সববাংলায়

যে ফুটবলারের জন্য আস্ত একটা স্টেডিয়াম বানাতে হয়েছিল

বিভাগঃ ,

তখনও লিওনেল মেসি, দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কিংবা জোহান ক্রুয়েফ নামের বিশ্ব ফুটবলের মহানায়কদের আবির্ভাব হয়নি। ঠান্ডা যুদ্ধের আবহে হাঙ্গেরির এক শরণার্থী ফুটবলার মাঠে নেমেছেন শরণার্থী একাদশের হয়ে এসপ্যানোয়েলের বিরুদ্ধে খেলতে। গ্যালারিতে উপস্থিত স্পেনের প্রবাদ প্রতিম ফুটবল ক্লাব এফ সি বার্সেলোনার চেয়ারম্যান জোসেপ স্যামিটিয়ার। কড়া নজর রাখছেন দুই দলের ফুটবলারদের ওপর কে বেশি সম্ভাবনাময়, তাঁর ক্লাবের জন্য অপরিহার্য কে হতে পারে। শরণার্থী একাদশ চার গোলে বিজয়ী হল। চারটি গোলই করলেন ঐ হাঙ্গেরীয় ফুটবলার। জোসেপ স্যামিটিয়ার বুঝে গেছেন ততক্ষণে কাকে তাঁর দরকার। বার্সা (এফ সি বার্সেলোনাকে ভালবেসে এই নামেই ডাকে সারা ফুটবল বিশ্ব ) -য় ১৯৫০ সালের ১৫ জুন যোগ দিলেন হাঙ্গেরীয় ওই ফুটবলার। যোগদান করেই বার্সার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন তিনি। দুটি ম্যাচেই বার্সা জয় লাভ করে। মোট ১৪টি গোল করেছিল বার্সা যার মধ্যে ঐ হাঙ্গেরীয় শরণার্থী ফুটবলার ৬টি গোল নিজে করেন এবং আরও ৫টি গোল করাতে সতীর্থদের সাহায্য করেন। এর পরের ম্যাচগুলিতে অবশ্য খুব একটা চমকপ্রদ কিছু করতে পারেননি তিনি। ঐ একটা ম্যাচে ৭ গোল, একটাতে ৫টা গোল আর একটাতে হ্যাটট্রিক করেন। বার্সার নিজের স্টেডিয়াম তখন লে কোর্টসে তে। দর্শক আসন প্রায় ষাট হাজারের ওপর। কিন্তু বার্সার খেলা যেদিন থাকত সেদিন এমন ভিড় হতে শুরু করল নতুন যোগ দেওয়া ওই হাঙ্গেরীয় খেলোয়াড়টির খেলা দেখার জন্য যে আয়োজকরা ভয় পেতে শুরু করেন অস্বাভাবিক ভিড়ের চাপে যেকোন মুহূর্তে একটা দুর্ঘটনা ঘটা কেবল সময়ের অপেক্ষা। বোর্ড মিটিংয়ে তাই সিদ্ধান্ত হল ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়ামটি সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে আরও বড় কোন জায়গায়। ঠিক হল তা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে ক্যাম্প ন্যু তে যেখানে দর্শকাসন তখন ছিল সত্তর হাজারেরও বেশি। আজ যেখানে মেসি রোনাল্ডোরা দাপিয়ে বেড়ান সেই ক্যাম্প ন্যু তৈরী হয়েছিল কেবলমাত্র একজন ফুটবলারের খেলা দেখার ভিড় সামলানোর জন্য। একজন মানুষের জন্য আস্ত একটা স্টেডিয়াম বানাতে হল এমন কথা না আগে কেউ শুনেছে না এখন কেউ দেখেছে ! এত অবধি শুনে যদি ভাবতে বসেন আপনার শোনা আপনার জানা কোন তারকা ফুটবলারের নাম হলফ করে বলতে পারি এ বান্দার নাম আপনি এর আগে কোথাও শোনেননি। ইনি লাজলো কুবালা (László Kubala)।

বার্সেলোনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ধরা হয়ে থাকে লাজলো কুবালা কে। বার্সেলোনায় তাঁর ১১ বছরের কেরিয়ারে ৩৪৫টা ম্যাচে মোট ২৮লাজলো কুবালা কে কেবল গোল মেশিন ভাবলে কিন্তু তাঁর প্রতি একরকম অন্যায়ই করা হবে। কুবালা হলেন বিশ্ব ফুটবলে প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি ফ্রি কিক মারার সময়ে ‘ব্যানানা শট’ (কলার মত বাঁক খেয়ে যখন বল গোলে ঢোকে) এর জনক। আজ বিশ্ব ফুটবলে রবের্তো কার্লোস থেকে ডেভিড বেকহ্যাম বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো যে নয়নাভিরাম ব্যানানা শটে ফ্রিকিকে গোল করেন তার জনক ছিলেন এই কুবালা। কুবালা যখন ফ্রিকিকে শট নিতে যেতেন গোটা স্টেডিয়াম নিস্তব্ধ হয়ে যেত রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় এমনই সর্বব্যাপী তাঁর উপস্থিতি ছিল। ডেড বল সিচুয়েশনে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না সেই সময়ে। তাঁর কোন সতীর্থই তাঁকে সারাজীবনে কোন পেনাল্টি মিস করতে দেখেনি।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।