সববাংলায়

ঘুড়ি ওড়ে কীভাবে

ভো কাট্টা। শুনলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে খুঁজে বেড়াই কার ঘুড়ি কাটলো। এমন অভিজ্ঞতা কম বেশি সকলেরই আছে। বিশেষ করে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ঘুড়ির লড়াই উপভোগ করে আপামর বাঙালি। কিন্তু আকাশে নানা রঙের এই ঘুড়ি ওড়ে কীভাবে? আজ আমরা জেনে নেব আকাশে ঘুড়ির ওড়ার পিছনে বিজ্ঞানের নীতি নিয়ম।

ঘুড়ি বাতাসের থেকে ভারী অথচ অনেক উঁচুতে উড়তে পারে । ঠিক যেভাবে এরোপ্লেন ওড়ে অনেকটা সেরকম ভাবেই বিভিন্ন বল ও চাপের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে ঘুড়ি ওড়ে। ঘুড়ি যখন ওড়ে তখন সাধারণত চতুর্মুখী বল কাজ করে – ঊর্ধ্বমুখী বল (lift), ঘাত (thrust), নিম্নমুখী বল (gravitational force), বায়ুর টান (drag)। এই চতুর্মুখীবল কীভাবে কাজ করে এবং সেই বলের ফলে ঘুড়ি কীভাবে ওড়ে তার বিশদে ব্যাখ্যা নিচে করা হল। সহজে বোঝার জন্য ছবিটি ভাল করে দেখুন এবং তারপর বাকি অংশ পড়ুন।

ঘুড়ি ওড়ার ব্যাখ্যা

সুতোর টান, ঘুড়ির ওজন, বাতাসের উর্ধমুখী বল ও ঘাত এরা একসঙ্গে কাজ করে ঘুড়িকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখে। ঘুড়ির বিশেষ আকার ও কোণ করে ওড়ার জন্য বায়ুর গতি ঘুড়ির উপরে বেশি হয়। তুলনামূলক ভাবে ঘুড়ির ঠিক নীচে বায়ুর বেগ কম হয়। বার্নৌলির (Bernoulli) নীতি অনুযায়ী বায়ু প্রবাহের বেগ বেশি হলে চাপ কম হবে এবং বেগ কম হলে চাপ বেশি হবে। তাই ঘুড়ির নীচের দিকে বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী বল কাজ করে এবং ঘুড়িকে উপরে তুলতে থাকে। আবার ঘুড়ির নিজস্ব ভরের জন্য পৃথিবীর অভিকর্ষ বল একে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানতে থাকে যা ওজন হিসাবে ঘুড়িকে নীচে নামাতে চায়। সুতোর টানের জন্য ঘুড়ি সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা ঘাত (thurst) বল অনুভব করে। সুতোর টানের জন্য একই সঙ্গে নিচের দিকেও একটা বল কাজ করে।পাশাপাশি, ঘুড়ির সামনে পিছনে বাতাসের বেগের হেরফের ও ঘুড়ির সাথে বাতাসের ঘর্ষণের জন্য পিছনের দিকে একটা টান (drag) কাজ করে যা অগ্রগামী গতির ঠিক বিপরীতে পিছনের দিকে কাজ করে । ঘুড়ি উপরে তুলতে  হলে ঊর্ধ্বমুখী বলকে ঘুড়ির ওজনের থেকে বেশি হতে হবে। আর ঘুড়িকে বাতাসে ভালোভাবে উড়তে হলে এই চারটি বল পরস্পরের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় মাধ্যমে ঘুড়িকে প্রতিমিত (balanced) অবস্থায় রাখতে হবে অর্থাৎ এই অবস্থায় ছবিতে দেখানো lift ও gravity এবং thrust ও drag একে অপরের সমান হতে হবে।

সমগ্র ঘুড়ি ওড়ানোর পদ্ধতির সঙ্গে বাতাসের গতির বেশ ভূমিকা আছে তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এই কারণেই ঘুড়ি ওড়ানোর আগে বাতাসের গতির অভিমুখ আগে দেখে নেওয়া হয়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading