বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে হলে যে কয়েকজন চিত্রপরিচালকের নাম অনিবার্যভাবেই উঠে আসে তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন চাষী নজরুল ইসলাম (Chashi Nazrul Islam)। বাংলাদেশে ‘চাষী ভাই’ নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি। গভীর সামাজিক চিন্তা ও দর্শন তাঁর সিনেমার অন্যতম সম্পদ। তিনি কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি করা নজরুল ইসলামের সিনেমাটিই ছিল এই বিষয়ের উপর নির্মিত প্রথম সিনেমা। সিনেমায় আসার আগে নাট্যদল এবং রেডিওতেও অনেক কাজ করেছিলেন তিনি। একাধিকবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তো ভূষিত হয়েইছেন, এছাড়াও একুশে পদক দ্বারা তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছিল৷ বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদও তিনি সামলেছিলেন। প্রায় ত্রিশটি চলচ্চিত্রের নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম।
১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর অবিভক্ত বাংলাদেশের বিক্রমপুর জেলার (বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলা ) শ্রীনগর উপজেলার সমশপুর গ্রামে চাষী নজরুল ইসলামের জন্ম হয়। তাঁর বাবার নাম মোসলেহ উদ্দিন খান এবং মা শায়েস্তা খানম। মোট চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নজরুল ইসলাম ছিলেন সবচেয়ে বড়। তাঁর বাবা মোসলেহ উদ্দিন জামশেদপুরে টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানিতে একজন সার্ভিস হোল্ডার ছিলেন। মোসলেহ উদ্দিনের ইচ্ছেও ছিল তিনি ছেলেকেও টাটা কোম্পানির একজন ইঞ্জিনিয়ার করবেন।
চাষী নজরুল ইসলামের নামকরণ নিয়ে একটি গল্প রয়েছে। নজরুলের মামা চাষী ইমামউদ্দিন বিখ্যাত এ.কে ফজলুল হকের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করতেন। এছাড়াও ইমামউদ্দিন ‘নবযুগ’ এবং ‘লাঙল’ নামের দুটি পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। সেই ফজলুল হকই নাকি ইমামউদ্দিনের নাম থেকে ‘চাষী’ শব্দটি নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামের সঙ্গে জুড়ে মাত্র তিন মাস বয়সের শিশু চাষী নজরুল ইসলামের নামকরণ করেছিলেন। তিন মাসের নজরুল ইসলাম আসলে মা এবং মামার সঙ্গে জামশেদপুরে বাবার কাছে যাচ্ছিলেন, পথে কলকাতায় ফজলুল হকের বাসায় এই নামকরণের ঘটনাটি ঘটেছিল।
নজরুল ইসলাম সেই যে ছোটবেলায় জামশেদপুরে চলে গিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁর শৈশবজীবনের অনেকখানি কেটে গিয়েছিল। টানা চারবছর তাঁরা সেই জামশেদপুরেই ছিলেন। তবে এরপরেই তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরে আসে। তাঁদের গ্রামের বাড়ির সামনে বিস্তীর্ণ এক খোলা মাঠের কিছু অংশে একটি পারিবারিক হাট বসত, লোকে তাকে হাটখোলা বলত। তারই পাশে ছিল এক প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেটি নজরুল ইসলামের মামা চাষী ইমামউদ্দিনেরই তৈরি করা। সেখানেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন নজরুল। দ্বিতীয় শ্রেণিতে যখন তিনি উঠলেন, তাঁর বাবা আবার তাঁকে জামশেদপুরে নিয়ে চলে যান৷ সেখানে তাঁর বাবারই প্রতিষ্ঠা করা বেঙ্গল মুসলিম স্কুলে ভর্তি হন তিনি এবং সেই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর গোলামুড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা করার পর আরডি টাটা হাইস্কুল থেকে একাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হন।
নজরুলের পড়াশোনার ঠিক এই সময়টিতে তাঁর বাবা গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবুও তিনি চাননি সবাই বিক্রমপুরে ফিরে আসুক এবং মোসলেহ উদ্দিন জামশেদপুরেই স্থায়ীভাবে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন ও ভেবেছিলেন সেই টাটা কোম্পানিতেই নজরুলের এক চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু নজরুলের মা এতে সায় দেননি, ফলে তাঁরা বিক্রমপুর ফিরে আসেন। জামশেদপুর ছেড়ে এলেও নজরুলের স্মৃতিতে জামশেদপুর জীবনের স্মৃতি শেষদিন পর্যন্তও অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছিল।
নজরুল নিজের মধ্যে দিলীপকুমারের মতো একজন নায়ক হওয়ার স্বপ্ন লালন করতেন। প্রায়শই নিজের বই বিক্রি করে, কখনও বা বন্ধুদের বই চুরি করার পর তা বিক্রি করে দিয়ে যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে সিনেমা দেখতেন। পাড়ায় এবং স্কুলের নাটকে অংশগ্রহণ করে তাঁর সেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নই আরও প্রবল হয়ে উঠতে থাকে। দেখতে তো তিনি সুদর্শন ছিলেনই, সেইসঙ্গে তাঁর অভিনয়ও ছিল নজরকাড়া। টাটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে.কে রায় তাঁর অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। সিনেমায় অভিনয় করার তাগিদ এমনই তীব্র হয়ে উঠৈছিল তাঁর, যে একদিন মায়ের হাতের বালা চুরি করে দুজন বন্ধুর সঙ্গে বোম্বে পালিয়ে গিয়েছিলেন। দুদিন পরেই বন্ধু দুটি সরে পড়লেও নজরুল নিজের জায়গায় অটল ছিলেন। সিনেমার কিংবদন্তি নাম মীনাকুমারীর সঙ্গে দেখা করবার আশায় বোম্বেতে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। একদিন সত্যিই যখন মীনাকুমারীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়, তিনি নজরুলকে বলেন সে এখনও বয়সে ছোট এবং কথা দেন চাষী এম.এ পাশ করতে পারলে তাঁকে হিরো বানাবেন। তবে নজরুল যখন চিত্রপরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ততদিনে মীনাকুমারীর মৃত্যু হয়েছিল।
অসুস্থ অবস্থায় নজরুলের বাবা এবং তাঁর পরিবার বিক্রমপুরে ফিরে আসেন কিন্তু খুব বেশিদিন তিনি বাঁচতে পারেননি। অল্পদিনের মধ্যেই নজরুলের বাবার মৃত্যু হয়। তখন নজরুলের বয়স ষোল-সতেরো বছর মাত্র। সেই অল্প বয়সেই সবচেয়ে বড় সন্তান হওয়ার কারণে সংসারের ভার এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। বরিশালে চাকরির খোঁজে গিয়ে এক আত্মীয়ার বাড়ি কিছুদিন থেকেওছিলেন। সেসময় ঢাকা থেকে তাঁর মামা ইস্ট পাকিস্তানের একাউন্টেন্ট জেনারেল এএস হাফিজুল্লা চিঠি পাঠিয়ে জানান একটি চাকরি খালি রয়েছে। এজি অফিসের পোস্ট-সর্টারের কাজ। দীর্ঘদিন সেই অফিসে কাজ করেছিলেন নজরুল। তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গেও যোগসূত্র বজায় রেখেছিলেন। বেশিরভাগ সময়তেই অফিস ফাঁকি দিতেন তিনি, কেবল সই করে বেরিয়ে পড়তেন। ঢাকায় নাটক করে বেড়াতেন।
তাঁর শ্যালক সৈয়দ আওয়াল ছিলেন বিখ্যাত চিত্রপরিচালক ফতেহ্ লোহানীর প্রধান সহকারী৷ চাষী কিন্তু সেই শ্যালকের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি আলি মনসুর সাহেবের নাট্য সংগঠন কৃষ্টি সংঘের সঙ্গে যুক্ত হন এবং নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করতে থাকেন।
শ্যালক জানতেন যে নজরুলের সিনেমার প্রতি অদম্য ঝোঁক রয়েছে, সেই কারণে সৈয়দ আওয়াল একদিন নজরুলের সঙ্গে ফতেহ লোহানীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন৷ এই পরিচয় নজরুলের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। লোহানী পরিচালিত ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আসিয়া’ চলচ্চিত্রে একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নজরুল ইসলাম। অভিনয়ের পরে ক্যামেরার পিছনের কাজে চলে যান নজরুল। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওবায়দুল হক পরিচালিত ‘দুই দিগন্ত’ সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে তিনি একপ্রকার লাইমলাইটে এসেছিলেন। সিনেমার কাজের পাশাপাশি ১৯৬৫ সালে তিনি রেডিওতেও কাজ শুরু করেছিলেন। ‘রামের সুমতি’, ‘সক্রেটিস’, ‘সখিনা বীরাঙ্গনা’র মতো বেতার নাটকে নজরুল কন্ঠ দিয়েছেন এবং একইসঙ্গে এগুলির পরিচালনার কাজও করেছিলেন।
এরপরই ক্রমে ক্রমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া উত্তপ্ত হতে শুরু করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছিল চতুর্দিকে। চাষী নজরুল ইসলামও সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধ শেষ হলে এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলে চাষী নজরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই ‘ওরা এগারোজন’ (১৯৭১) নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এককভাবে নজরুল ইসলামের প্রথম চলচ্চিত্র এটি এবং উল্লেখ্য মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি প্রথম সিনেমাও এটি। এই ছবিতে যে এগারোজন মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো হয়েছে তাঁরা কেউ অভিনেতা নন বরং সত্যিকারেরই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ছবিটি দারুণভাবে ব্যবসাসফল হয়েছিল এবং সমালোচকদের অকুন্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছিল।
এরপর একে একে তিনি ‘সংগ্রাম’, ‘ভালোমানুষ’, ‘বাজিমাত’-এর মতো সিনেমা করেছিলেন৷ একটা সময় পর ক্লাসিক বাংলা সাহিত্য থেকেও সিনেমা তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং ১৯৮২ সালে নির্মাণ করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘দেবদাস’। এই ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রটিকে তিনি নিজেই পুনর্নিমাণ করেছিলেন ২০১৩ সালে। এটি ছিল দেবদাস চলচ্চিত্রের প্রথম রঙিন সংস্করণ। এই দ্বিতীয় দেবদাসে শাকিব খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাসের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করেছিলেন। এই সিনেমাটি তিনবার ন্যাশানাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস জিতেছিল এবং ১৬-তম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের একটি বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে নজরুল শরৎচন্দ্রেরই আরেকটি রচনা অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন ‘শুভদা’। এই শুভদা চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সেরা পরিচালক হিসেবে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। কেবল শরৎচন্দ্রই নয়, রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘সুভা’ নিয়ে সেই একই নামের একটি সিনেমাও তিনি নির্মাণ করেছিলেন। সাহিত্য নিয়ে তাঁর কাজের তালিকা এখানেই শেষ নয়। চাষী নজরুল ইসলামের জীবনের এবং বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সেলিনা হোসেনের সেই একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করেছিলেন তিনি। ব্যাপকভাবে প্রশংসিত এই সিনেমাটির জন্য দ্বিতীয়বার সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন নজরুল। এখানে উল্লেখ্য যে, সেলিনা হোসেনের এই উপন্যাসটি থেকে বিশ্ববরেণ্য চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়ও সিনেমা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সত্যজিৎ-এর মৃত্যুর পর চাষী নজরুল ইসলাম এই ছবিটি তৈরি করেন। নজরুল ইসলামের ‘মেঘের পরে মেঘ’ চলচ্চিত্রটিও রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এই চলচ্চিত্রটিও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা বলে। এখানে উল্লেখ্য যে, একটি সিনেমায় বঙ্গবন্ধুকে দিয়েও অভিনয় করিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম।
তিনি কিন্তু বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যগুলিকেও তাঁর ‘বেহুলা লখিন্দর’ কিংবা ‘হাসন রাজা’র মতো চলচ্চিত্রের মধ্যে ধরে রেখেছিলেন। যেভাবে তিনি নারীত্বের চিত্রায়ন করেছিলেন, তাদের সামাজিক বন্দীদশার নিষ্ঠুর বাস্তবকে তিনি যেভাবে তাঁর সিনেমায় এক ঐতিহাসিক দলিলের মতো স্থাপন করে গেছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। মৃত্যুর পরে তাঁর যে-দুটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল সেগুলি হল: ‘অন্তরঙ্গ’ (২০১৫, ৬ ডিসেম্বর) এবং ‘ভুল যদি হয়’ (২০১৬)।
২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাষী নজরুল ইসলামকে ‘একুশে পদক’ দ্বারা সম্মানিত করা হয়েছিল। নজরুল ইসলাম চারবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেইসঙ্গে সেন্সর বোর্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রযোজনা কমিটির সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। বিএনপির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন নজরুল এমনকি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটেরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি ৭৩ বছর বয়সে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের ল্যাবেইড হাসপাতালে এই কিংবদন্তি চিত্রপরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান