ইতিহাস

নরম্যান বোরলাগ

নরম্যান বোরলাগ

আমেরিকান কৃষিবিদ নরম্যান বোরলাগ (Norman Borlaug) একজন স্বনামধন্য কৃষিবিজ্ঞানী যিনি কৃষিক্ষেত্রে এক অভাবনীয় বিপ্লব এনে দিয়েছিলেন। সেকারণে তাঁকে ‘সবুজ বিপ্লবে’র জনকও বলা হয়ে থাকে। মেক্সিকান বিজ্ঞানীদের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধী গমের উদ্ভাবন তাঁর এক যুগান্তকারী সৃষ্টি। ফলে রোগাক্রান্ত এবং কম উৎপাদনশীল ফসলের সঙ্গে লড়াই করা কৃষকের সমস্যার সমাধান হয়েছিল নরম্যানের এই উন্নত প্রজাতির গমের উদ্ভাবনে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গিয়েছিল এই গমের ফর্মুলা। বিশ্বের বহু দেশের প্রায় এক বিলিয়ন মানুষকে ক্ষুধা, অনাহার, দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি।। ভারত এবং পাকিস্তানেও গমের ফলন একসময় দ্বিগুন হওয়ার পিছনের মূল কান্ডারী ছিলেন নরম্যান। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির তাঁর এই পদ্ধতিগুলি তিনি আফ্রিকার মত দেশেও প্রয়োগ করেছিলেন পরবর্তীকালে। বলা যায় বোরলাগ কৃষি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপনে সাহায্য করেছিলেন। বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপযুক্ত পথপ্রদর্শন এবং খাদ্য সমস্যার সমাধানের মতো মহান কাজের জন্য নরম্যান বোরলাগকে নোবেল শান্তি পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়।

১৯১৪ সালের ২৫ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী আইওয়ার অন্তর্ভুক্ত একটি শহর ক্রেস্কোতে ঠাকুরদার খামারবাড়িতে নরম্যান বোরলাগের জন্ম হয়। তাঁর বাবা এবং মা মূলত ছিলেন নরওয়েজিয়ান-আমেরিকান। নরম্যানের বাবার নাম হেনরি অলিভার বোরলাগ এবং মায়ের নাম ক্লারা বোরলাগ । চার সন্তানের মধ্যে নরম্যান ছিলেন প্রথম সন্তান। বোরলাগ তাঁর বাবা মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান ছিলেন। 


এই ধরণের তথ্য লিখে আয় করতে চাইলে…

আপনার নিজের একটি তথ্যমূলক লেখা আপনার নাম ও যোগাযোগ নম্বরসহ আমাদের ইমেল করুন contact@sobbanglay.com


 

ছোটবেলা থেকেই কৃষিজমির সঙ্গে নরম্যানের এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সাত বছর বয়স থেকে উনিশ বছর পর্যন্ত তিনি পারিবারিক খামারের বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। মাছ ধরা, শিকার করা, ভুট্টা, যব, টিমোথি ঘাস উৎপাদন, গবাদি পশু, শূকর, মুরগি প্রতিপালন ইত্যাদি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। ফলে অনেক ছোটবেলা থেকেই কৃষিক্ষেত্র, শস্যোৎপাদনের সংস্পর্শে থেকে এ সম্পর্কে অনেক প্রাথমিক বিষয়ই তাঁর আয়ত্তে চলে এসেছিল।

নরম্যানের প্রাথমিক শিক্ষালাভ হাওয়ার্ড কাউন্টির স্থানীয় নিউ অরগ্যান গ্রামীন স্কুলে এক-শিক্ষক, এক-কক্ষ ব্যবস্থায়৷ সেখানে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছিলেন তিনি। এরপরে বোরলাগ ক্রেস্কো হাইস্কুলে ভর্তি হন। সেখানে ফুটবল, বেসবল এবং কুস্তিদলের সদস্য হয়েছিলেন তিনি। অসামান্য খেলোয়াড় ছিলেন বোরলাগ। একজন কুস্তিগীর হিসেবে রাজ্যব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি। তাঁর রেসলিং কোচ ছিলেন ডেভ বারথেলমা। এই স্কুলের পড়াশুনা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর ঠাকুরদার অনুপ্রেরণায় এবং উৎসাহদানে খামারবাড়ি ছেড়ে উচ্চশিক্ষার দিকে যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন নরম্যান। এরপর ১৯৩৩ সালে নরম্যান মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হন এবং দুই বছরের জন্য নবপ্রতিষ্ঠিত জেনারেল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু মাস ছয়েক পরেই নিজের দক্ষতাতেই  তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব এগ্রিকালচারের বনায়ন কর্মসূচীতে যুক্ত হওয়ার জন্য স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্সিটি রেসলিং টিমের সদস্য হিসেবে বোরলাগ বিগ টেন সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলেন। সেসময় রাজ্যের উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে খেলাটি চালু করবার জন্য তিনি বার্টেলমাকে সহায়তা করেছিলেন। পরবর্তীকালে ওকলাহোমার স্টিলওয়াটারে জাতীয় রেসলিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তিনি। এসময় একটি কফিশপে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মার্গারেট গিবসনের। পরবর্তীকালে ১৯৩৭ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাঁদের মোট তিনটি সন্তান ছিল।

নিজের পড়াশুনার অর্থসংস্থানের জন্য নরম্যান বোরলাগ মাঝখানে কিছু সময় লেখাপড়া স্থগিত রেখে কাজ করেছিলেন। ১৯৩৫ সালে যেমন সিভিলিয়ান কনজারভেশন কর্পসের নেতা হিসেবে ফেডারেল প্রকল্পের জন্য কাজ করেছিলেন। সেসময় তিনি দেখেছিলেন তাঁর অধীনে কাজ করা অনেক মানুষই অনাহারে থাকত। ১৯৩৭ সালে অবশেষ বনবিদ্যায় ব্যাচেলার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। যদিও এই ডিগ্রি প্রাপ্তির আগে থেকে অর্থাৎ ১৯৩৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত নরম্যান ম্যাসাচুসেটস এবং আইডাহোর স্টেশনগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবার জন্য কাজ করেন।

স্নাতকের শেষ মাসগুলিতে নরম্যান মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লান্ট প্যাথলজি গ্রুপের একজন অধ্যাপক চার্লস স্ট্যাকম্যানের বক্তৃতা শোনেন। এই ঘটনাটি তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। স্ট্যাকম্যানের সেই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল ‘দিস শিফটি লিটল এনিমিজ দ্যাট ডেসট্রয় আওয়ার ফুড ক্রপস’। এই বক্তৃতায় উদ্ভিদের রোগ, পরজীবী ছত্রাক ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছিলেন স্ট্যাকম্যান। এমনকি তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, বিশেষ উদ্ভিদ প্রজনন পদ্ধতির সাহায্যে ক্ষয় প্রতিরোধকারী উদ্ভিদ উৎপাদন সম্ভব। স্ট্যাকম্যান এও বলেছিলেন যে, গম এবং অন্যান্য শস্যের ক্রসব্রিডিং এমন জাত তৈরি করতে পারে যা-কিনা ক্ষয় প্রতিরোধে সক্ষম। তাঁর এই গবেষণা নরম্যানকে ভীষণই আকৃষ্ট করেছিল।  বাজেট কমে যাওয়ার কারণে বন পরিষেবার চাকরি যখন ছেড়ে দিতে হয় তাঁকে তখন তিনি গিয়েছিলেন স্ট্যাকম্যানের কাছে। স্ট্যাকম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী অরণ্য রোগবিদ্যার বদলে তিনি উদ্ভিদ রোগবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনা করবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৪০ সালে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ১৯৪২ সালে উদ্ভিদ রোগবিদ্যা ও জেনেটিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

১৯৪২ সালে নরম্যান ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনের ডুপন্টে মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত এই কাজ করেছেন তিনি। সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। যদিও তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য দরখাস্ত করেছিলেন কিন্তু যুদ্ধকালীন শ্রম বিধির অধীনে তা প্রত্যাখান করা হয়। সরকার বিবেচনা করেছিল যে ডুপন্টে নরম্যানের কাজ করাটাই যুদ্ধের সময় অপরিহার্য ছিল। তাঁর গবেষণার ল্যাবরেটরিতে সেসময় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর জন্য কাজ শুরু হয়। নরম্যানের প্রথম প্রকল্প ছিল একটি আঠা তৈরি করা যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ নোনা জল সহ্য করতে পারে। সমুদ্রবাহিত সরবাহের প্যাকেজ সিল করার জন্য সেই জলরোধী আঠা ব্যবহার করা হত।

১৯৪০ সালে আভিলা কামাচো প্রশাসন মেক্সিকোতে অফিস গ্রহণ করে। সেসময় মেক্সিকান কৃষি ক্ষয়রোগে জর্জরিত ছিল। বারংবার ফসল নষ্ট হওয়ার ফলে বেশিরভাগ গমই আমদানি করতে হত মেক্সিকোকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হেনরি ওয়ালেস মেক্সিকোতে ক্ষয়-প্রতিরোধী গম প্রবর্তনে মেক্সিকান সরকারের সঙ্গে সহযোগীতা করার জন্য মার্কিন ভিত্তিক রকফেলার ফাউন্ডেশনকে রাজি করান। স্ট্যাকম্যান সেই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন, সঙ্গে ছিলেন আরও দুই নেতৃস্থানীয় কৃষিবিদ। তাঁরা মেক্সিকান সরকারের অংশ হিসেবে রকফেলার ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত একটি নতুন সংস্থা অফিস অব স্পেশাল স্টাডিজের প্রস্তাব করেন। স্ট্যাকম্যান প্রজেক্ট লিডার হিসেবে বেছে নেন জ্যাকব জর্জ ‘ডাচ’ হারারকে। হারার অবিলম্বে মেক্সিকোতে নতুন প্রতিষ্ঠিত সমবায় গম গবেষণা ও উৎপাদন কর্মসূচির প্রধান হিসেবে নরম্যানকে নিয়োগ করার প্রস্তাব দিলেও যুদ্ধের কাজ ছেড়ে তখন যেতে চাননি তিনি। অবশেষে ১৯৪৪ সালে ডুপন্টে বেতন দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী স্ত্রী এবং ১৪ মাসের কন্যাকে রেখে তিনি মেক্সিকোতে নতুন এই কর্মসূচিতে যোগদানের জন্য জিনতত্ত্ববিদ এবং উদ্ভিদ রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গিয়েছিলেন। 
দ্য কোঅপারেটিভ হুইট রিসার্চ প্রোডাকশন প্রোগ্রাম এবং মেক্সিকান কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জেনেটিক্স, উদ্ভিদ প্রজনন, উদ্ভিদ রোগবিদ্যা, কীটতত্ত্ব, কৃষিবিদ্যা, মৃত্তিকা বিজ্ঞান এবং খাদ্যশস্য প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিল। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল মেক্সিকোতে গম উৎপাদন বৃদ্ধি করা। প্রায় ষোলো বছর এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলে নরম্যান। প্রথম কয়েক বছর প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানী এবং যন্ত্রপাতির অভাবের কারণে ভীষণই মুশকিলের মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে। প্রথম দশবছর তিনি কাটিয়েছিলেন ক্ষয়-প্রতিরোধী গমের জাত প্রজননের জন্য। সেসময় তাঁর দল ৬০০০টি পৃথক গম তৈরি করে। ক্ষয়-প্রতিরোধী, যে গমের জাতটি তাঁরা উদ্ভাবন করেন তাতে ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছিল কিন্তু ভারী শিষ ধরে রাখার মতো শক্তিশালী কান্ড ছিল না। বৃষ্টিতে গাছপালা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়। এসময় নরম্যান জাপানী খর্বকায় গমের স্ট্রেনের দিকে দৃষ্টি ফেরান। উত্তর মেক্সিকোর উষ্ণ, শুষ্ক জলবায়ুতে উৎপাদিত জাতগুলির সঙ্গেই সেই খর্বকায় স্ট্রেনের ক্রসব্রিড ঘটান তিনি। আরেকটি নতুন টেকসই গমের জাতের উদ্ভাবন হয়। ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে বোরলাগ নতুন আধা-খর্বাকৃতি রোগ প্রতিরোধী জাতের গম পিটিক ৬২ এবং পেনজামো ৬২ উদ্ভাবন করেছিলেন। মেক্সিকোর ৯৫% গম বোরলাগের এই আধা-খর্বাকৃতি জাত ব্যবহার করেই উৎপাদিত হয়েছিল। বোরলাগের নতুন গমের জাতগুলি ১৯৫৬ সালে মেক্সিকোকে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দানে সক্ষম হয়েছিল, এবং মেক্সিকো গম রপ্তানিকারক একটি দেশ হয়ে উঠেছিল।

নরম্যানের এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং রকফেলার ফাউন্ডেশন মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দিকে মনযোগ দেয়। চরম দারিদ্র্য এবং ব্যর্থ ফসলের সমস্যা বিশ্বের অনেক দেশেই তখন লক্ষ্যনীয়। ১৯৬০-এর দশকে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দক্ষিণ এশিয়ার সমগ্র উপমহাদেশ দুর্ভিক্ষ ও অনাহারে আচ্ছন্ন ছিল। এসময় যুদ্ধের আবহের মধ্যেও ভারত ও পাকিস্তান জুড়ে বোরলাগের দল মেক্সিকান বীজ আমদানি করে রোপণ করেছিলেন। এক মরসুমের মধ্যে অভাবনীয় ফলনের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষের চোখরাঙানি স্তিমিত হয়ে আসে। ১৯৬৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানে গম উৎপাদন স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে এবং ১৯৭৪ সালের মধ্যে ভারতে।  ভারত, পাকিস্তানে বোরলাগের এই কৃতিত্ব সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত। লেবানন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা প্রভৃতি দেশে তাঁর উদ্ভাবন ছড়িয়ে দিয়ে শস্য উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলে খাদ্য সংকট দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন নরম্যান। সবুজ বিপ্লব মানুষের ক্ষুধা ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাময়িক সাফল্য পেয়েছিল। ১৯৮৪তে ইথিওপিয়ার দুর্ভিক্ষের সময় বোরলাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে আফ্রিকার দেশগুলিতে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সাহায্য করেন নরম্যান। সেসব দেশে ভুট্টার ফলন তিনগুন বেড়েছে। জোয়ার, কাসাভার ফলনও বেড়েছে ভালোই।

১৯৬৪ সালে মেক্সিকোর পূর্ব প্রান্তে টেক্সকোকোর এল বাটানে ইন্টারন্যাশনাল হুইট ইমপ্রুভমেন্ট প্রোগ্রামের পরিচালক নিযুক্ত হয়েছিলেন ইন্টারন্যাশনাল মেইজ অ্যান্ড হুইট ইমপ্রুভমেন্ট সেন্টারের সদ্য প্রতিষ্ঠিত কনসালটেটিভ গ্রুপ অন ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারের অংশ হিসেবে। ১৯৭৯ সালে এই পদ থেকে অবসর নিলেও একজন সিনিয়র পরামর্শদাতা রূপে তিনি কাজ করে গেছেন। ফসলের ক্ষতি রুখতে যে কীটনাশক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তা তিনি অনুভব করতে পেরে নানা  সমালেচনা সত্ত্বেও কীটনাশকের সার্বিক ব্যবহারকে সমর্থন করতে থাকেন। ন্যাশানাল একাডেমি অব সায়েন্সের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৮১ সালে বোরলাগ বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য  হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণা পরিচালনা শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি কৃষি ও খাদ্য শিল্পের কর্মীদের ইন্টারনেট-ভিত্তিক শিক্ষার জন্য নরম্যান বোরলাগ ইউনিভার্সিটি চালু করার ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে বোরলাগ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ নামে একটি পুরস্কার তৈরি করেন।

সবুজ বিপ্লবের জন্য ১৯৭০ সালে নরম্যানকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও ‘গোল্ডেন প্লেট’,পুরস্কার, ন্যাশানাল মেডেল অব সায়েন্স, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রীডম, পাবলিক ওয়েলফেয়ার মেডেল, ‘পিস মেডেল’ ‘পদ্মবিভূষণ’ ইত্যাদি নানা সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন বিভিন্ন সময়ে। নরওয়ের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডক্টরেট উপাধি দিয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রের বিষয়ও হয়ে উঠেছিলেন।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে নিজের বাড়িতে লিম্ফোমা রোগে ৯৫ বছর বয়সে নরম্যান বোরলাগের মৃত্যু হয়।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

-
এই পোস্টটি ভাল লেগে থাকলে আমাদের
ফেসবুক পেজ লাইক করে সঙ্গে থাকুন

বিধান রায় ছিলেন আদ্যোপান্ত এক রসিক মানুষ। তাঁর রসিকতার অদ্ভুত কাহিনী



বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন