সববাংলায়

শবে কদর | লাইলাতুল কদর | কদরের রাত

ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষজনের কাছে বছরের একটি শ্রেষ্ঠ দিন হল আরাফাতের দিন এবং বছরের শ্রেষ্ঠ একটি রাত হল শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। এই রাতকে কদরের রাতও বলা হয়। ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী এই রাতে পবিত্র কোরান নাজিল হয়েছে। শবে কদর একটি ফার্সি শব্দ, যেখানে শব মানে রাত এবং কদর মানে সম্মান বা মর্যাদা। শবে কদরের আরবী শব্দটি হল লাইলাতুল কদর। আরবী ভাষায় লাইলাতুল শব্দের অর্থ রাত এবং কদরের অর্থ সম্মান বা মর্যাদা। দুই ভাষাতেই শবে কদরের অর্থ হল মর্যাদার রাত।

২০২৬ সালের লাইলাতুল কদর কবে?

  • বাংলা তারিখ: ২ চৈত্র, ১৪৩২
  • ইংরাজি তারিখ: ১৭ মার্চ, ২০২৬

রমজান মাসের শেষ দশ দিনের যেকোনো বিজোড় রাত শবে কদর হতে পারে। সেই হিসাবে রমজানের একুশতম, তেইশতম, পঁচিশতম, সাতাশতম বা উনত্রিশতম রাত কদরের রাত। তবে রমজানের সাতাশতম রাতকেই অনেকে কদরের রাত মনে করেন। তাঁদের যুক্তি অনুযায়ী আরবীতে লাইলাতুল কদর শব্দ দুটিতে রয়েছে নয়টি হরফ। সুরা কদরে লাইলাতুল কদর শব্দ দুটি তিনবার রয়েছে। নয়কে তিন দিয়ে গুণ করলে হয় সাতাশ। তাই তাঁদের মতে সাতাশতম রমজানের রাতই কদরের রাত।

শবে কদর | লাইলাতুল কদর | কদরের রাত
শবে কদর নিয়ে ভিডিওটি দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন

ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী ৬১০ সালে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) যখন মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় উপাসনা করছিলেন সেই বছর শবে কদরের রাতে তাঁর কাছে সর্বপ্রথম পবিত্র কোরান নাজিল হয়। আবার অনেকের মতে শবে কদরের রাতে ফেরেশতা জিব্রাইলের কাছে সম্পূর্ন কোরান নাজিল হয়। পরবর্তী তেইশ বছর ধরে তিনি নবী মুহাম্মদ(সা.)-এর কাছে তা প্রকাশ করতে থাকেন।

ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী রমজান মাস পবিত্র কোরান নাজিলের মাস এবং শবে কদর হল কোরান নাজিলের রাত। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পবিত্র। তাঁদের বিশ্বাস প্রতিবছর রমজান মাসে এই রাত তাঁদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে। তাঁদের মতে শবে কদরের রাতে ফেরেশতারা জিব্রাইলের সাথে পৃথিবীতে এসে উপাসনারত সব মানুষের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী হাজার মাস উপাসনা করলে যে উপকার হয়, শুধুমাত্র কদরের রাতের উপাসনায় তার চেয়ে বেশি উপকার হয়।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী শবে কদরের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, তা নিম্নরূপ –

  • এই রাত গভীরভাবে অন্ধকার হবে না।
  • এই রাতে না থাকবে অত্যধিক গরম না অত্যধিক শীত।
  • এই রাতে মৃদু শীতল হাওয়া বইবে।
  • এই রাতের উপাসনা করার সময় মানুষ অন্য দিনের তুলনায় বেশি তৃপ্তিবোধ করবে।
  • এই রাতে প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তিকে স্বপ্নে সেটা জানানো হবে।
  • এই রাত শেষে পূর্ণিমার চাঁদের মতো হালকা আলো সমেত সূর্যোদয় হবে।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ(সা.) কে তাঁর স্ত্রী আয়েশা শবে কদরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করাতে নবী বলেছিলেন এই রাতে সকলের আল্লাহর কাছে উপাসনার মাধ্যমে ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি বলেছিলেন এই রাতে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ সেই ব্যক্তির পাপ ক্ষমা করে দেন। তাই এই রাতে মুসলিমরা উপাসনা করে কাটায়।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading