সব

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়ে ভারত তথা বাঙ্গালীর মুখ উজ্জ্বল করলেন বঙ্গ সন্তান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।অভিজিৎ বাবু বর্তমানে ব্যুরো রিসার্চ ইন ইকোনমিক অ্যানালাইসিস অফ ডেভলপমেন্টের একজন সদস্য, সি.বি.আর, সি.ই.পি.আর এবং আমেরিকান একাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের সহযোগী।এছাড়াও তিনি ইকোনোমেট্রিক সোসাইটির সদস্য গুগেনহাইম ফেলো এবং একটি আলফ্রেড পি ফেলো, স্লোয়ান ফেলো এবং ইনফসিস পুরষ্কারের বিজয়ী।লিখেছেন চারটি বই। “বিশ্ব দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং তার পরীক্ষামূলক পদ্ধতি” এই বিষয়ে গবেষণার জন্য তিনি এবং তাঁর স্ত্রী এস্থার ডুফ্লো এবং মাইকেল ক্রেমার অর্থনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগে ২০১৯ সালের নোবেল স্মৃতি পুরষ্কার ভাগ করে নিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মাত্র তিন জন অশ্বেতাঙ্গ অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন। তারমধ্যে ৩ জনই বাঙালি, এবং যারমধ্যে দুজন ভারতীয়। ১৯৯৮ সালের পর আবার অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন কোন ভারতজাতক।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৬১ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষাদিবসের দিন ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন ভারতীয়-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ। বাবা প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান এবং বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবা বাঙালি হলেও মা মারাঠি নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় পাটঙ্কর। নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় সামাজিক বিজ্ঞান কেন্দ্রের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন।

অভিজিৎ বাবু সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে তিনি ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় (স্নাতক – ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১) তখন সেই কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ছিলেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে, অভিজিৎবাবু ১৯৮৩ সালে দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে এম.এ. পাস করেন। জেএনইউর তৎকালীন উপাচার্য পিএন শ্রীবাস্তবকে ‘ঘেরাও’ করে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের মধ্যে তিনিও ছিলেন এবং তিনি গ্রেপ্তার হয়ে তিহার কারাগারে আটক ছিলেন যদিও পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাতিল করা হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে “ইনফরমেশন ইকোনমিক্স-এ রচনা” নামক ডক্টরাল থিসিসের উপর তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অভিজিৎ বাবু তিহারের প্রথম প্রাক্তন বন্দী যিনি নোবেল পুরষ্কার পেলেন এবং সম্ভবত এটিই শেষবার।

বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে ফোর্ড ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক।তাঁর সবথেকে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের মধ্যে পড়ে ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জয়। এছাড়াও আরও অনেক পুরস্কার তিনি পান। তাঁর কাজ উন্নয়ন অর্থনীতিতে ফোকাস করে। তিনি ২০০৪ সালে আমেরিকান কলা ও বিজ্ঞান একাডেমির সহযোগী নির্বাচিত হয়েছিলেন। অর্থনীতির সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে তিনি ইনফোসিস পুরস্কার ২০০৯ ফেলো ভূষিত হন। তিনি সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ (অর্থনীতি) বিভাগে ইনফোসিস পুরস্কারেরও প্রাপ্ত। ২০১২ সালে, তিনি দরিদ্র অর্থনীতি বইয়ের জন্য সহ-লেখক এস্থার ডুফ্লোর সাথে জেরাল্ড লয়েব পুরষ্কারে সম্মানিত হন। ২০১৩ সালে, তাকে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বান কি-মুন দ্বারা বিশেষজ্ঞের একটি প্যানেলের সদস্য হিসেবে ২০১৫-এর পরে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা আপডেট করার কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে, তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনমির জন্য কিয়েল ইনস্টিটিউট থেকে বার্নহার্ড-হার্মস-পুরষ্কার পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে, তিনি ভারতের সামাজিক নীতি পুনর্নির্মাণের রফতানি-আমদানি ব্যাংক বিতরণ ব্যবস্থার ধারণা সম্পর্কে পরিকল্পনার কথা একটি বক্তৃতায় ব্যক্ত করেন। তিনি দরিদ্র অর্থনীতি (www.pooreconomics.com) সহ প্রচুর নিবন্ধ এবং চারটি বই লিখেছেন। তাঁর মধ্যে একটি বই ‘সেরা গোল্ডম্যান শ্যাশ বিজনেস বুক’ খেতাব জিতেছে। তিনি আরও তিনটি বইয়ের সম্পাদক এবং দুটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম পরিচালনা করেছেন। তিনি মার্কিন-সেক্রেটারি-জেনারেল-এর উচ্চ-স্তরের প্যানেল ভুক্ত সদস্য। তিনি ভারতের আসন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পলকশা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উপদেষ্টা বোর্ডেও কাজ করছেন।এস্থার ডুফলো সহ-রচিত তাঁর নতুন বই “হার্ড টাইমস ইন গুড ইকোনমিকস” অক্টোবরে ২০১৯ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি দারিদ্র্য বিষয়ক অ্যাকশনের জন্য উদ্ভাবনের গবেষণা অধিদপ্তর এবং আর্থিক ব্যবস্থা ও দারিদ্র্য বিষয়ক কনসোর্টিয়ামের সদস্য।

২০০৩ সালে তিনি এস্থার ডুফ্লো এবং সেন্দিল মুল্লাইনাথনকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুল লতিফ জামিল দারিদ্র্য অ্যাকশন ল্যাব (জে-পাল) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ঐ ল্যাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক হিসাবে রয়েছেন। এই আব্দুল লতিফ জামিল দারিদ্র্য অ্যাকশন ল্যাব (জে-পাল)-এর মূল কাজ হল অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা। এর মধ্যে ছিল ভারতের মত দেশের দারিদ্র নিরসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। এই গবেষণার মুখ্য বিষয়, শুধুমাত্র কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণকে সার্বিকভাবে ধ্রুবক না মেনে, প্রতিটি ফ্যাক্টরকে আলাদা অর্থনীতির নির্নায়ক ভূমিকা হিসেবে দেখে তাকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে প্রতিটি ফ্যাক্টরের নিরসনের জন্য পরিকল্পিত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সেই কাজকেই ২০১৯ সালে সম্মান দিল সুইডিস নোবেল কমিটি।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্ম সার্ধ শতবর্ষ



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন