জগন্নাথের মাসির বাড়ি মানেই সেখানে গিয়ে দেদার জিলিপি পাঁপড়। এক সপ্তাহ হুল্লোড় করে উল্টোরথের দিন নিজের বাড়ি ফেরা।কিন্তু এমন এক জায়গা রয়েছে এই বাংলাতেই যেখানে গত ৬০০ বছরে জগন্নাথ একদিনের জন্যেও মাসির বাড়ি যায়নি।
হাওড়ার বাঁদুরি পরিবারের জগন্নাথ রথের দিনেও মাসির বাড়ি যায়না।পরিবারের ৬০০ বছরের রীতি বাঁদুরি পরিবারে জগন্নাথ দেব, রথের দিন বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেলা ঘুরে আবার নিজের বাড়ি ফিরে আসে।পরিবারের প্রথম পুরুষ সূর্য কুমার বাঁদুরি এই রথযাত্রার প্রচলন করেন।
পরিবারের সদস্যদের মতে আজ থেকে ৬০০ বছর আগে , হাওড়ার জলাজঙ্গলে ভরতি অঞ্চলে আনন্দ উৎসবের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল না।বাঁদুরি পরিবারের সদস্য ও এলাকার মানুষের আমোদ প্রমোদের জন্যই এই রথযাত্রার প্রচলন বলে মনে করা হয়।রথের গায়ের চিত্র বেশ আকর্ষণীয়। সেখানে জগন্নাথ দেবের সঙ্গেই স্থান পেয়েছেন শিব, রাধা-কৃষ্ণ। সঙ্গে আবার ইংরেজদের জমানার ফিরিঙ্গিদের ঘোড়ার ছোটানো সাহেবের ছোট ছোট মূর্তির দেখা মেলে রথের গায়ে।
বাঁদুরি পরিবারের জগন্নাথ দেবের কোনও ‘মাসি-পিসি’ নেই। বিকেল বেলা রথ বেড়িয়ে বেলিলিয়াস রোডের আশুবোস লেন অবধি ঘুরে আবার চলে আসে কদমতলার বাড়িতেই।পরিবারের মতে, তাঁদের জগন্নাথ দেবের কোনও মাসির বাড়ি নেই। একটাই ঘর একটাই বাড়ি। তাই রথের দিন বিকেলে ঢাক ঢোল সমারোহে বাঁদুরিদের রথ যাত্রা শুরু করে রথ চ্যাটার্জি পাড়া হয়ে মাকড়দহ রোড ধরে ফিরে আসে বাড়িতে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান