সববাংলায়

মাতৃ দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল মাতৃ দিবস (Mother’s Day)।

প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার দিনটিকে মাতৃ দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় শতাধিক দেশ এই দিনটিকে মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দিনটি প্রথম পালন করা হয়েছিল। ১৯০৮ সালের ১০ মে আনা জার্ভিস (Anna Jarvis) প্রথম এই দিনটি পালন করেন। ওই দিন সকালে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটন শহরের অ্যান্ড্রুজ মেথডিস্ট চার্চে (Andrews Methodist church)  তিনি তাঁর মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। এরপর ওই একই দিনে তাঁর উদ্যোগে সন্ধ্যাবেলা ফিলাডেলফিয়া ওয়ানামেকার স্টোর অডিটোরিয়ামে (Wanamaker Store auditorium) একটি অনুষ্ঠানে ১৫ হাজার মানুষ একসাথে ‘মাদার্স ডে’ বা ‘মাতৃদিবস’ পালন করে। জার্ভিস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মাদার্স ডে বা মাতৃদিবস বলে অভিহিত করেন এবং তাঁর মায়ের প্রিয় ফুল সাদা কার্নেশনকে (Carnation) মাতৃ দিবসের সরকারি প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করেন।

আনা জার্ভিস একজন শান্তি কর্মী ছিলেন। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় উভয় পক্ষেরই আহত সৈন্যদের সেবা করেছিলেন তিনি। তিনি ‘মাদার্স ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ তৈরি করেছিলেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতার জন্য। আনা জার্ভিসের মা আ্যন রীভেস জার্ভিস  (Ann Reeves Jarvis) ১৯০৫ সালে মারা যান। সেই সময় থেকে আনা জার্ভিস মাতৃ দিবসকে একটি সরকারি স্বীকৃত ছুটির দিন হিসেবে পালন করার জন্য প্রচার চালাতে থাকেন। এই ভাবেই তিনি নিজের মাকে এবং সারা পৃথিবীর মায়েদের প্রতি সম্মান জানান। কারণ তিনি মনে করতেন যে, মা-ই পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি করে (“the person who has done more for you  than anyone in the world”)। ১৯০৮ সালে মার্কিন কংগ্রেস, মাতৃ দিবসের দিন ছুটি প্রস্তাবটি বাতিল করে দেন। ১৯১২ সালে আনা ‘মাদার্স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে আনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মাতৃ দিবসের ছুটি হিসেবে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে বেছে নেন। তিনি এই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করেন, মায়েদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য। পরে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ও অন্যান্য প্রেসিডেন্টের সমর্থনে দিনটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে পালিত হতে থাকে। অন্যান্য দেশগুলো এই দিনটিকে মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করতে শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে মাতৃ দিবসকে বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ব্যবহার করা হলে জার্ভিস এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল তিনি যে কারণে মাতৃ দিবস পালন করতে চেয়েছিল বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো তার ভুল ব্যাখ্যা করছে। তিনি মূলতঃ মায়ের প্রতি আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এর জন্য দোকান থেকে কেনা কার্ড অপেক্ষা নিজের হাতে বানানো কার্ড ও উপহার সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত বলে তাঁর মনে হয়েছিল। যদিও বর্তমানে বেশিরভাগ দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করা হয় তবে কিছু কিছু দেশে অন্য দিনও মাতৃ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। বহু দেশেই বহু আগে থেকেই মাতৃত্বের অনুষ্ঠান পালনের রীতি ছিল। যেমন ক্যাথলিক ধর্মে এই দিনটি ছিল ভার্জিন মেরির প্রতি সমর্পিত। আবার হিন্দু ধর্মে এটিকে বলা হয় ‘মাতা তীর্থ আনুশি’  বা ‘একপক্ষ ব্যাপী মাতৃ তীর্থযাত্রা’। এই দিনটি মূলতঃ মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালোবাসা জানানোর উদ্দেশ্যে পালন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে এই দিনটিতে বেশিরভাগ দেশেই ছুটি থাকে এবং সন্তানরা তাদের মাকে ফুল বা বিভিন্ন উপহার দেয়। এছাড়া রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া বা মায়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো কিংবা মাকে বিশেষ রান্না করে খাওয়ানো ইত্যাদি করা হয়ে থাকে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading