প্রতি বছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়।ওই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। ভারতবর্ষের পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলোর মধ্যে একটি হলো জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ।
১১ এপ্রিল দিনটিকে ভারতবর্ষে জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল ভারতবর্ষে জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জাতির জনক গান্ধীজির সহধর্মিনী কস্তু্র্বা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী হিসেবে ১১ এপ্রিল এই দিনটিকে ভারত সরকার জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস হিসেবে ঘোষিত করে। এ ব্যাপারে প্রথম উদ্যোগ নেয় হোয়াইট রিবন আ্যলায়েন্স ইন্ডিয়া বা WRAI নামের একটি সংস্থা। গর্ভকালীন অবস্থায় প্রসবের সময় এবং তার পরবর্তী সময়ে যাতে সম্পূর্ণ যত্ন ও চিকিৎসা থেকে মহিলারা বঞ্চিত না হয়। ভারতবর্ষ বিশ্বের প্রথম দেশ যেখানে সরকারিভাবে জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ঘোষণা করা হয়।
নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে বোঝায় কোন মহিলা গর্ভবতী হলে তাঁর প্রসব পূর্ববর্তী পরীক্ষা, প্রসবকালীন যত্ন , তাঁর যদি গর্ভপাত হয়ে যায় তাহলে গর্ভপাত পরবর্তী চিকিৎসা, সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে মুক্তি ও চিকিৎসা- এইগুলি হল নিরাপদ মাতৃত্বের মূল স্তম্ভ । মাতৃত্বকালীন এই বিষয়গুলিকে নিশ্চিত করাটাই এই দিবস পালনের লক্ষ্য। মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব ,পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি সম্পর্কে মা পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সকলের প্রতিশ্রুতি এবং শিশুমৃত্যু রোধ নিশ্চিত করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
মূলত গর্ভকালীন জটিলতা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর অনুপস্থিতি, পরিবারের অসচেতনতা, অবহেলা পরবর্তী পর্যায়ে অদূরদর্শিতা প্রভৃতি কারণে একজন মা তাঁর মাতৃত্বকালীন অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। WRAI এর তথ্য অনুসারে প্রতিবছর ৪৪০০০ মহিলা এই কারণে মারা যান। তাই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া আবশ্যক। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ কারণটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যবিবাহ এক্ষেত্রে পরোক্ষ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অল্প বয়সে মা হতে গিয়ে বহু নারী ও শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এ ব্যাপারে সচেতনতার পাশাপাশি নারী শিক্ষা প্রসারের প্রয়োজন। ভারত সরকার চেষ্টা করছে গর্ভাবস্থা এবং শিশু জন্মের সময় মৃত্যু হার যাতে কমানো যায় । কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। ২০১১ সালের সেনসাস রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতবর্ষের গর্ভাবস্থাকালীন মৃত্যুর হার ১৭ শতাংশ কমেছে।
প্রত্যেক বছরেই বিভিন্ন থিম বা প্রতিপাদ্য নির্বাচনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হয়। ২০১৯ সালে জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “মিডওয়াইফ ফর মাদার্স’ (Midwives for Mothers)।২০২০ সালের জাতীয় নিরাপদ মাতৃত্ব দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল – করোনা কালে ঘরে থাকি, মা ও শিশুকে নিরাপদ রাখি (Stay at home during Coronavirus, Keep mother and newborn safe from Coronavirus)। ২০২১ এবং ২০২২ সালের জন্য কোন নতুন প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়নি। ২০২৩ সালের ক্ষেত্রেও ২০২০ সালের প্রতিপাদ্যটিই বলবৎ থাকে। প্রতিবছর নিরাপদ মাতৃত্বের বিষয়ে বিভিন্ন প্রচার চালানো হয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য । এই দিবসটি পালন করা হয় যাতে গর্ভাবস্থায় মহিলা এবং শিশু নিরাপদ থাকে। এই দিনটিতে গর্ভবতী মহিলাদের রক্তাল্পতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় যাতে মহিলা এবং তাঁর পরিবার এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে ওঠে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের দিকে কিছু জীবনদায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ভারত সরকার এ বিষয়ে ‘ইন্দিরা গান্ধী মাতৃত্ব সহযোগ যোজনা’ নামক একটি স্কিম চালু করেছে। পাশাপাশি ভারত সরকার এ ব্যাপারে মৃত্যুহার কমানোর জন্য নানান প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান