ধর্ম

আরাফাতের দিন

ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষজনের কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ দিন হল আরাফাতের দিন এবং বছরের শ্রেষ্ঠ রাত হল লাইলাতুল কদর। হিজরি বছরের দ্বাদশ এবং শেষ মাস জিলহজের (Dhu al-Hijjah) নবম দিনটি আরাফাতের দিন হিসেবে পালিত হয়। এটি হজের দ্বিতীয় দিন। বলা হয় আরাফাতের দিন আল্লাহ ইসলামকে একমাত্র ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসাবে ঘোষণা করেন।

আরাফাতের পাহাড় হল একটি পাহাড় যা সৌদি আরবের মক্কার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ২০ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। পাহাড়টি ২৩০ ফুট লম্বা এই পাহাড়টিকে বলা হয় জাবালে রহমত বা ক্ষমার পাহাড়। পাহাড়ের আশপাশের সমতল ভূমিকে আরাফাতের ময়দান বলে। আবার কখনও আরাফাতের পাহাড় বলতে পুরো এলাকাটাকেই বোঝায়। গোটা ইসলাম সম্প্রদায়ের কাছে এই পাহাড়টির গুরুত্ব অনেক। বলা হয় এই আরাফাতের ময়দানে বা পাহাড়ে না এলে হজ পূর্ণ হয় না। বলা হয় আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে এসে এই আরাফাতের ময়দানেই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। প্রচলিত মত অনুযায়ী এই পাহাড়টির নীচে দাঁড়িয়েই হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী হজের খুতবা দিয়েছিলেন। খুতবা হল মুসলিমদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ধর্মীয় বক্তৃতা। তাঁর এই খুতবায় তিনি সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য কিছু উপদেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কাউকে আঘাত না করার আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে অন্য কেউ আঘাত করার সুযোগ না পায়। তিনি মহিলাদের অধিকারের কথা বলে যান, একইসঙ্গে তাঁদের যোগ্য সম্মান দেওয়ার কথাও বলেন। সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ইঙ্গিতও তিনি এই খুতবায় দেন। প্রত্যেককে তিনি ন্যায়ের পথে চলার কথা বলেন। মানবজাতির জন্য এই সাধারণ বক্তব্যের পাশাপাশি এই খুতবায় তিনি মুসলিমদের পালনীয় কর্তব্য সম্পর্কেও উপদেশ দেন।  

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী আরাফাতের দিনে আল্লাহ প্রচুর পাপীকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা তিনি আর কোনো দিন দেন না। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, তিনি আরাফাতের দিন আকাশে নেমে আসেন এবং আরাফাতে উপস্থিত হাজিদের নিয়ে ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন, তাদের পাপ ক্ষমা করেন। শুধু তাদেরই কেন, তারা সেইদিন যাদের জন্য সুপারিশ করে থাকে, তাদেরকেও ক্ষমা করে দেন মহান আল্লাহ।

আরাফাতের পাহাড়ের কাছে হাজিরা (হজে আসা মুসলিমদের হাজি বলা হয়) আল্লাহর কাছে মিনতি করেন, তাঁদের পূর্বকৃত পাপ বা অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হন, প্রায়শ্চিত্ত করেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং আরাফাত পাহাড়ের কাছ থেকে যে খুতবা দেওয়া হয় তা শুনতে থাকেন। এবং আরাফাতের দিনে যাঁরা মক্কায় যেতে পারেন না তাঁরা নিজেদের বাড়ির কাছের মসজিদে গিয়ে আরাফাতের প্রার্থনা করেন। বলা হয় আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত না থাকা ব্যক্তি যদি আরাফাতের দিনে উপবাস করেন অর্থাৎ রোজা রাখেন, তাহলে তার ওপর আল্লাহর কৃপাদৃষ্টি পড়ে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী সেক্ষেত্রে আল্লাহ সেই ব্যক্তির গত বছরের পাপ এবং আগামী বছরের পাপ মুকুব করে দেন। আর যারা আরাফাতের দিনে সেখানে উপস্থিত থাকেন, অর্থাৎ যারা হজযাত্রী তাদের জন্য এই রোজার নিয়ম একেবারেই প্রযোজ্য নয়। স্বয়ং হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতে আল্লাহের সামনে প্রার্থনা করার সময় রোজা রাখেননি। ফলে তাঁর অনুগামীদেরও তা করার নিয়ম নেই। অন্যদিকে, যাঁরা হজ করতে আসেনি, বা পারেননি তাঁরা আরাফাতের দিনে রোজা রেখে এই পবিত্র দিনের সুফল অর্জন করতে পারেন। এই বিশ্বাস থেকেই আরাফাতের দিনের সঙ্গে রোজা রাখার বিষয়টিকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে। এইভাবে বছরের পর বছর ধরে স্থির বিশ্বাস ও যত্নের সঙ্গে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষেরা গোটা বিশ্ব জুড়ে এই পবিত্র দিনটিকে পালন করে থাকেন।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

vdo contest

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।