সববাংলায়

নেহেরু চিড়িয়াখানা ভ্রমণ

হায়দ্রাবাদের ব্যস্ত শহুরে জীবনের মাঝেই এমন একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে প্রকৃতি, প্রাণীজগৎ এবং শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা একসঙ্গে মেলে—নেহেরু চিড়িয়াখানা। বিস্তীর্ণ সবুজ পরিবেশের মধ্যে গড়ে ওঠা এই চিড়িয়াখানা শুধু বিনোদনের স্থান নয়, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসের কাছাকাছি পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এখানে এসে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রাণীদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়, যা শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সবার কাছেই সমানভাবে আকর্ষণীয়।

নেহেরু চিড়িয়াখানা কোথায়

নেহেরু চিড়িয়াখানা ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দ্রাবাদ শহরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত। এটি মির আলম ট্যাঙ্কের কাছাকাছি এলাকায় গড়ে উঠেছে এবং শহরের পুরনো অংশের খুব দূরে নয়। হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত চারমিনার থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার।

হায়দ্রাবাদ ডেকান (নামপল্লি) রেলস্টেশন থেকে চিড়িয়াখানার দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং সেকেন্দরাবাদ জংশন থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক ২০ কিলোমিটার। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগ থাকায় এটি হায়দ্রাবাদ ভ্রমণের একটি সহজলভ্য গন্তব্য।

নেহেরু চিড়িয়াখানার ইতিহাস

নেহেরু চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালে এবং ১৯৬৫ সালে এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর স্মৃতিতে এই চিড়িয়াখানার নামকরণ করা হয়।

এই চিড়িয়াখানার বিশেষত্ব হল, এটি ঐতিহ্যবাহী খাঁচাভিত্তিক চিড়িয়াখানার ধাঁচে তৈরি নয়। বরং এখানে প্রাণীদের জন্য তুলনামূলকভাবে খোলা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিড়িয়াখানায় নতুন নতুন প্রাণী যোগ হয়েছে এবং অবকাঠামোর উন্নয়নও করা হয়েছে।

বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ ও সুপরিচালিত চিড়িয়াখানার মধ্যে গণ্য হয় এবং প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নেহেরু চিড়িয়াখানাতে কীভাবে যাবেন

নেহেরু চিড়িয়াখানায় যেতে হলে প্রথমে হায়দ্রাবাদ শহরে পৌঁছতে হবে। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে হায়দ্রাবাদগামী ট্রেন পাওয়া যায়। নামপল্লি বা সেকেন্দরাবাদ স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ট্যাক্সি, অটো বা অ্যাপ-ক্যাব নিয়ে সহজেই চিড়িয়াখানায় পৌঁছানো যায়।

বিমানে গেলে কলকাতা থেকে সরাসরি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস পরিষেবাও পাওয়া যায়।

হায়দ্রাবাদ শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাস পরিষেবাও পাওয়া যায়। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়ে গেলে হায়দ্রাবাদ–বিজয়ওয়াড়া জাতীয় সড়ক ধরে সহজেই রামোজি ফিল্ম সিটিতে পৌঁছানো যায়। শহরের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় অনেকে হায়দ্রাবাদেই থাকেন এবং সেখান থেকে একদিনের জন্য রামোজি ফিল্ম সিটিতে ঘুরে আসেন।

নেহেরু চিড়িয়াখানাতে কোথায় থাকবেন

চিড়িয়াখানার আশেপাশে কিছু হোটেল থাকলেও অধিকাংশ ট্যুরিস্ট হায়দ্রাবাদ শহরের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করেন। বানজারা হিলস, আবিডস, হিমায়তনগর এলাকায় বিভিন্ন বাজেটের হোটেল পাওয়া যায়। সেখান থেকে সহজেই চিড়িয়াখানায় যাওয়া যায়।

নেহেরু চিড়িয়াখানাতে কী দেখবেন

বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী

নেহেরু চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ হল এর বিপুল প্রাণীসংগ্রহ। এখানে সিংহ, বাঘ, চিতা, ভাল্লুক, হাতি, গন্ডারসহ নানা ধরনের বড় প্রাণী দেখা যায়। এছাড়াও হরিণ, জিরাফ, জেব্রা এবং বিভিন্ন প্রজাতির বানর ও পাখিও রয়েছে। প্রতিটি প্রাণীর জন্য আলাদা করে বড় এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে পারে।

সাফারি অভিজ্ঞতা

এই চিড়িয়াখানার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল সাফারি। নির্দিষ্ট গাড়িতে করে ট্যুরিস্টদের সিংহ, বাঘ বা ভাল্লুকের আবাসস্থলের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিজ্ঞতা সাধারণ চিড়িয়াখানা দর্শনের থেকে আলাদা, কারণ এখানে প্রাণীদের অনেক কাছ থেকে দেখা যায়।

সরীসৃপ বিভাগ

চিড়িয়াখানার একটি অংশে বিভিন্ন ধরনের সাপ, কুমির ও অন্যান্য সরীসৃপ সংরক্ষিত আছে। এখানে এসে বিভিন্ন বিষধর ও অবিষধর সাপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

পাখির সংগ্রহ

নেহেরু চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশি পাখির সংগ্রহ রয়েছে। রঙিন পাখির এই অংশটি বিশেষ করে শিশুদের কাছে খুব আকর্ষণীয়।

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও লেক

চিড়িয়াখানার ভেতরে বিস্তীর্ণ সবুজ এলাকা এবং জলাশয় রয়েছে, যা পুরো পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। অনেক জায়গায় বসে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।

নেহেরু চিড়িয়াখানাতে কখন যাবেন

চিড়িয়াখানাটি সারা বছরই খোলা থাকে, তবে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং প্রাণীদের সক্রিয়তাও বেশি দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে দুপুরের গরম এড়িয়ে সকাল বা বিকেলে যাওয়া ভালো।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • প্রাণীদের বিরক্ত করবেন না বা খাবার দেবেন না।
  • নির্দিষ্ট পথ ধরে চলুন এবং নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলুন।
  • পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। গরমের সময় গেলে জল সঙ্গে রাখুন।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং ডাস্টবিন ব্যবহার করুন।

সর্বশেষ সম্পাদনার সময়কাল – ২০২


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

তথ্যসূত্র


  1. নিজস্ব প্রতিনিধি
  2. https://nzptsfd.telangana.gov.in/
  3. https://en.wikipedia.org/

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading