সববাংলায়

সুচিত্রা মিত্র

বিভাগঃ , ,

সুচিত্রা মিত্র (Suchitra Mitra) একজন বিখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, সুরকার, অধ্যাপক এবং কলকাতার প্রথম মহিলা শেরিফ। তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম ভাবার্থ বোঝার চেষ্টা করতেন। বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ও করেছেন। সুচিত্রা মিত্র বহু বছর ধরে ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন বা ভারতীয় গণনাট্য সংঘের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা হিসাবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি রবীন্দ্রসংগীত বিষয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধও লিখেছেন।

১৯২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিহার প্রদেশের গুজণ্ডি স্টেশনের কাছে একটি চলন্ত ট্রেনের কামরায় সুচিত্রা মিত্রের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ও মায়ের নাম সুবর্ণলতা দেবী। সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ছিলেন রবীন্দ্রযুগের এক বিশিষ্ট সাহিত্যিক, অনুবাদক ও আইনজীবী। তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলি হল – ‘তান্ত্রিকদের বিচিত্র কাহিনী’, ‘যৌবরাজ্য’, ‘ইতিহাসে নেই’, ‘লজ্জাবতী’, ‘পরলোকের বিচিত্র কাহিনী’, ‘পিয়াসী’, ‘তরুণী’, ‘স্বয়ম্বরা’ প্রভৃতি। সাহিত্য সাধনার জন্য সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ১৯০২ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ পেয়েছিলেন। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সাথে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা রবীন্দ্র সংগীতের ভক্ত ছিলেন। মায়ের গলায় গান শুনেই সুচিত্রা মিত্রের সংগীতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। গুজণ্ডি স্টেশনের কাছে জন্মেছিলেন বলে সুচিত্রার ডাকনাম ছিল গজু। তাঁর স্বামীর নাম ধ্রুব মিত্র। তাঁদের বিবাহিত জীবন খুব দীর্ঘায়িত হয়নি, বছর সাত-আটেকের মধ্যেই বিবাহবিচ্ছদ ঘটে। এরপর আর বিয়ে করেননি সুচিত্রা। তাঁদের একমাত্র সন্তানের নাম কুণাল মিত্র।

এক নজরে সুচিত্রা মিত্রের জীবনী:

  • জন্ম: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯২৪
  • মৃত্যু: ৩ জানুয়ারি, ২০১১
  • কেন বিখ্যাত: প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, বিশিষ্ট সঙ্গীত গবেষক, অধ্যাপক এবং রবিতীর্থের প্রতিষ্ঠাতা।
  • পুরস্কার: ভারত সরকার কর্তৃক ‘পদ্মশ্রী’ (১৯৭৪) ও ‘সঙ্গীত নাটক অকাদেমি’ (১৯৮৬), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ‘দেশিকোত্তম’ এবং একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাম্মানিক ডি.লিট।

শৈশব থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ও কবিতার প্রতি সুচিত্রা মিত্রের গভীর অনুরাগ ছিল। গানের বিষয়ে তাঁর অসাধারণ সহজাত প্রতিভা আবিষ্কার করেন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক ও অভিনেতা পঙ্কজ কুমার মল্লিক। তিনিই সুচিত্রা মিত্রকে প্রথম রবীন্দ্র সংগীতের পাঠ দিয়েছিলেন। পঙ্কজ কুমার মল্লিকের কাছে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর ১৯৪১ সালে সুচিত্রা মিত্র বৃত্তি নিয়ে শান্তিনিকেতনের সংগীত ভবনে ভর্তি হন। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর প্রায় ২০ দিন পর তাঁর শান্তিনিকেতনে সংগীতশিক্ষা শুরু হয়; তাই কবির সঙ্গে তাঁর সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। শান্তিনিকেতনে তিনি শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে পেয়েছিলেন ইন্দিরাদেবী চৌধুরানী, শান্তিদেব ঘোষ এবং শৈলজারঞ্জন মজুমদারের মতো বিশিষ্ট সংগীতশিল্পীদের। এই তিন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব শান্তিনিকেতনের সংগীত শিক্ষায় এক ঐতিহাসিক ধারা তৈরি করেছিলেন। শান্তিনিকেতনের প্রকৃতি, উন্মুক্ততা, রুচি, সংস্কৃতি এবং রবীন্দ্রনাথ সুচিত্রা মিত্রের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর সংগীত ভাবনায় শান্তিনিকেতনের শিক্ষাই ছিল পথপ্রদর্শক। বিশেষত শান্তিদেব ঘোষের শিক্ষাও তাঁর সংগীতভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। শান্তিনিকেতনে তাঁর সহপাঠী ছিলেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়; পরবর্তীকালে তিনিও রবীন্দ্রসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী হয়ে ওঠেন। কর্মজীবনে এই দুই শিল্পীকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও বাস্তবে তাঁদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। শান্তিনিকেতনে শিক্ষা শেষে তিনি ডিপ্লোমা অর্জন করেন। শান্তিনিকেতনে তিনি সংগীতের পাশাপাশি এসরাজ, তবলা ও সেতারের মত বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন। এরপর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি ১৯৪৪ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বি.এ এবং পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৪৬ সালে সুচিত্রা দেবী অত্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশুদ্ধতার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান এবং তাঁর দর্শন শেখানোর জন্য দ্বিজেন চৌধুরীর সঙ্গে যৌথভাবে ‘রবিতীর্থ’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত গবেষক এবং অধ্যাপক কালিদাস নাগ ‘রবিতীর্থ’ নামটি দেন। রবিতীর্থের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির উন্নতিতে আজীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সুচিত্রা মিত্র ছিলেন রবীন্দ্র সংগীতের একজন প্রবক্তা ও ব্যাখ্যাকার। তিনি দেশে ও বিদেশে সর্বস্তরের মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথের গানকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও হাঙ্গেরিতেও সংগীত পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের গান ও ভাবধারা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৪৯ সালের ‘সন্দীপন পাঠশালা’ চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। এছাড়া তাঁর সুদীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি আরও কিছু চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন। ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি’, ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’, ‘তবু মনে রেখো’, ‘আকাশ হতে খসল তারা’, ‘বড় বিস্ময় লাগে’, ‘একা মোর গানের তরী’, ‘আমি পথভোলা এক পথিক’ – গানগুলিতে সুচিত্রা মিত্রের অসাধারণ অসাধারণ কণ্ঠ ও গায়কী শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল। জনসাধারণের মধ্যে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সুচিত্রা মিত্রের অবদান অবিস্মরণীয়। ওস্তাদ আমজাদ আলী খান রবীন্দ্রসংগীতের জগতে সুচিত্রা মিত্রকে তাঁর অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সুচিত্রা মিত্র ছিলেন একজন প্রতিবাদী ব্যক্তি। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন। পরবর্তীকালে বামপন্থী সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন (IPTA)-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তাঁর সংগীত জীবনের যাত্রাপথে তিনি নিয়মিত গণনাট্য সংঘ, কফি হাউস বা ধর্মতলায় বামপন্থী শিল্পী-সাহিত্যিকদের আড্ডায় ও মিছিলে যোগদান করতেন। শম্ভু মিত্র, বিজন ভট্টাচার্য, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্যতা ছিল। তিনি গণনাট্য সংঘের বিভিন্ন সভা, শোভাযাত্রা ও গণসংগীতের অনুষ্ঠানে নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান গেয়ে মানুষের মনে প্রতিবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতেন।

সংগীত ছাড়াও ছোটগল্প, কবিতা, ছড়া রচনা, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা, চলচ্চিত্রে অভিনয়, চিত্রাঙ্কনে তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীত চর্চার পাশাপাশি অভিনয়ও করতেন। ‘মায়ার খেলা’, ‘চিরকুমার সভা’, ‘মুক্তধারা’, ‘বিসর্জন’, ‘তপতী’, ‘নটীর পূজা’ নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনাট্য ‘বাল্মীকি প্রতিভা’ য় সুচিত্রা মিত্র গান গেয়েছিলেন ও অভিনয় করেছিলেন। সুচিত্রা মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেশ কিছু বিখ্যাত নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেছিলেন। এছাড়া IPTA-এর বহু নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে নির্মিত উমাপ্রসাদ মৈত্রের পরিচালিত ছবি ‘জয় বাংলা’ ছবিতে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের বিখ্যাত জননেত্রী বেগম সুফিয়া কামালের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন। মৃণাল সেনের ‘পদাতিক’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। আবার বিষ্ণু পালচৌধুরীর ‘আমার নাম বকুল’ ধারাবাহিকের একটি পর্বে সুচিত্রা মিত্রের অভিনয় সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। বড় পর্দায় তিনি শেষবারের মতো কাজ করেন ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘দহন’ সিনেমায়। তবে পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ এই ছবিতে তাঁকে না জানিয়ে তাঁর কণ্ঠস্বর ডাবিং করানোয় তিনি ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন।

রবীন্দ্রসঙ্গীতের ইতিহাস ও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত সৃষ্টির বিবর্তন নিয়ে সুচিত্রা মিত্র রচনা করেছেন ‘রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতজীবন’। রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষার্থী ও শিল্পীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। সংগীত ও নিজের জীবনভাবনার উপর ভিত্তি করে তিনি রচনা করেন ‘ছিন্নপাতার ভিন্ন সুচিত্রা’। তিনি নিজের জীবনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘আমার না বলা কথা’ নামক একটি আত্মজীবনীমূলক বই লিখেছিলেন। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য ‘রতনপুরের রহস্য’, ‘খেয়াল খুশি’, ‘গুড়ের পুতুল’ রচনা করেন। তিনি নিজের জীবনের শেষ পর্বে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের তত্ত্ব, কৌশল ও নন্দনতত্ত্বের মতো বিষয়গুলি নিয়ে প্রবন্ধ রচনা করেন। নিজের জীবনের শেষ পর্বে তিনি ছাত্র ও গবেষকদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের একটি বিশ্বকোষ সংকলন করার চেষ্টা করছিলেন।

পঙ্কজ মল্লিকের পর সুচিত্রা মিত্র আকাশবাণীর ‘সংগীত শিক্ষার আসর’-এ সংগীত প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতেন। তিনি এই আসরে বেতারের মাধ্যমে সরাসরি রবীন্দ্রসংগীতের শুদ্ধ উচ্চারণ, স্বরলিপি এবং সঠিক টেকনিক শেখাতেন। তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন এবং রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান ছিলেন। এখান থেকে ১৯৮৪ সালে অবসর নেন। তাঁর অনুপ্রেরণায় তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পকলায় দক্ষতা অর্জন করেছিল। তিনি ২০০১ সালে কলকাতার প্রথম মহিলা শেরিফ হন। কলকাতার শেরিফ মূলত একটি সম্মানসূচক ও অরাজনৈতিক পদ। শহরের কোনও বিশিষ্ট নাগরিককে এক বছরের জন্য এই সম্মানে ভূষিত করা হয়।

সুচিত্রা মিত্রকে রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতম বহুমুখী শিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সুচিত্রা মিত্রকে রবীন্দ্রসংগীতের ‘সোনালি চতুষ্টয়’ বলা হয়। তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন। ১৯৪৫ সালে তিনি লন্ডন টেগোর হাইম সোসাইটি থেকে ‘টেগোর হাইম’ পুরস্কার পেয়েছেন। সংগীত জগতে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৭৪ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৮৬ সালে তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘সংগীত নাটক একাডেমি’ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি হিজ মাস্টার্স ভয়েস গোল্ডেন ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড, এশিয়ান পেইন্টস থেকে শিরোমনি পুরস্কার, বিশ্বভারতী থেকে দেশিকোত্তম ,পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে আলাউদ্দিন পুরস্কার পেয়েছেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করেছে। তিনি কলকাতার ‘টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউশন’ থেকে ‘রবীন্দ্র-তত্ত্বাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে একাধিক জীবনীমূলক তথ্যচিত্র তৈরি করা হয়। ১৯৮৯ সালে সুব্রত ঘোষ ‘সুচিত্রা মিত্র….দ্য আদার ডকুমেন্টারি’ নামে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ১৯৯৩ সালে রাজা সেন পরিচালিত ‘সুচিত্রা মিত্র’ শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। রবীন্দ্রদর্শনের আলোকে সুচিত্রা মিত্রের শিল্পীসত্তা ফুটিয়ে তোলার জন্য এই তথ্যচিত্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি কলকাতায় সুচিত্রা মিত্রের মৃত্যু হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading