদের বাড়িতে কারুকে আসতে দেখি নি। আমাদের পাড়ায় ও দেখি না। না সেই মিটিং আছে না সেই পরিকল্পনা।
শুধু ভোটের আগে মুখবইতে দেখি, আর রেজাল্টের পর দেখি শিক্ষা হেরে গেলো।
তা শিক্ষা দিল কে?
DA দেয় না meeting হয় , মিছিল হয়, স্কুল বন্ধ মিটিং মিছিল কই? মুখবই ছাপিয়ে পরা শিক্ষা হেরে গেলো বলে যারা কেঁদে চলেছো তারা কী দেখছ না শিক্ষা অনেকদিন আগেই হেরে গেছে?
আমাদের পরিচিত ক’জন রাজ্য সরকারি শিক্ষক বা সরকারি কর্মচারীর মেয়ে / ছেলে পড়ে সেই সরকারি স্কুলে? যখন নিজের বিশ্বাস নেই তখন অন্যরা বিশ্বাস করবে এমন আশা করা কেন?
লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়তো অনেক অলক্ষ্মী পায় , যাদের দরকার নেই , যারা একটার জায়গায় দশটা জামা কিনে এনে আলমারি ভর্তি করে, সপ্তাহে রেস্টুরেন্টে না গেলে যাদের স্ট্যাটাস থাকে না। কিন্তু অনেক মায়ের সেটা দরকার , যারা এই ১০০০/৫০০ টাকা থেকেই তার ছেলের খাতা কেনে বা নিজের শাড়ি। কিংবা বাবার ওষুধ।
তো বোঝাও না , সরকারি প্রকল্প চালু হলে বন্ধ হয় না, যেমন বৃদ্ধ ভাতা/ বিধবা ভাতা বন্ধ হয় নি তো।
সেই মায়েদের গিয়ে বোঝাও না ভাতা বন্ধ হয় না, কোনোদিন হয় না, সারা দেশ চিৎকার করলেও হয় না। যেমন কাস্ট / কোটা কোনোদিন বন্ধ হবে না। কোন দল করবে না।
আরও অনেককিছু যেটা রাজনৈতিক কূটনীতি বন্ধ হবে না।
নিজে ঠান্ডা ঘরে বসে শিক্ষা হেরে গেলো না বলে , রোদে বার হও , কাঁধে কাঁধ লাগাও , হাতে হাত ধরো, ঠিক সেই ভাবে যেভাবে একদিন শুরু হয়েছিল।
আগে তো আন্দোলন হোক , তারপর তার অনেক পর ভোট ব্যাংক নিয়ে ভাবা যাবে।
🙏🙏🙏🙏 ( ভুল কিছু বলে থাকলে অপরাধ ক্ষমা করবেন)
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
