আজকের দিনে

২৭ ফেব্রুয়ারি ।। আন্তর্জাতিক মেরুভাল্লুক দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা  গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা  তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়।  সেই রকমই একটি দিবস হল আন্তর্জাতিক মেরুভাল্লুক দিবস।

প্রতিবছর ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মেরুভাল্লুক দিবস হিসেবে সমস্ত বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়ে থাকে ৷

মেরু ভাল্লুকের প্রজাতিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্য পোলার বিয়ারস ইন্টারন্যাশানাল (POLAR BEARS INTERNATIONAL) নামক একটি আন্তর্জাতিক  সংস্থা ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মেরু ভাল্লুক দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছে৷

মেরু ভাল্লুক মূলত দেখা যায় বরফাচ্ছাদিত সুমেরু অঞ্চলে। সুমেরু অঞ্চলের আদিবাসীরা নিয়মিত ভাবেই মেরু ভাল্লুক শিকার করে এবং খাদ্যরূপে গ্রহন করে থাকে। কেবল খাদ্যের জন্য নয়, মেরু ভাল্লুকের রোমশ চামড়া থেকে পোশাক ও জুতোও তৈরী করা হয়৷ মেরু ভাল্লুকের চর্বি জ্বালানি রূপে ব্যবহৃত হয় যা দিয়ে সুমেরু বাসী মানুষ ঘরে আলো জ্বালিয়ে থাকে৷ কিন্তু ভাল্লুক শিকারের জন্য মেরু ভাল্লুকের সংখ্যার ওপর ততটা প্রভাব পড়ে না। প্রভাব পড়ে যখন কয়েক শতক ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের ফলে বরফ গলে মেরু ভাল্লুকের বাসযোগ্য ভূমি কমে যায়৷ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু প্রদেশে জমে থাকা বরফের গলন শুরু হয়েছে৷ ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে৷ এর ফলস্বরূপ যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে তা হল মেরুপ্রদেশে বসবাসকারী শ্বেত ভাল্লুকের সংখ্যা কমছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এই হারে বাড়তে থাকলে একসময় মেরু ভাল্লুকের প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে৷ বিশ্ব-উষ্ণায়ন ও গ্রীন হাউস সব থেকে বেশী প্রভাব ফেলে এই মেরু অঞ্চলে আর যার ফলে প্রভাব পড়ে মেরু ভাল্লুকের উপর৷ 

বিশ্বজুড়ে সকলে যাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমায়, একটি স্বাস্থ্যময় পরিবেশ গড়ে তোলা যায় এবং মেরু ভাল্লুকের প্রজাতিকে বাস্তুতন্ত্রে বাঁচিয়ে রাখা যায় সেই উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে৷ 

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে যে পরিমান বরফের গলন শুরু হয়েছে বৈজ্ঞানিকরা আশঙ্কা করছেন এমনিভাবে চলতে থাকলে মেরু ভাল্লুকের প্রজাতি লুপ্ত হয়ে যাবে৷ অতএব বিশ্ব জুড়ে সকলে সচেতন না হলে কিছুতেই এই প্রজাতিকে বাঁচানো যাবে না৷ কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ব্যবহার কমলে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমবে এবং পক্ষান্তরে মেরু ভাল্লুক ও বাঁচবে৷ সেই উদ্দেশ্য এই দিবসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয় যা বিশ্ব-উষ্ণায়নের মানকে হ্রাস করতে সাহায্য করবে। 

তথ্যসূত্র


  1. আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় দিবসের ইতিকথা , বিমান বসু, পাতা নং- ১৮
  2. https://en.m.wikipedia.org/wiki/

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top
error: Content is protected !!

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন