ইতিহাসে অলিন্দ যুদ্ধ বা রাইটার্স বিল্ডিং হামলার সঙ্গে জড়িত বাংলার এক দামাল বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত (Dinesh Gupta)। ইতিহাসে তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন বিপ্লবী বিনয় বসু এবং বাদল গুপ্তের সঙ্গে একযোগে রাইটার্স বিল্ডিং- আক্রমণ করার জন্য। ফাঁসি হওয়ার আগে মাকে দীনেশ একটি চিঠি লিখেছিলেন।
সাম্প্রতিক পোস্ট
অলিন্দ যুদ্ধ চলাকালীন একসময় বিনয়, বাদল এবং দীনেশের রিভলবারের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনজনে একসাথে একটি ফাঁকা ঘরে ঢুকে তাঁদের সঙ্গে থাকা সায়ানাইড মুখে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজের কপালে বন্দুক তাক করে গুলি চালিয়ে দেন। গুলিতে সেই মুহূর্তেই বাদল গুপ্তের মৃত্যু হয়। বিনয় বসু এবং দীনেশ গুপ্তকে ব্রিটিশ পুলিশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টায়, সেবায় দীনেশ ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ‘কনডেমড’ সেলে নেওয়া হয়। দীনেশ গুপ্তের বিচার করার জন্য আলিপুরের সেশন বিচারপতি মি. গ্রালিকের সভাপতিত্বে ব্রিটিশ সরকার এক ট্রাইবুনাল গঠন করে তাঁর ফাঁসির আদেশ দেয়।
ফাঁসি হওয়ার আগে তাঁর মাকে যে চিঠি দীনেশ লিখেছিলেন সেটি নিচে সরাসরি তুলে ধরা হল –
” মা,
যদিও ভাবিতেছি কাল ভোরে তুমি আসিবে, তবু তোমার কাছে না লিখিয়া পারিলাম না।তুমি হয়তো ভাবিতেছ, ভগবানের কাছে এত প্রার্থনা করিলাম, তবুও তিনি শুনিলেন না! তিনি নিশ্চয় পাষাণ, কাহারও বুক-ভাঙা আর্তনাদ তাঁহার কানে পৌঁছায় না।
ভগবান কি আমি জানি না, তাঁহার স্বরূপ কল্পনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তবু এ-কথাটা বুঝি, তাঁহার সৃষ্টিতে কখনও অবিচার হইতে পারে না। তাঁহার বিচার চলিতেছে। তাঁহার বিচারের উপর অবিশ্বাস করিও না, সন্তুষ্ট চিত্তে সে বিচার মাথা পাতিয়া নিতে চেষ্টা কর। কি দিয়া যে তিনি কি করিতে চান, তাহা আমরা বুঝিব কি করিয়া?
মৃত্যুটাকে আমরা এত বড় করিয়া দেখি বলিয়াই সে আমাদিগকে ভয় দেখাইতে পারে। এ যেন ছোট ছেলের মিথ্যা জুজুবুড়ির ভয়। যে মরণকে একদিন সকলেরই বরণ করিয়া লইতে হইবে, সে আমাদের হিসাবে দুই দিন আগে আসিল বলিয়াই কি আমাদের এত বিক্ষোভ, এত চাঞ্চল্য?
যে খবর না দিয়া আসিত, সে খবর দিয়া আসিল বলিয়াই কি আমরা তাহাকে পরম শত্রু মনে করিব ? ভুল, ভুল। ‘মৃত্যু’ মিত্ররূপেই আমার কাছে দেখা দিয়াছে।
আমার ভালোবাসা ও প্রণাম জানিবে।
– তোমার নসু
আলিপুর সেন্ট্রাল জেল
৩০. ৬. ৩১. কলিকাতা।
১৯৩১ সালের ৭ জুলাই ভোর পৌনে চারটে নাগাদ আলিপুর জেলে দীনেশ গুপ্তের ফাঁসি হয়ে যায়। পরের দিন সকালে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের ‘Advance’ কাগজের শিরোনাম বেরোলো “Dauntless Dinesh Dies at Dawn!”
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।
তথ্যসূত্র
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার, অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের রোমহর্ষক বীরগাথা, সুপ্রতিম সরকার, আনন্দ পাবলিশার্স, অষ্টম অধ্যায় – ৮ ডিসেম্বর ১৯৩০
- https://www.bongodorshon.com/
- https://www.literacyparadise.com/


আপনার মতামত জানান