বিজ্ঞান

জাম্পিং স্পাইডার

সারা পৃথিবীতে মাকড়সার প্রায় ৪৩,৬৫০টি প্রজাতি পাওয়া যায়। তার মধ্যে ভালোবাসার বন্ধন সবচেয়ে বেশী যে মাকড়সা প্রজাতির মধ্যে দেখা যায় তার নাম জাম্পিং স্পাইডার।

এই জাম্পিং মাকড়সা আবার ৪,০০০টি প্রজাতির হয়ে থাকে। যার মধ্যে ৩০০টি প্রজাতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ৭৫টি প্রজাতি ইউরোপে পাওয়া যায়। তবে বিশেষ করে হিমালয়ের বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে এদের আধিপত্য বেশী।৪জোড়া চোখ সহ মাকড়সা শ্রেনীর সব বৈশিষ্ট্য বহন করলে আকারে এরা সাধারণ মাকড়সার থেকে খুবই ক্ষুদ্রাকৃতির। মাত্র ৪ থেকে ৫ মিলিমিটার। বিশ্বের সবথেকে ক্ষুদ্র মাকড়সা পুরুষ Patu digua-র (০.৩৭ মিলিমি) থেকে সামান্য একটু বড়ো। ভালোবাসা খুঁজে পাত্তয়ার জন্য চোখের দৃষ্টিতেও সুতীব্রতা থাকা প্রয়োজন; তাই ৩৬০ ডিগ্রি কোণে চোখ ঘুরিয়ে সঙ্গী সন্ধানে পটু। জাম্পিং মাকড়সাদের চোখের প্রথম স্তরেই থাকে টেপটাম (tapetum) নামক স্তর যা আলোকে প্রতিফলিত করতে  সাহায্য করে এবং সেকারণে এদের চোখ চকচক করে। ক্যামেরার জুমিং লেন্সের মতো সক্রিয় এদের চোখ দেখে নিতে পারে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকা সঙ্গীকে। পুরুষরা আকারে ছোট হলে; স্ত্রী জাম্পিং মাকড়সারা আকারে পুরুষের থেকে ১.৫গুন বড়ো হয়। সেকারণে স্ত্রী জাম্পিংদের ভালোবাসা নিবেদন করে ভালোবাসা পাওয়া অতো সহজসাধ্য নয়। ক্যামেরার জুমিং লেন্সের মতো সক্রিয় এদের চোখ দেখে নিতে পারে অপেক্ষাকৃত দূরে থাকা সঙ্গীকে। এমনকি পুরুষের নিবেদনে অসন্তুষ্ট হলে স্ত্রী রা পুরুষ মাকড়সাকে প্রাণে মেরেও ফেলতে পারে। এই  তিক্ত ভালোবাসার পরিণাম এড়ানোর জন্য এরা  এদের ৮টি পায়ের একটির অগ্রভাগকে লোমশ প্যাডে পরিণত করে নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ক্যামেরায় নমুনা পরীক্ষায় ধরা পড়েছে এই লোমশ প্যডের বৈশিষ্ট্য; যাকে তাঁরা নাম দিয়েছেন setae। গাছের পাতায় সঙ্গীর দেখা পেলে পুরুষ স্পাইডারটি তার এই লোমশ প্যাড যুক্ত পা টিকে নড়াতে চড়াতে থাকে।স্ত্রী স্পাইডারটি আকৃষ্ট হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমান না পাওয়া পর্যন্ত পুরুষটি নিজে লাফিয়ে লাফিয়ে লোমশ পা কে নাচাতে থাকে।  আকৃতিতে বড় স্ত্রী স্পাইডার কাছে এলেই আত্মসুরক্ষার জন্য মাঝে মাঝে পাতার তলায় লুকিয়ে পড়ে। স্ত্রী স্পাইডার এর গতিবিধি স্থির হলেই পুরুষটি পাতার ফাঁক থেকে বেরিয়ে আসে মিলনের জন্য।অনুবীক্ষণিক ভালোবাসা অনাবিল রূপধারণ করে পরিনয় পায় এখানেই। কিছু দিনের মধ্যেই পাতার ফাঁকে ডিমগুলি মনে করিয়ে দেয়, নবজাতকের আগমনের আনন্দ। আকারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিম গুলি ফুটলেই বেরিয়ে পড়বে জাম্পিং স্পাইডারদের আগামীরা। আবার শুরু হয়ে যাবে একই কালচক্রে;একই বৃত্তে ফিরে আসার গল্প।জীবজগতের অন্দরে জীবনের নানা বিচিত্র ঘনঘটায় ভালোবাসার এই অন্তহীন চরিত্র অটুট থাকুক।এখনও আমরা এই মনুষ্য প্রজাতিদের অনেক কিছুই দৃষ্টিগোচর করা বাকি আছে। ততক্ষণ না হয়, জীবনের মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে ওদের থেকেই ভালোবাসতে শিখি!

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!