সববাংলায়

সৌরজগৎ ।। সোলার সিস্টেম

সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে নাকি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে এই নিয়ে বহু প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানী এবং ধর্মযাজকদের মধ্যে মতভেদ চলে আসছে। কোপারনিকাস , গ্যালিলিও প্রমুখেরা বলেছিলেন পৃথিবীই একটি গ্রহ হিসেবে সূর্যের মত বিরাট এক নক্ষত্রের চারদিকে ঘোরে। কিন্তু তারও আগে টলেমি বলেছিলেন যে পৃথিবীর চারদিকে সূর্য ঘোরে এবং এটাই নাকি বাইবেলে বলা আছে। বহু বহু বছর পরে বিজ্ঞানের দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে গ্যালিলিও, কোপারনিকাসের কথাই সত্য। এখন এই সূর্য কিংবা পৃথিবী যে মহাকাশে রয়েছে তা একটা বিশেষ ছায়াপথের অংশ। আমাদের পৃথিবী এবং সূর্য সবই রয়েছে আকাশগঙ্গা ছায়াপথে, ইংরেজিতে যাকে বলে মিল্কি ওয়ে। মহাবিশ্বের থাকা মধ্যে হাজার হাজার ছায়াপথের মধ্যে একটি আকাশগঙ্গা যার মধ্যে সূর্য নামের একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সৌরজগৎ। এই সৌরজগৎ -এর মধ্যে রয়েছে আটটি গ্রহ, অসংখ্য গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা এবং আরো বহু মহাজাগতিক বস্তু। ছায়াপথের গঠন বা বৈশিষ্ট্যের মত এই সৌরজগতের গঠনও বেশ জটিল এবং ব্যাপ্ত। একে একে সেসব জেনে নেওয়া যাক চলুন।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, আজ থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে গ্যাস আর ধুলোকণার এক বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ (Intersteller Cloud) থেকে এই সৌরজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘটি খুব সম্ভবত কাছের কোন নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভার ফলে উদ্ভুত শক ওয়েভ (shock wave) এর প্রভাবে ভেঙ্গে গিয়ে একটি বিশাল ঘূর্ণায়মান চাকতির মত সৌর নীহারিকায় (solar nebula) পরিণত হয়। এই নীহারিকার কেন্দ্রে মাধ্যাকর্ষণের কারণে প্রবল চাপ তৈরি হয় যা বাইরের সবকিছুকে ভিতরে টেনে নিয়ে যায়। চাপ এত বেশি থাকায় হাইড্রোজেন পরমাণুগুলি একত্রিত হয়ে হিলিয়াম পরমাণু তৈরি করে এবং প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। এর ফলেই বিশালাকায় এক অগ্নিপিণ্ড হিসেবে সূর্যের জন্ম হয়। সৌর নীহারিকায় সেই সময় উপস্থিত পদার্থের ভরের প্রায় ৯৯ শতাংশই একত্রিত হয়ে সূর্যের মধ্যে সঞ্চিত হয়েছিল। পরে আরো যে পদার্থ অবশিষ্ট ছিল তা ঐ নীহারিকার ডিস্কের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছোটো-বড়ো নানা আকারের বস্তুপিণ্ড তৈরি করে। বড়ো আকারের বস্তুপিণ্ডগুলি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে ধীরে ধীরে গোলকাকার হয়ে ওঠে এবং এগুলিই ক্রমে গ্রহ, উপগ্রহ, বামন গ্রহ ইত্যাদি তৈরি করে।যেগুলি যুক্ত হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ হয়নি সেগুলি গ্রহাণুপুঞ্জের বেল্ট (asteroid belt) তৈরি করেছিল। আর বাকি ক্ষুদ্রাকার বস্তুপিণ্ড থেকে গ্রহাণু, উল্কা, ধূমকেতু ও আরো অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তু তৈরি হয়েছে। আমাদের সৌরজগতে সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহ সবই মহাকর্ষীয় আকর্ষণে আবদ্ধ থাকে। মহাবিশ্বের প্রায় ১ কোটি ছায়াপথের মধ্যে অন্যতম হল আকাশগঙ্গা ছায়াপথ যার মধ্যেকার একটি নীহারিকার ঘূর্ণায়মান সর্পিল বাহুর অন্তর্গত একটি ওরিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে আমাদের সৌরজগৎ অবস্থিত। এই মহাবিশ্বের মাত্র ১৫ শতাংশ নক্ষত্রেরই কেবল নিজস্ব গ্রহ-পরিবার (Planetary System) রয়েছে আর তার মধ্যে সূর্য হল অন্যতম। লাতিন শব্দ ‘সোলিস’ (Solis)-এর অর্থ হল সূর্য যা থেকে ‘সোলার’ (Solar) কথাটি এসেছে যার অর্থ হল সূর্য সম্বন্ধীয়।

সৌরজগৎ – এ সূর্যকে কেন্দ্র করে মোট আটটি গ্রহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। সূর্য থেকে দূরত্বের ক্রমানুসারে আটটি গ্রহের নাম হল যথাক্রমে বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন। এছাড়াও রয়েছে বামনগ্রহ প্লুটো। সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে সবচেয়ে নিকটতম বুধের দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিমি. এবং সবচেয়ে দূরের গ্রহ নেপচুনের দূরত্ব ৪৪৯ কোটি ৩০ লক্ষ কিমি.। এর মাঝে সূর্য থেকে মাত্র ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরেই রয়েছে পৃথিবী। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, প্লুটো তো সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে আছে, তাহলে নেপচুন কেন? আসলে প্লুটোকে বলা হয় বামন গ্রহ অর্থাৎ গ্রহ হয়ে ওঠার জন্য যে যে বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তার মধ্যে একটি বা একাধিক বৈশিষ্ট্য প্লুটোর নেই। আগে প্লুটোকেও সৌরজগৎ – এ গ্রহের মধ্যে ধরা হত বলে নয়টি গ্রহ মানা হত, কিন্তু ২০০৬ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন’ (IAU) প্লুটোকে বামন গ্রহের তালিকাভুক্ত করে এবং সেই থেকেই ধরা হয় সৌরজগতে রয়েছে আটটি গ্রহ। এই আটটি গ্রহকেও আবার তাদের প্রকৃতি এবং উপাদান অনুসারে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় –

  • টেরেস্ট্রিয়াল প্ল্যানেট বা পৃথিবী সদৃশ গ্রহ (Terrestrial Planet)
  • জোভিয়ান প্ল্যানেট বা গ্যাসীয় দানব গ্রহ (Jovian Planet)।

বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল হল টেরেস্ট্রিয়াল প্ল্যানেট যা প্রধানত পাথুরে উপাদানে নির্মিত, এর ভূমি শক্ত, কঠিন এবং তাদের কোনো বলয় নেই। এছাড়া এই গ্রহগুলির খুব সামান্য কয়েকটি উপগ্রহ আছে বা একটিও নেই এবং আকারে এগুলি তুলনায় ক্ষুদ্রতর। সৌরজগতের সবথেকে ছোটো গ্রহ হল বুধ যা কিনা মাত্র তিন মাসে (পৃথিবীর সময় অনুসারে) সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পারে। শুক্র গ্রহ সৌরজগতের সবথেকে কঠিন ভূমিবিশিষ্ট গ্রহ যার গড় উষ্ণতা প্রায় ৮৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট। প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং উদ্‌গিরিত লাভাস্রোত দেখা যায় এখানে। মঙ্গল গ্রহে জলের সামান্য অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যা বরফের আকারে জমে আছে। অন্যদিকে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রচুর জল রয়েছে, এর উষ্ণতাও অনুকূল। আর তাই এতে প্রাণ সৃষ্টি হতে পেরেছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। এছাড়া জোভিয়ান গ্রহগুলির মধ্যে বৃহদাকার গ্যাসীয় গ্রহ হল বৃহস্পতি ও শনি এবং বৃহদাকার তুষারাবৃত গ্রহ হল ইউরেনাস ও নেপচুন। গ্যাসীয় গ্রহগুলি মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত আর তুষারাবৃত গ্রহগুলি পাথর, বরফ এবং জলের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। মিথেন এবং অ্যামোনিয়ার মিশ্রণও এখানে দেখা যায়। এই জোভিয়ান গ্রহগুলির একাধিক উপগ্রহ থাকে, শনি গ্রহের ক্ষেত্রে বলয়ও দেখা যায়। আবার এগুলির কোনোটাতেই কঠিন ভূমি দেখা যায় না। সবথেকে বড়ো জোভিয়ান গ্রহ বৃহস্পতি এই সৌরজগতের সবথেকে বড়ো গ্রহ। সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ হল শনি। তারপরে আকারের দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ হল ইউরেনাস এবং আকারের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে আছে শীতলতম গ্রহ নেপচুন। গ্রহের কথা হল যখন, উপগ্রহের কথাও বলতে হবে। অদ্ভুত মজার বিষয় হল এই সৌরজগতে গ্রহ আছে মাত্র আটটি, কিন্তু উপগ্রহ রয়েছে প্রায় ২৪০টি। এগুলিকে প্রাকৃতিক উপগ্রহ (Natural Satelite) বলা হয়। এর মধ্যে পৃথিবীরই কেবলমাত্র একটি উপগ্রহ রয়েছে চাঁদ, তাছাড়া বৃহস্পতি গ্রহের প্রায় ৭৯টি এবং শনির প্রায় ৮২টি উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে এখনও পর্যন্ত। নেপচুনের উপগ্রহ সংখ্যা মাত্র ১২টি এবং ইউরেনাসের উপগ্রহ সংখ্যা ২৭টি। নীচের ছবিতে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সব গ্রহগুলি দেখা যাচ্ছে, আদপে পুরো সৌরজগতটাই এরকম দেখতে। সূর্য থেকে প্রতিটি গ্রহের দূরত্বটা ছবিতে AU অর্থাৎ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিটে দেওয়া আছে। সহজভাবে বলতে গেলে সূর্য থেকে পৃথিবীর যে দূরত্ব অর্থাৎ প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার তাকে ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট ধরা হয়। এই হিসেবটা মাথায় রেখে ছবি দেখে দূরত্বগুলির আন্দাজ পাওয়া যাবে।

সৌরজগৎ ।। সোলার সিস্টেম
সৌরজগৎ ।। সোলার সিস্টেম

শুধুই এই গ্রহ বা উপগ্রহগুলি নয়, সৌরজগতে রয়েছে অসংখ্য গ্রহাণুপুঞ্জ। মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে এই গ্রহাণুপুঞ্জগুলি নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, এই কক্ষপথকে বলা হয় গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় (Asteroid Belt)। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে অতীতকালে কোনো বিশালাকায় গ্রহ বিস্ফোরণে চূর্ণ হয়ে এই গ্রহাণুপুঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইরকমই আরেকটি বলয় দেখা যায় নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে যাকে বলা হয় কুইপার বলয় (Kuiper Belt)। প্লুটোর মতো আরো কিছু বামন গ্রহ এই বলয়ের মধ্যেই রয়েছে। তবে গ্রহাণুপুঞ্জ বলয়ের মতো কুইপার বলয় আসলে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বরফখণ্ড দিয়ে তৈরি। বিজ্ঞানীদের মতে এই কুইপার বলয়েই অসংখ্য ধূমকেতুর সৃষ্টি হয়েছে। এই কুইপার বলয় ছাড়িয়েও সৌরজগতের শেষ সীমানায় রয়েছে উর্ট মেঘ (Oort Cloud)।

তাহলে প্রশ্ন হতে পারে এই সৌরজগতের শেষ কোথায়? বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই উর্টের মেঘই সৌরজগতের শেষ সীমানা, তারপর আন্তঃমহাকাশীয় মহাশূন্য বিরাজমান। এই মহাশূন্য সম্পর্কে বিশেষ কিছু এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই অঞ্চলে সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও কাজ করে না। এখন এই সৌরজগত বিশালাকার এক হেলিওস্ফিয়ার (Heliosphere) দ্বারা আবৃত থাকে। যদিও এর অভ্যন্তরের সমস্ত গ্রহেরই নিজস্ব একেকটি আবরণ থাকে যাকে বলা হয় চৌম্বকক্ষেত্র (Magnetosphere)। এই হেলিওস্ফিয়ার বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ার মহাজাগতিক রশ্মি ও নানাবিধ উচ্চগতি সম্পন্ন আন্তঃনাক্ষত্রিক কণা (Interstellar Particle) থেকে গ্রহ ও সৌরজগতকে রক্ষা করে। পৃথিবীর নিজস্ব চৌম্বকক্ষেত্র অত্যন্ত প্রবল হলেও শুক্র ও মঙ্গলের চৌম্বকক্ষেত্র ততটা শক্তিশালী নয়। বেশিরভাগ গ্রহে নিজস্ব বায়ুমণ্ডলও রয়েছে। প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণের টানেই বায়ুমণ্ডল বিরাজ করে। একমাত্র পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলেই যে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে তা এখানে প্রাণ সৃষ্টির সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে শুক্র ও মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের অধিকাংশই কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কেবলমাত্র হিলিয়াম, হাইড্রোজেন ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল নেই। আবার অন্যদিকে শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটানের বায়ুমণ্ডল এই সৌরজগতের মধ্যে সবথেকে পুরু যা ঘন নাইট্রোজেন দিয়ে তৈরি।

আজও এই সৌরজগতের সবকটি গ্রহ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য জেনে ওঠা সম্ভব হয়নি। অখণ্ড সৌরজগৎ – এ মহাকাশযান যাচ্ছে অহরহ, তুলে আনছে ছবি, নথিবদ্ধ করছে মহাজাগতিক শব্দ, বর্ণালীর রঙ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আজও বহু নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছেন। এই অসীম মহাকাশের কতটুকুই বা আমরা জানি! মহাকাশে বিজ্ঞানের এখন নতুন অভিযান প্রাণের উৎস সন্ধানে। পৃথিবীর বাইরে আর কোথায় প্রাণ আছে সে সম্ভাবনা ক্রমেই আলোকিত হয়েছে মঙ্গলকে কেন্দ্র করে। পৃথিবীও নাকি একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন কোথায় যাবে এই মানবসমাজ। এই সৌরজগতের মধ্যে তাদের এক বিকল্প বাসস্থানের খোঁজে নিরন্তর গবেষণায় মগ্ন বিজ্ঞানীরা।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading