উনবিংশ শতকে বিশ্বসাহিত্য যেসব প্রতিভাসম্পন্ন লেখকের সৃষ্টিকর্ম দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম হলেন ভিক্টোরিয়ান যুগের আইরিশ লেখক অস্কার ওয়াইল্ড (Oscar Wilde)। কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি সাহিত্যের ভিন্ন ভিন্ন শাখাতে তাঁর প্রতিভার অসামান্য বিচ্ছুরণ লক্ষ্য করা যায়। উনিশ শতকের শেষদিকে ইংল্যাণ্ডে গড়ে ওঠে এক নান্দনিক আন্দোলন যা কিনা শিল্পের জন্যই শিল্প—এমন মন্তব্যের পক্ষে এক জোরালো সওয়াল। অস্কার ওয়াইল্ড কে এই আন্দোলনের মূল কারিগর হিসেবে বর্ণনা করলেও ভুল হয় না। তাঁর রচনায় ব্যঙ্গ এবং বুদ্ধিদীপ্ততা ছিল অন্যতম হাতিয়ার। সারাজীবনে একটিমাত্র উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি, চার-পাঁচটি নাটক লিখেছেন, এছাড়াও শিল্পসংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে রচনা করেছেন জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ ও সমালোচনা। বিভিন্ন ভাষা অধ্যয়ন করেছিলেন অস্কার ওয়াইল্ড এবং সেসব ভাষার সাহিত্যও পাঠ করেছিলেন। সাহিত্যচর্চা ছাড়াও তিনি সাংবাদিকতা করতেন একসময় এবং তাঁর শাণিত যুক্তি, ঝকঝকে কথা বলবার ধরন তাঁকে সেসময়ের একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তি করে তুলেছিল।
১৮৫৪ সালের ১৬ অক্টোবর আয়ারল্যাণ্ডের ডাবলিনে অবস্থিত ২১ নম্বর ওয়েস্টল্যাণ্ড রো-তে একটি শিক্ষিত এবং বুদ্ধিজীবী পরিবারে অস্কার ওয়াইল্ডের জন্ম হয়। তাঁর আসল নাম অস্কার ফিঙ্গাল ও’ফ্লাহার্টি উইলস ওয়াইল্ড। তাঁর বাবা-মা ডাবলিনের অ্যাংলো-আইরিশ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ওয়াইল্ডের বাবা উইলিয়াম ওয়াইল্ড ছিলেন একজন বিখ্যাত আইরিশ পেশাদার চিকিৎসক। তিনি মূলত অটো-ল্যারিঞ্জোলজিস্ট এবং চক্ষুবিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং চিকিৎসাবিদ্যার পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্ব, লোককাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে গ্রন্থ রচনাও করেছিলেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘নাইট’ উপাধি প্রদান করা হয়েছিল তাঁকে। অস্কার ওয়াইল্ডের মা জেন ওয়াইল্ড মূলত কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি ‘স্পেরানজা’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করতেন। শুধু তাই নয় আয়ারল্যাণ্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করে কবিতাও লিখেছিলেন ১৮৪৮ সালে। বিভিন্নরকম লোককাহিনী সংগ্রহ করার প্রতি জেন ওয়াইল্ডয়ের আগ্রহ ছিল বিপুল। বাড়িতে প্রাচীন গ্রিস এবং রোমের চিত্রকর্ম এবং মূর্তির উপস্থিতি থেকে বোঝা যায় জেন ওয়াইল্ড নব্য-শাস্ত্রীয় পুনরুজ্জীবনের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। জেন এবং উইলিয়ামের তিন সন্তানের মধ্যে অস্কার ওয়াইল্ড ছিলেন দ্বিতীয়। এখানে উল্লেখ্য যে জেনের সঙ্গে বিবাহের পূর্বে উইলিয়াম ওয়াইল্ডের অন্য তিন সন্তান হেনরি উইলসন, এমিলি ওয়াইল্ড এবং মেরি ওয়াইল্ডের জন্ম হয়েছিল যদিও তাঁরা জেন ওয়াইল্ডের সন্তান নয়। তিনি তাঁর দাদা উইলি ওয়াইল্ডের থেকে দুই বছরের ছোট ছিলেন বয়সে। উইলি ওয়াইল্ড নিজেও একজন কবি এবং সাংবাদিক ছিলেন। ১৮৫৫ সালে তাঁদের পরিবার ১নম্বর মেরিয়ন স্কোয়ারে চলে আসার পর ১৮৫৭ সালে অস্কার এবং উইলির একটি বোন ইসোলা ওয়াইল্ডের জন্ম হয়, যদিও নয় বছর বয়সেই ইসোলার মৃত্যু হয়েছিল। অস্কার ওয়াইল্ডদের নতুন এই বাসস্থান ছিল বেশ বড়ো এবং শৌখিন, কারণ সমাজে ততদিনে তাঁর মা-বাবার খ্যাতি এবং সম্মান ছড়িয়ে গিয়েছিল।
নয় বছর বয়স পর্যন্ত অস্কার ওয়াইল্ড বাড়িতেই একজন ফরাসি নার্সমেইড বা ধাত্রী এবং এক জার্মান গৃহশিক্ষিকার কাছে ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিখেছিলেন। ১৮৬৪ সালে অস্কার তাঁর দাদার সঙ্গে যোগদান করেন ফারমানাঘ কাউন্টির এনিসকিলেনে অবস্থিত পোর্টোরা রয়্যাল স্কুলে। সেখানে ১৮৭১ সাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ে পড়াকালীন অস্কার ওয়াইল্ড তাঁর অসাধারণ বাচনভঙ্গির মাধ্যমে রসাত্মক গল্প বলে সহকর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন যদিও স্কুলে তাঁর দাদা উইলির মতো জনপ্রিয়তা তিনি পাননি। পরবর্তীকালে অস্কার দাবি করেছিলেন যে স্কুলে তাঁর বন্ধুরা তাকে দানব বা বিস্ময়কর ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল কারণ তিনি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে কোনো লেখা পড়তে পারতেন। ক্লাসিক বা ধ্রুপদী বিষয়ে অসামান্য দক্ষতার কারণে তিনি সে বিষয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিলেন ১৮৬৯ সালে। সেসময় গ্রিক এবং লাতিন পাঠের মৌখিক অনুবাদে অসামান্য প্রতিভার প্রদর্শন করে তিনি ‘কার্পেন্টার প্রাইজ ফর গ্রিক টেস্টামেন্ট’ অর্জন করেন। ট্রিনিটির রয়্যাল স্কুলের বৃত্তি অর্জনকারী তিনজনের মধ্যে একজন হলেন অস্কার ওয়াইল্ড। ১৮৭১ সালে এই বৃত্তি লাভ করেছিলেন তিনি। সেই বৃত্তি নিয়ে পোর্টোরা ছেড়ে ধ্রুপদী বিষয় অধ্যয়নের জন্য তিনি চলে যান ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে। ১৮৭১ থেকে ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এই কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। দাদা উইলির সঙ্গে একটি ঘরে বসবাস করতেন। সেখানে শিক্ষক জে. পি. মাহাফি গ্রিক সাহিত্যে অস্কারের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন। একজন প্রতিভাশালী ছাত্র হিসেবে মাহাফির সঙ্গে পরবর্তীকালে ‘স্যোশাল লাইফ ইন গ্রিস’ নামক বই লেখার কাজ করেছিলেন অস্কার ওয়াইল্ড । ‘দ্য ইউনিভার্সিটি ফিলোজফিকাল সোসাইটি’ বৌদ্ধিক এবং শিল্পসংক্রান্ত শিক্ষা প্রদানের একটি কেন্দ্র ছিল যেখানে দান্তে, সুইনবার্নের মতো মানুষদের শিল্পচিন্তা বিষয়ক আলোচনা চলতো। অস্কার ওয়াইল্ড সেখানকার সদস্য হন এবং ‘অ্যাসথেটিক মরালিটি’ নামে একটি লেখা লিখে সেখানে পেশ করেছিলেন। ট্রিনিটি কলেজে প্রথম বর্ষে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন, দ্বিতীয় বর্ষে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৃত্তি লাভ করেন এবং তৃতীয় বর্ষে গ্রিক ভাষায় অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য তিনি বার্কলে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। এছাড়াও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগডালেন কলেজের ডেমিশিপ বৃত্তি অর্জন করেছিলেন তিনি। ম্যাগডালেন কলেজে ১৮৭৪ থেকে ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত অস্কার গ্রেটস অর্থাৎ প্রাচীন রোমান, গ্রিকের মতো ধ্রুপদী বিষয় অধ্যয়ন করেছিলেন। এখানে পড়াকালীন ক্যাথলিক ধর্মের প্রতি তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। তিনি খুব মনোযোগ সহকারে সেসময় ক্যাথলিক ধর্মে রূপান্তরিত কারডিনাল নিউম্যানের লেখা গ্রন্থ পাঠ করেছিলেন। ম্যাগডালেন কলেজে থাকাকালীন তাঁর সাহিত্যচর্চা পরিণত এবং গভীরতাপ্রাপ্ত হতে থাকে। ১৮৭৮ সালে কলেজের ছাত্র হিসেবেই ‘রাভেনা’ নামক কবিতা রচনা করে তিনি সম্মানীয় নিউডিগেট পুরস্কার লাভ করেছিলেন। সেসময় অস্কার গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন জন রাস্কিন এবং ওয়াল্টার পেটারের জীবনে শিল্পের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব সংক্রান্ত তত্ত্বগুলি দ্বারা। সেসময় ইংল্যাণ্ডের নান্দনিক আন্দোলন এবং ডেকাডেন্ট মুভমেন্টের একজন জনপ্রিয় মুখ হয়ে উঠছিলেন তিনি।
১৮৭৯ সালে ‘চ্যান্সেলরস এসে প্রাইজে’র জন্য অস্কার ওয়াইল্ড ‘দ্য রাইজ অব হিস্টোরিকাল ক্রিটিসিজম’ নামে একটি লেখা জমা দিয়েছিলেন যদিও তখন তিনি ছাত্রাবস্থা পেরিয়ে গিয়েছিলেন। তখন থেকেই তাঁর নিজস্ব শৈলীর সন্ধানে সংগ্রাম করছিলেন তিনি। ট্রিনিটি কলেজে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন সাময়িক পত্রে অস্কার ওয়াইল্ডের কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। মূলত ‘কোট্টাবস’ এবং ‘ডাবলিন ইউনিভার্সিটি ম্যাগাজিন’-এ তাঁর কবিতা ছাপা হতো। ১৮৮১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ২৭ বছর বয়সে ‘পোয়েমস’ নামে তাঁর কবিতার একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম ৭৫০ কপি শীঘ্রই বিক্রি হয়ে গেলেও ‘পাঞ্চ’ নামক বিখ্যাত ব্যঙ্গ-পত্রিকা এবং অক্সফোর্ড ইউনিয়ন নামক বিতর্কসমাজ এই বইয়ের খুব একটা সুখ্যাতি করেনি। লেখা চুরির অভিযোগও শুনতে হয়েছে অস্কারকে। ১৮৮২ সালে বইটি আবার মুদ্রিত হয়। ১৮৮১ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ ব্রিটিশ ইমপ্রেসারিও রিচার্ড ডি’ওয়লি কার্টের আমন্ত্রণে অস্কার ওয়াইল্ড নিউইয়র্কে যান এবং গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করে নন্দনতত্ত্বের ওপর অনেকগুলি বক্তৃতা দেন। ৫০টি বক্তৃতার জন্য চার মাস সময় ধার্য হলেও সেটা বেড়ে প্রায় এক বছরের কাছাকাছি চলে আসে এবং ২৬০ দিনে ১৪০টিরও বেশি বক্তৃতা দিয়েছিলেন অস্কার ওয়াইল্ড। এই বক্তৃতাগুলি চলাকালীন মাঝে তিনি হেনরি লংফেলো, অলিভার ওয়েনডেল হোমস এবং ওয়াল্ট হুইটম্যানের সঙ্গে পরিচিত হন। সেবছরই নিউইয়র্কে তাঁর লেখা ‘ভেরা’ নাটক মঞ্চস্থ করার ব্যবস্থাও করেছিলেন। আমেরিকা থেকে ফেরার সময় তিন মাস তিনি প্যারিসে অবস্থান করেন এবং ব্ল্যাঙ্কভার্সে একটি ট্র্যাজেডি রচনা করেন। আমেরিকার পর তিনি ব্রিটেন এবং আয়ারল্যাণ্ডেও একটি বক্তৃতার সফরে গিয়েছিলেন। ওয়াইল্ড এবং তাঁর নন্দনতত্ত্ব বিষয়ক আলোচনা উভয়কেই ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে বিদ্রুপ করা হয়েছিল। ‘হার্পার্স উইকলি’র মতো ম্যাগাজিন তাঁকে বিদ্রুপ করে বানরের সঙ্গেও তুলনা করেছিল সেই সময়। অস্কার ওয়াইল্ডের রচিত ট্র্যাজেডি ‘দ্য ডাচেস অব পাডুয়া’র সাফল্য তাঁকে প্রভূত অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেছিল। ১৮৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্যারিসে আসেন তিনি। ১৮৮১ সালে লণ্ডনে কনস্ট্যান্স লয়েডের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ওয়াইল্ডের। গেইটি থিয়েটারে যখন বক্তৃতা করছেন অস্কার, ১৮৮৪ সালে সেই সময়েই লয়েড ডাবলিনে এসেছিলেন। সেসময় ওয়াইল্ড তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ১৮৮৪ সালের ২৯ মে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সেন্ট জেমস চার্চে। অস্কার এবং জেনের দুটি সন্তান যথাক্রমে ১৮৮৫ সালে সিরিল এবং ১৮৮৬ সালে ভিভিয়ানের জন্ম হয়। হে মার্কেট গণহত্যায় অভিযুক্তকারীদের ক্ষমা করার জন্য জর্জ বার্নাড শ’য়ের আবেদনপত্রে একমাত্র স্বাক্ষরকারী ছিলেন অস্কার ওয়াইল্ড।
১৮৮৫-৮৭ সালে বিভিন্ন জার্নালে গদ্য রচনা করেছিলেন অস্কার ওয়াইল্ড। সমালোচনা এবং সাংবাদিকতা পছন্দ করতেন তিনি। ‘দ্য পল মল গেজেট’-এর মতো পত্রিকার জন্য কলম ধরেছিলেন অস্কার। আইরিশ স্বাধীনতার পক্ষে বাবা-মায়ের মতোই ওয়াইল্ডেরও সমর্থন ছিল। চার্লস স্টুয়ার্ট পার্নেলের বিরুদ্ধে হত্যার প্ররোচনার মিথ্যা অভিযোগ আনা হলে ওয়াইল্ড তাঁর রক্ষার্থে ‘ডেইলি ক্রনিকলে’ ধারাবাহিকভাবে লিখতে শুরু করেন। ১৮৮৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে ওয়াইল্ড ‘দ্য লেডিজ ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি পরবর্তীকালে পত্রিকাটির পূর্বতন নাম পাল্টে রাখলেন ‘দ্য উওমেন’স ওয়ার্ল্ড’। ১৮৮৯ সাল নাগাদ ওয়াইল্ড গদ্যে নিজস্ব স্বর খুঁজে পান এবং দ্বিতীয় খণ্ড শেষ হলে ওয়াইল্ড ‘দ্য উওমেন’স ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকা ছেড়ে চলে যান।
১৮৮৮ সালে ‘দ্য হ্যাপি প্রিন্স অ্যাণ্ড আদার টেলস’ নামে অস্কার ওয়াইল্ডের ছোটদের জন্য লেখা একটি ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৮৯১ সালে আরও যে দুটি ছোটগল্পের বই প্রকাশিত হয় সেগুলি হল, ‘লর্ড আর্থার সেভিল’স ক্রাইম অ্যাণ্ড আদার স্টোরিজ’ এবং ‘আ হাউজ অব পোমেগ্রানাটস’। ‘দ্য পোর্ট্রেট অফ মিস্টার ডব্লিউ. এইচ’ গল্পটি লেখা শুরু হয় ১৮৮৭ সালে, পরে ব্ল্যাকউডস এডিনবরা ম্যাগাজিনে ১৮৮৯ সালে তা প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকতায় ক্লান্ত হয়ে নন্দনতত্ত্ব বিষয়ক তাঁর চিন্তা-ভাবনা বড় গদ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করতে থাকেন ওয়াইল্ড যেগুলি সেই সময়ের বিখ্যাত পত্রিকাগুলিতে প্রকাশিত হতে থাকে। বলা যেতে পারে তাঁর একমাত্র রাজনৈতিক রচনাটি হল ‘দ্য সোল অব ম্যান আন্ডার স্যোশালিজম’। তাঁর চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ হল ‘দ্য ডিকে অব লাইং’, ‘পেন, পেন্সিল অ্যাণ্ড পয়জন’, ‘দ্য ট্রুথ অব মাস্ক’ এবং দুটি ভাগে ‘দ্য ক্রিটিক অ্যাজ আর্টিস্ট’। অস্কার ওয়াইল্ডের লেখা একমাত্র উপন্যাস ‘দ্য পিকচার অব ডোরিয়ান গ্রে’ প্রথমে ছোট উপন্যাস বা নভেলা হিসেবে ১৮৯০ সালের জুলাই সংখ্যায় লিপিনকটস মান্থলি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে ১৮৯১ সালে পরিবর্ধিত আকারে উপন্যাসরূপে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ‘ভেরা’ এবং ‘দ্য ডাচেস অফ পাডুয়া’ নাটক দুটি সাফল্য না পেলেও পরবর্তীতে রচিত ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের নাটক ওয়াইল্ডকে সাফল্য অর্জনে হতাশ করেনি। সেসব নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ফরাসি ভাষায় লেখা বিয়োগান্তক নাটক ‘সালোমে’ (১৮৯৬ সালে গ্রন্থকারে প্রকাশ), সামাজিক কমেডি ঘরানার ‘লেডি উইন্ডারমেয়ারস ফ্যান’, ‘আ উওম্যান অফ নো ইম্পর্টেন্স’ (১৮৯৩), ‘অ্যান আইডিয়াল হাজব্যাণ্ড’ (১৮৯৪) এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক ‘দ্য ইম্পর্টেন্স অফ বিইং আর্নেস্ট’ (১৮৯৫ সালে অভিনীত)।
১৮৯১ সালে অক্সফোর্ডের ছাত্র লর্ড অ্যালফ্রেড ডগলাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান অস্কার ওয়াইল্ড । ডগলাসের বাবা জন ডগলাস এই সমকামী সম্পর্ক মেনে নেননি। অস্কার জন ডগলাসের বিরুদ্ধে মামলা করলেও জনের জোগাড় করা সাক্ষ্য প্রমাণের সামনে নিজের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি অস্কার এবং জন সমকামের অপরাধে তৎকালে প্রচলিত আইন অস্কারের বিরুদ্ধে প্রয়োগের চেষ্টা করেন। ১৮৯৫ সালে গ্রেফতার করা হয় ওয়াইল্ডকে এবং দুই দফা বিচারের পর তাঁকে ‘গ্রস ইনডিসেন্সি’ বা ঘোর অশ্লীলতার দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ১৮৯৭ সালের ১৮ মে পর্যন্ত কারাবাস করে তিনি প্যারিসে ফিরে যান।
শেষ তিন বছর প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় কাটিয়ে ১৯০০ সালের ৩০ নভেম্বর প্যারিসের হোটেল ডি’আলসেসে সেরিব্রাল মেনিনজাইটিসে ৪৬ বছর বয়সে অস্কার ওয়াইল্ডের মৃত্যু হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান