সববাংলায়

সিনেমা রিভিউ ।। আসছে আবার শবর

বিভাগঃ ,

শবর সিরিজের তৃতীয় ছবি, “আবার আসছে শবর”। শবর চরিত্রে শাশ্বত, পরিচালনায় অরিন্দম শীল, মূল কাহিনী শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের। আমি শবর কাহিনীগুলো পড়িনি তাই তুলনা করে বলতে পারব না কাহিনীর চেয়ে সিনেমাটি কোনও অংশে কম হয়েছে কিনা। পাঠক আমার এই অজ্ঞানতাকে ক্ষমা করে দেবেন।

শবরের সিনেমাগুলোয় শুধুই অপরাধ আর অপরাধী থাকে না, থাকে অপরাধীর মানসিকতা, সমাজের বাস্তবতা। সেদিক থেকে এই কাহিনীটা আগের চেয়ে আরও অন্ধকারময়, আরও জটিল। এই সময়ে সমাজের  বুকে ঘটে যাওয়া  অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যা ভাবায় তা ধর্ষণ করে খুন। তাই সময়ের কথা বলতে গেলে সিনেমাতেও সে ঘটনা উঠে আসাই স্বাভাবিক। পরপর কিছু তরুণীর ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই সিনেমার কাহিনী।  কাহিনীর চেয়ে আমি বেশি করে চিত্রনাট্যের কথাই বলব। সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে চিত্রনাট্য, তার ঘটনা এবং চরিত্রগুলো। মূল ঘটনার পাশাপাশি অন্যান্য শবরের কাহিনীর মত এখানেও দেখানো হয়েছে অন্যান্য চরিত্রের বিভিন্ন দিক। কিন্তু সমাজের যে অন্ধকার সত্য নিয়ে কথা বলতে এই কাহিনী চালু হয়েছে, সেটা কোথাও গিয়ে যেন মূল অভিযুক্ত বিজয়ের ওপর বেশি আলোকপাত করে ফেলেছে, আলোকপাত করেছে রিঙ্কুর ওপর।  অথচ কাহিনী শুধু রিঙ্কুর নয়, যে কিনা বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া সন্তান। সিনেয়ার শেষে শবর তার এইরূপ পরিনতির জন্য দায়ী করেছে তার দায়িত্বজ্ঞানহীন বাবা মাকে। সেটা একেবারেই ঠিক বার্তা। খুব সুন্দরভাবে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে সিনেমায়। কিন্তু যে আসল খুনি, তার স্বীকারোক্তিটা ধরা পড়েই গঙ্গাঘাটে উগড়ে দিয়ে কেমন একটা অদ্ভুত লাগল। যতটা আলোকপাত বিজয় আর রিঙ্কু পেয়েছে, তার থেকে কম হলেও কিছুটা তো পাওয়ারই কথা এই বিকৃত মানসিকতার খুনির। আগের শবরের কাহিনীগুলো কিন্তু পরিবারের ঘটনা, তাই পারিবারিক সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে কথা বলাই বেশি স্বাভাবিক। এবারের কাহিনী কিন্তু এখনকার সমাজের এক ভয়ঙ্কর সত্য তুলে  ধরেছে তাই সেই সত্য নিয়ে আরেকটু বেশি কথা বললে ভালো হত। সেই খুনির চরিত্র নিয়ে আরও বেশি কাটাছেঁড়া করলে ভালো হত। প্রথম শবরের সেই পান্তু চরিত্রটার কথা আমার মনে পড়ে, ঋত্বিকের অসাধারণ অভিনয়ে তার মুখে সেই স্বীকারোক্তি যথেষ্টভাবেই তার মানসিকতা ফুটিয়ে তুলেছিল। কিন্তু এখানে যেভাবে পরপর ধর্ষণ করে তারপর মুখে প্লাস্টিক বেঁধে খুন করা হচ্ছিল, তাতে ঐ একইভাবে পান্তু স্টাইলে ধরা পড়েই সে সত্য উগড়ে দিল এটা কেমন লাগল। যতই হোক সে আর সাধারণ মানুষের মত নয়, সে সমাজের একটা রোগ।

সিনেমাটিতে বিকৃত মানসিকতা, বিকৃত যৌনতা, বাবা মায়ের সন্তান পালনে ব্যর্থতা এবং তার পরিণাম, সম্পর্কের জটিলতার পাশাপাশিও আছে ডেটিং সাইটের মাধ্যমে আলাপ হয়ে খুন, আধুনিক সমাজেও কুসংস্কারের প্রভাব এইসব এত দিক। আর এত দিক থাকলে কোনও দিক তো মার খাবেই। ডেটিং সাইটগুলোর কুপ্রভাব নিয়ে বেশি কিছু বলা হয়নি, অথচ বোধয় বললে ভালো হত। কুসংস্কারের প্রভাব ব্ল্যাক মাজিক না দেখালেও চলত। তবে এইসব দিক যদি বাদ দিয়ে দি তাহলে কিন্তু খুব সুন্দর ভাবে এগয়েছে চিত্রনাট্য।

অভিনয়ে শাশ্বত আর শবর তো একেবারে মিলেমিশে গেছে। শাশ্বতদের মত অভিনেতারা প্রমাণ করে দেন যে হিরো হিরোইন থাকলেই সিনেমা চলে না, অভিনয় করতে গেলে ভালো অভিনেতা হতে হয়।  কিছু কিছু নতুন মুখও আছে সিনেমায় এবং তারা তাদের অভিনয় বেশ ভালভাবে করেছে।  মিউজিক আর এডিটিং সিনেমার সাসপেন্সটাকে বেশ সুন্দর ভাবে বজায় রেখেছে। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফি অনেক জায়গাতে কাঁপা কাঁপা। মাথাটা কেমন ঘুরে যাচ্ছিল। সেটা কি সিনেমাটোগ্রাফিতে সমস্যা ছিল না আমারই মাথা ঘুরছিল আপনারা সিনেমাটা দেখে এলে অবশ্যই জানাবেন।


 


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading