হায়দ্রাবাদ শহরের বুকে অবস্থিত বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়াম শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং এমন একটি শিক্ষামূলক কেন্দ্র, যেখানে বিজ্ঞানের নানা বিষয়কে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক – সব বয়সের ট্যুরিস্টদের কাছেই এই জায়গাটি সমানভাবে আকর্ষণীয়, কারণ এখানে শেখা এবং আনন্দ—দুটোই একসঙ্গে পাওয়া যায়।
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়াম কোথায়
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়াম ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে নওবত পাহাড় এলাকায় অবস্থিত। এটি বিখ্যাত বিড়লা মন্দিরের খুব কাছেই অবস্থিত এবং শহরের অন্যতম পরিচিত ল্যান্ডমার্ক হিসেবে ধরা হয়।
হায়দ্রাবাদ ডেকান (নামপল্লি) রেলস্টেশন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার এবং সেকেন্দরাবাদ জংশন থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিউজিয়ামের দূরত্ব আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।
আরও পড়ুন: চারমিনার ভ্রমণ
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামের ইতিহাস
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালে। ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষা ও বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য যে বিড়লা গোষ্ঠী উদ্যোগ নিয়েছিল, তারই একটি অংশ হিসেবে এই মিউজিয়াম গড়ে তোলা হয়।
মিউজিয়ামটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারে। এখানে ধাপে ধাপে বিভিন্ন গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন প্রদর্শনী যোগ করা হয়েছে, ফলে এটি একটি আধুনিক বিজ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামে কীভাবে যাবেন
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামে যেতে হলে প্রথমে হায়দ্রাবাদ শহরে পৌঁছতে হবে। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে হায়দ্রাবাদগামী ট্রেন পাওয়া যায়। নামপল্লি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে অটো, ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ক্যাব নিয়ে খুব অল্প সময়েই মিউজিয়ামে পৌঁছানো যায়।
বিমানে গেলে কলকাতা থেকে সরাসরি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট রয়েছে। সেখান থেকে গাড়িতে প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লাগে। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস ও অটো পরিষেবাও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: হায়দ্রাবাদে নিজামদের প্রাসাদ ভ্রমণ
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামে কোথায় থাকবেন
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়াম শহরের কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় আশেপাশে থাকার জন্য অনেক হোটেল পাওয়া যায়। নামপল্লি, আবিডস, হিমায়তনগর অঞ্চলে বিভিন্ন বাজেটের হোটেল রয়েছে। এখানে থাকলে শহরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও সহজে যাওয়া যায়।
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামে কী দেখবেন
বিজ্ঞান প্রদর্শনী গ্যালারি
মিউজিয়ামের বিভিন্ন গ্যালারিতে বিজ্ঞানের নানা বিষয় হাতে-কলমে বোঝার সুযোগ রয়েছে। এখানে ইন্টারঅ্যাকটিভ মডেল ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে পদার্থবিদ্যা, বিদ্যুৎ, শক্তি, গতি ইত্যাদি বিষয় সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই অংশটি বিশেষভাবে শিক্ষামূলক।
প্ল্যানেটারিয়াম
এই কমপ্লেক্সের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল প্ল্যানেটারিয়াম। এখানে বসে আকাশ, গ্রহ-নক্ষত্র এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে অডিও-ভিজ্যুয়াল শো দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই শোগুলো পরিচালিত হয় এবং এটি ট্যুরিস্টদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ডাইনোসর ও প্রাগৈতিহাসিক অংশ
মিউজিয়ামের একটি অংশে ডাইনোসর এবং প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের মডেল ও তথ্য প্রদর্শিত হয়। এই অংশটি শিশুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগ
এখানে মহাকাশ গবেষণা, উপগ্রহ, রকেট এবং মহাবিশ্বের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। যারা জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই অংশটি বিশেষভাবে উপভোগ্য।
ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী
মিউজিয়ামের অনেক প্রদর্শনী এমনভাবে তৈরি, যেখানে ট্যুরিস্টরা নিজে হাতে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এতে শেখার বিষয়টি আরও সহজ এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: শনিবারওয়াড়া ভ্রমণ
বিড়লা সায়েন্স মিউজিয়ামে কখন যাবেন
মিউজিয়ামটি সারা বছরই খোলা থাকে। তবে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে। গরমের সময় দুপুরের পরিবর্তে সকাল বা বিকেলে গেলে ভালো।
সতর্কতা ও পরামর্শ
- মিউজিয়ামের ভিতরে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত।
- প্রদর্শনীতে রাখা জিনিসপত্রে হাত দেওয়ার আগে নির্দেশিকা দেখে নিন।
- প্ল্যানেটারিয়াম শো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী হয়, তাই আগে থেকে সময় জেনে নেওয়া ভালো।
- পুরো মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
- শিশুদের জন্য এটি শিক্ষামূলক ভ্রমণ, তাই সময় নিয়ে ঘোরা উচিত।
সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২৬
আরও পড়ুন: তাজমহল ভ্রমণ
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান