সেটা ১৯০০ সাল।প্যারিসে দুই ভাই আন্দ্রে মিশেলিন ও এদুঁয়া মিশেলিন একটি টায়ার কোম্পানি খুললেন। কালক্রমে সেখান থেকেই জন্ম নিল মিশেলিন গাইড বুক। মিশেলিন গাইড বুক হল পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ রেস্তোরাঁগুলোর র্যাঙ্কিং গাইড।মিশেলিন গাইড খাবারের উৎকৃষ্টতা অনুসারে তিন ধরনের মিশেলিন স্টার (michelin star) দিয়ে থাকে। সিঙ্গল স্টার- ভীষণ ভাল, ডাবল স্টার- অসাধারণ ভাল, ট্রিপল স্টার- অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
মিশেলিন গাইডের যারা স্বাদ পরীক্ষক হিসেবে কাজ করেন তাদের ইন্সপেক্টর বলে। এঁদের বিষয়ে প্রায় সিক্রেট এজেন্টের মত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। মিশেলিনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের অনেকেই সারাজীবনে কোন ইন্সপেক্টরকে নিজে চোখে দেখেননি। ইন্সপেক্টররা নিজেদের পরিবারকে পর্যন্ত জানাতে পারেন না তাদের কাজটা ঠিক কি মিশেলিন-এ।খাবার চেখে দেখার সময় ইন্সপেক্টরদের যে যে বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয় সেগুলি হল-
(১) খাবার পরিবেশনের রীতি কি জিভে জল আনার পক্ষে যথেষ্ট?
(২) খাবারের পরিমাণ কি দামের সঙ্গে যথাযথ?
(৩) খাবারের গন্ধ কি আপনাকে পাগলপারা করে দেয়?
(৪) খাবারে বসানো আপনার প্রতিটা কামড়ের শব্দ কি আপনার হৃদয়ে অনুরণন তোলে?
ইন্সপেক্টরদের পইপই করে বলা হয়ে থাকে খাবার চেখে দেখার সময় যেন কোনভাবেই রেস্তোরাঁর পরিবেশ, ওয়েটারের ব্যবহার, খাবারের নাম আপনাকে প্রভাবিত না করে।আপনার যাবতীয় মনোযোগ থাকবে যে পদটি খাচ্ছেন তার উৎকৃষ্টতার প্রতি। মিশেলিন স্টার মানে খাবারের উৎকৃষ্টতাই বোঝায়।
মিশেলিন গাইড সারা বিশ্বে এতটাই জনপ্রিয় যে ২০০৩ সালে ফরাসী শেফ বার্ণাড লইসু আত্মহত্যা করলেন যখন জানতে পারলেন তার রেস্তোরাঁ ট্রিপল স্টার থেকে ডাবল স্টারে নেমে এসেছে। ২২টা দেশ মিলিয়ে মিশেলিন স্টার রেস্তোরাঁর সংখ্যা মাত্র ২০৬০টা যার মধ্যে ট্রিপল স্টার রেস্তোরাঁ মাত্র ৬০ টা। কলকাতার একমাত্র মিশেলিন স্টার রেস্তোরাঁটি রয়েছে QUEST MALL-এ।নাম YAUTCHA। এখানকার ডিমসুম(DIMSUM)পদ টি খুব বিখ্যাত।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান