সব

মোমো চ্যালেঞ্জ

নীল তিমির (blue whale game) পর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে সাইবার দুনিয়ায় হানা দেয় মোমো চ্যালেঞ্জ (Momo Challennge)। মোমো চ্যালেঞ্জ এক ধরণের সাইবার হয়রানির (cyber-bullying) খেলা। মূলত নানান ধরণের হুমকি দিয়ে বা ব্ল্যাকমেল করে এইসব খেলায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয় এবং বিভিন্ন ধরণের কাজ পরের পর ধাপে করতে দেওয়া হয়। নীল তিমির মতোই মোমো চ্যালেঞ্জেও আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

মোমো চ্যালেঞ্জ মূলত হোয়াটস্যাপ (whatsapp) এর মাধ্যমেই ছড়ায় এবং কিশোর কিশোরীরাই এর শিকার হয়। আর্জেন্টিনায় একটি ১২ বছরের কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে মোমো চ্যালেঞ্জের প্রথম শিকার বলে মনে করা হয়। আর্জেন্টিনায় এই খেলাটি ব্যাপকতা লাভ করে ও ক্রমেই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। নীল তিমি খেলাটির ব্যাপকতা ও তার পরিণতি দেখে বিভিন্ন দেশের প্রশাসন প্রথম থেকেই নড়ে চড়ে বসেছেন মোমো চ্যালেঞ্জ যাতে ছড়াতে না পারে কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন দেশে মোমো চ্যালেঞ্জের উপস্থিতি সন্দেহ করা হচ্ছে। যেমন ভারতে রাজস্থানের আজমীরে দশম শ্রেণীর এক বালিকার আত্মহত্যার সঙ্গে মোমো চ্যালেঞ্জের কোনো যোগ আছে কিনা সে ব্যাপারে পুলিশি তদন্ত চলছে। পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরে এক কলেজ ছাত্রের মোবাইলে মোমোর মেসেজ আসায় পুলিশ সে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশের প্রশাসন মোমো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে জন মানসে প্রচার চালাচ্ছে।

মোমো চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন দিকগুলি জেনে নিলে এর মোকাবিলা করা সহজ হবে। তাই এখানে দেখে নেওয়া যাক মোমো চ্যালেঞ্জ কিভাবে শিকার চালায় –

১. প্রথমত, মোমো চ্যালেঞ্জের শিকার হয় স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।
২. একটি অজানা নম্বর থেকে হোয়াটস্যাপ-এ ‘গেম খেলার আহ্বান জানিয়ে মেসেজ আসে।
৩. খেলতে না চাইলে নানান রকম হুমকি দেওয়া হয়, যেমন – সমস্ত কিছু হ্যাক করে নেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সকলকে জানিয়ে দেওয়া, প্রিয় কোন মানুষকে মেরে ফেলা ইত্যাদি। সঙ্গে পাঠানো হয় ভয়ঙ্কর কিছু ছবি।
৪. কেউ খেলতে রাজি হয়ে গেলে তাকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়। বলা বাহুল্য, খেলা ছেড়ে বেরোতে চাইলে বা গোপনীয়তা রক্ষার জন্যে বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেওয়া হয়।

তাই কেউ যদি অজানা কোন নম্বর থেকে মোমো চ্যালেঞ্জ সম্পর্কিত কোন মেসেজ পায় তাহলে প্রথমেই নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া উচিত এবং হুমকিতে ভয় না পেয়ে অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। অভিভাবকদেরও মাঝে মাঝে সন্তানের সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় সে কি করছে সেই নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা উচিত। এছাড়া সন্তানের ব্যবহারিক পরিবর্তন (যেমন চুপ করে যাওয়া, অন্যমনস্ক থাকা ইত্যাদি) চোখে পড়লে সে নিয়েও কথা বলা দরকার। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্যও নিতে পারেন। শুধু মোমো চ্যালেঞ্জই নয়, সন্তানের সাথে এই ধরণের আলোচনায় আরও অনেক সমস্যায় এড়ানো যেতে পারে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।