সববাংলায়

আন্তর্জাতিক নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের শূন্য সহনশীলতা দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যেই একটি হল আন্তর্জাতিক নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের শূন্য সহনশীলতা দিবস।

প্রতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি এই দিবসটি পালন করা হয়৷ যদিও এই দিনটায় কোন ছুটি ঘোষিত নেই, কিন্তু জাতিসংঘের দিক থেকে এই দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পালনীয় দিন, কারণ নারীদের যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ যা মানবাধিকারের কঠোর বিরোধিতা করে থাকে, সেই নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের মত অনুসারে ‘চিকিৎসা বহির্ভূত কোনো কারণে মহিলাদের যৌনাঙ্গের বাহ্যিক অংশের আংশিক বা পূর্ণ অপসারণ করানো হল নারীর যৌন বিকৃতিকরণ ( ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন বা সংক্ষেপে এফ জি এম)’।

যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ মেয়েদের পরবর্তী জীবনে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে। আফ্রিকাসহ মধ্য প্রাচ্যের ২৯ টি দেশে যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের প্রচলন ছিল। এছাড়া এশিয়া, লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশেও এটি প্রচলিত ছিল৷ যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত বহু মানুষের মধ্যে এখনও অবিরত রয়েছে৷
বিশ্বের প্রায় প্রতিটি ধর্মের নারীদের সঙ্গে এই যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ হয়ে থাকতে পারে৷ সমগ্র বিশ্ব জুড়ে বহু তরুণী এবং নারী এই যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ এর শিকার হয়েছে। এটি মহিলাদের মানবাধিকারকে লঙ্ঘন করে । বিশেষত ১৫ বছর বয়স বা তার কম বয়সী তরুণীদের যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ করা হয়ে থাকে৷ এটি একটি অমানবিক ও নৃশংস পদ্ধতি। এর ফলে নারীদের শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, মৃত্যুও হতে পারে। তাছাড়া শারীরিক বেদনা, অতিরিক্ত রক্তপাত, যৌনাঙ্গে সংক্রমণ, এইচআইভি, মূত্রত্যাগের সমস্যা, অস্বাভাবিক দাগ এই সমস্ত কিছুই হতে পারে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কোটি মহিলা এর শিকার হয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি বছর কমপক্ষে ৩ লক্ষ মেয়ে এই যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের শিকার হতে পারে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং এর নির্মূলের প্রচার করার প্রচেষ্টা ক্রমাগত করে চলেছে। যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের এই ধারাটি হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত আছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ব্যাপারে আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই এটি কমতে থাকবে এবং অবশেষে এটির শেষ হবে।

২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘে যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ বন্ধ করার কথা বলা হয় এবং ৬ ফেব্রুয়ারী দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের শূন্য সহনশীলতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভবিষ্যতে যাতে নারীদের যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ না হয়, সেই দিকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ। মহিলাদের যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণ এর ব্যপারটির গুরুত্ব বুঝে বিশ্বব্যাপী যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার ফলে খুব শীঘ্রই এটি নির্মূল হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading