সববাংলায়

পুতুলদের দ্বীপ

বিভাগঃ ,

বাচ্চাদের পুতুল নিয়ে খেলতে দেখা যায় হামেশাই। কত ধরনের পুতুল দেখা যায়। অনেকে বলে এই পুতুলদের রানী হল বার্বি।ছোট্ট মেয়েরা পুতুলকে জড়িয়ে না ধরে ঘুমোতেই পারেনা। তারা পুতুলের সাথে গল্প করে, যুদ্ধ করে আবার ঠিক সময়ে দায়িত্ব নিয়ে পুতুলের বিয়েও দেয়। আশি বছর আগের কথা। তিন মেক্সিকান শিশু পুতুলের বিয়ে দিচ্ছিল গাছে ঢাকা শীতল অন্ধকার একটি দ্বীপে। খেলতে খেলতেই তিনজনের একজন নিখোঁজ!

পরে দ্বীপের পাশের একটি খালে পাওয়া গেল মৃতদেহ। এরপর থেকে ভয়ে আর কেউ ওই দ্বীপের ত্রি-সীমানা মাড়ায়নি।

স্থানীয় ভাষায় দ্বীপটির নাম ইলসা ডে লাস মিউনিকাস, ইংরেজিতে Island of the dolls বা পুতুলের দ্বীপ। মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকো জেলায় অবস্থিত এই দ্বীপ।এই দ্বীপটি কেমন যেন গা শিউরে দেয়ার মতো।এই দ্বীপজুড়ে শুধু পুতুল আর পুতুল।এ দ্বীপকে ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত কিছু ভুতুড়ে কাহিনী। এই দ্বীপটিকে ঘিরে যেমনই রয়েছে রহস্য, তেমনই রয়েছে ভয় ।

উপরের ঘটনার আরও ৩০ বছর পরের কথা, ১৯৫০ সালের দিকে ডন জুলিয়ান সানতানা নামের এক যাজক নির্জনে তপস্যা করার জন্য দ্বীপটিকে বেছে নিয়েছিলেন।

জুলিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপটিতে আশ্রম গড়ে তোলার পর থেকে তার সঙ্গে মৃত শিশুটির আত্মার প্রায়ই কথা হয়। শিশুটির আত্মা জুলিয়ানের কাছে পুতুলের বায়না ধরে। তবে যেমন তেমন পুতুল নয়।

বীভৎস সব পুতুল চেয়ে বসে শিশুটির আত্মা- যেগুলো দেখলে মনে হবে তারা মানুষের নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে। ওই আত্মার অনুরোধেই জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন।

জঙ্গলে এনে গাছের ডালের সঙ্গে এগুলো বেঁধে রাখলেই খুশি হতো শিশুটির আত্মা। এমনিভাবে হাজার হাজার কুড়িয়ে পাওয়া কিংবা কিনে আনা পুতুল দিয়েই জুলিয়ান গড়ে তোলেন মৃত পুতুলের দ্বীপ ।

কেউ কেউ বিশ্বাস করেন,দ্বীপটিতে এখনও মৃত শিশুটির আত্মা ঘোরাঘুরি করে। মাঝে মাঝে শোনা যায় ভুতুড়ে আওয়াজ। এতসব রহস্যের কারণেই ১৯৯০ সালে মেক্সিকান সরকার এই জোকিমিলকো জেলার এই দ্বীপটিকে National Heritage ঘোষণা করে।

মেক্সিকান সরকার এই দ্বীপকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পর্যটন অঞ্চল বানানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পর্যটকরা কদাকার পুতুল দেখে বোধ হয় রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে চান না। তাই তারা কখনও আসেন না। এই দ্বীপে একেক মরসুমে বিশ-ত্রিশজনের বেশি পর্যটক কখনোই আসেননি।

এই দ্বীপের সর্বশেষ রহস্যজনক ঘটনা ঘটে ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল। ওই দিন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে সেই অপয়া খালটিতে মাছ ধরছিলেন।

সে সময় তিনি ভাগ্নেকে বলেন, ‘ভাই জলের নিচ থেকে আমাকে কারা যেন ডাকছে! তাদের কাছে যাওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করছে।’ কিছুদিন পরই ওই খাল থেকে উদ্ধার করা হয় জুলিয়ানের নিথর দেহ।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading