শিল্প-সাহিত্য

আনন্দরাম বড়ুয়া

একেবারেই অজানা একটি নাম আমাদের কাছে।মাথা নত করে দেওয়া পাণ্ডিত্যের অধিকারী আসামের এই মানুষটিকে নিয়ে বাংলায় লেখালিখি যেমন কম তেমন কম এনার অতিমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রচার।আসুন আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিই ভারতের পঞ্চম ও অসমের প্রথম আইসিএস আনন্দরাম বড়ুয়ার সাথে।

আনন্দরাম বড়ুয়ার জন্ম ২১ মে ১৮৫০, উত্তর গুয়াহাটির রাজাদুয়ার গ্রামে। পড়াশোনা গুয়াহাটি সরকারি সেমিনারি স্কুলে (বর্তমানে যার নাম কটন কলিজিয়েট স্কুল)।  পনেরো বছরে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। মাত্র উনিশ বছরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে(প্রথম স্থান অধিকার করে) ইংল্যান্ড পাড়ি দেন।

স্যর গুরুদাস(কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য)আনন্দরাম সম্পর্কে বলেছিলেন, “ ১৮৬৫ তে প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে যত ছাত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এসেছিল, আনন্দরাম তাদের মধ্যে সবথেকে মেধাবী ছিল।”

১৮৭২ সিভিল সার্ভিস পাশ করেন পঞ্চম ভারতীয় ও প্রথম অসমীয়া হিসেবে।বয়স তখন সবে বাইশ। তিনিই প্রথম ভারতীয়, যিনি সম্পূর্ণ একটি জেলার দায়িত্বে ছিলেন।

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ইনি এমন একটি কাজ করে ফেললেন যার ব্যাপ্তি দেখলে চোখ কপালে উঠে যায়। লিখলেন ‘হায়ার স্যান্সক্রিট গ্রামারজেন্ডার অ্যান্ড সিনট্যাক্স’ প্রতিটি হাজার পাতায় বারোটি খণ্ড। অক্সফোর্ডের কৃতী ছাত্র আনন্দরাম বড়ুয়া ২৭ বছরে ইংরেজি-সংস্কৃত অভিধানের প্রথম খণ্ড প্রকাশ করলেন, ম্যাক্সমুলার যার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।এছাড়াও লিখেছেন এনসিয়েন্ট জিওগ্রাফি অব ইন্ডিয়া, ধাতুবৃত্তিসার, মহাবীরচরিত, সরস্বতীকান্থবর্ণ, নমলিঙ্গানুশাসন

১৯শে জানুয়ারি, ১৮৮৯-এ মাত্র ৩৮ বছরে মারা যান আনন্দরাম।

২০০৫ সালে আসাম সরকার ওনার নামে উচ্চমাধ্যমিকের কৃতি ছাত্রছাত্রীদের ‘আনন্দরাম বড়ুয়া অ্যাওয়ার্ড’ এর ব্যবস্থা করে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সাল থেকে তাঁর নামে পদক চালু করেছে। অমলেশ দাশগুপ্ত ও স্বপন সাহা ওনাকে নিয়ে ‘আনন্দরাম বড়ুয়া— আ ফোররানার অব মডার্ন অসম’ নামে একটি তথ্যচিত্র  বানিয়েছেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!