সববাংলায়

২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ীদের তালিকা

নোবেল পুরস্কারকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন মানুষ। সুইডিশ রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের নামে এই পুরস্কারটি নামাঙ্কিত। ১৯০১ সাল থেকে অনন্য সাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য এই পুরস্কারটি প্রদান করে আসছে সুইডিশ আকাদেমি। উন্নতমানের গবেষণা, আবিষ্কার এবং মানবকল্যাণমূলক কাজকে এই পুরস্কার স্বীকৃতি জানায়। প্রথমদিকে মোট পাঁচটি বিষয় অর্থাৎ রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য এবং শান্তি-র জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হত। কিন্তু ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবার জন্যও নোবেল দেওয়া শুরু হয় এবং এর নাম দেওয়া হয় ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল (The Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Noble)। কখনও একক ব্যাক্তি, কখনও দুজন যৌথভাবে আবার কখনও তিনজন ব্যাক্তি একত্রেও নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন। একাধিক ব্যাক্তি নোবেল পুরস্কার পেলে সেক্ষেত্রে পুরস্কারের প্রদত্ত অর্থ পরস্পরের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়।

এখানে ২০২৫ সালের নোবেল বিজয়ীদের তালিকা ও কোন কৃতিত্বের জন্য তাঁরা নোবেল পেলেন তা উল্লেখ করা হল—

পদার্থবিদ্যায় নোবেল

২০২৫ সালে পদার্থবিদ্যায় যুক্তরাজ্যের জন ক্লার্ক (John Clarke), ফ্রান্সের মিশেল এইচ. ডেভোরে (Michel H. Devoret) এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জন এম. মার্টিনিস (John M. Martinis) — একত্রে নোবেল পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় ছিল বৈদ্যুতিক সার্কিটে ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম টানেলিং (macroscopic quantum tunnelling) এবং শক্তির কোয়ান্টাইজেশন (energy quantisation) প্রদর্শন। তাঁদের আবিষ্কার কোয়ান্টাম প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে — যার মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি, কোয়ান্টাম কম্পিউটার এবং কোয়ান্টাম সেন্সর।

রসায়নবিদ্যায় নোবেল

২০২৫ সালে রসায়নবিজ্ঞানে জাপানের সুসুমু কিতাগাওয়া (Susumu Kitagawa), অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড রবসন (Richard Robson) এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওমর এম. ইয়াঘি (Omar M. Yaghi) একত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁদের গবেষণার মূল বিষয় ছিল ধাতব-জৈব ফ্রেমওয়ার্ক (Metal–Organic Frameworks [MOFs]) তৈরি করা। মেটাল–অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্ক মরুভূমির বাতাস থেকে জল সংগ্রহ করতে, কার্বন ডাই–অক্সাইড আটকাতে, বিষাক্ত গ্যাস সঞ্চয় করতে অথবা রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল

২০২৫ সালে চিকিৎসাশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আমেরিকার মেরি ই. ব্রাঙ্কো (Mary E. Brunkow), ফ্রেড র‍্যামসডেল (Fred Ramsdell) এবং জাপানের শিমোন সাকাগুচি (Shimon Sakaguchi) একত্রে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁদেরকে শরীরের পার্শ্বীয় (পেরিফেরাল) রোগপ্রতিরোধ সহনশীলতা সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাঁদের আবিষ্কার এক নতুন গবেষণা ক্ষেত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছে — যেমন ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা।

সাহিত্যে নোবেল

২০২৫ সালে সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নোবেল পেয়েছেন হাঙ্গেরির লাসলো ক্রাসনাহোরকাই (László Krasznahorkai)। তাঁর সাহিত্যকর্মে অ্যাপোক্যালিপটিক সন্ত্রাসের মাঝে শিল্পের শক্তিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি মধ্য ইউরোপীয় পরম্পরার একজন মহাকাব্যিক লেখক, যা কাফকা থেকে থমাস বার্নহার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।

নোবেল শান্তি পুরস্কার

২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রচারে তাঁর অক্লান্ত কাজের জন্য এবং স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সংগ্রামের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। নোবেল কমিটি তাঁকে লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম অসাধারণ নাগরিক সাহসের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছে।

অর্থনীতিতে নোবেল

২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন নেদারল্যান্ডের জোয়েল মোকির (Joel Mokyr), ফ্রান্সের ফিলিপ আগিওন (Philippe Aghion), এবং কানাডার পিটার হোয়িট (Peter Howitt)। তাঁরা সম্মানিত হয়েছেন উদ্ভাবন-ভিত্তিক অর্থনৈতিক-বৃদ্ধি বিষয়ক গবেষণার জন্য।
এর মধ্যে, জোয়েল মোকির পেয়েছেন পুরস্কারের অর্ধেক অংশ। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক-বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে। তাঁর গবেষণা ইউরোপের অর্থনৈতিক ইতিহাসে (১৭৫০–১৯১৪) প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ করে। ফিলিপ আগিওন ও পিটার হোয়িট ভাগ করে নিয়েছেন পুরস্কার মূল্যের বাকি অর্ধেক। তাঁরা “Creative Destruction” তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে নতুন উদ্ভাবন পুরনো প্রযুক্তিকে প্রতিস্থাপন করে এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. https://www.nobelprize.org/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading