ভূগোল

দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শেষ পর্যন্ত যে দেশ বর্ণবৈষম্যের জন্য নিন্দিত ছিল সেই দেশ আজ আফ্রিকার সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। নেলসেল ম্যান্ডেলার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ( South Africa)। নেলসেল ম্যান্ডেলা  ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।

আফ্রিকা মহাদেশের একটি অন্যতম দেশ হল দক্ষিণ আফ্রিকা। আফ্রিকার দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত এই দেশটির সরকারি নাম রিপাবলিক অফ সাউথ আফ্রিকা। এই দেশ নয়টি প্রদেশে বিভক্ত।  উত্তরে নামিবিয়া, বোটসোয়ানা ও জিম্বাবুয়ে, পূর্ব ও উত্তরপূর্বে মোজাম্বিক ও সোয়াজিল্যান্ড, দক্ষিণে আটলান্টিক মহাসাগর ঘিরে রয়েছে সমগ্র দেশটিকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী তিনটি। প্রথম টি হল প্রিটোরিয়া যা কার্যকরী রাজধানী, দ্বিতীয় টি হল ব্লমফাটিন বিচারালয় সংক্রান্ত কাজকর্ম এখানে হয়ে থাকে এবং কেপ টাউন আইন প্রণয়ন সম্বন্ধীয় রাজধানী এটি। কেপটাউনে দেশের সংসদ ও সরকারি দপ্তরগুলি অবস্থিত৷ জনসংখ্যার দিক থেকে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম শহর।শহরের প্রধান স্টেডিয়াম হল নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আয়তনের বিচারে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের ২৪ তম বৃহত্তম দেশ। ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার বিচারে সমগ্র বিশ্বে ২৪তম জনবহুল দেশ এটি। জোহানেসবার্গ এই দেশের বৃহত্তম শহর এবং বিশ্বের ৫০তম বৃহত্তম শহর। দক্ষিণ আফ্রিকার ধনী প্রদেশগুলির একটি হল এই শহর৷ এই দেশের অধিকাংশ স্থানে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আবহাওয়া থাকে৷

দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রার নাম রান্ড৷

এই দেশে ১১ টি সরকারি ভাষা স্বীকৃত৷ এছাড়া আফ্রিকান, ইংরেজি এবং ৯ টি স্থানীয় ভাষা প্রচলিত আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করেন৷ তবুও খ্রীষ্ট ধর্মের মানুষ এখানে বেশী লক্ষ্য করা যায়।দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাপ

দক্ষিণ আফ্রিকার বাসিন্দাদের নৃতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের কারণে এখানে কোনো ধরনের একটি সংস্কৃতি গড়ে প্রাধয়ন্য পায় না খাদ্যের বৈচিত্র্যই পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের বিষয়।

কেপ টাউন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা না বললে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্রমন স্থানগুলির কথা অধরা থেকে যায়। এখানে কেপ পয়েন্ট, টেবিল পর্বত সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে এছাড়া অনেক বন্দর এখানে অবস্থান করছে। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে এটিকে বিশ্বের সুন্দরতম শহরগুলির মধ্যে ধরা করা হয়ে থাকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হল এটি।

এখানে জ্বালানি যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন উন্নত তেমন এই দেশে আছে প্রচুর সম্পদ৷ এতকিছু থাকা সত্ত্বেও বেকারত্বের হার এখানে বেশী। জ্বালানি উৎপাদনকারী ও রপ্তানীকারক দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাম অগ্রগন্য। জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও স্পেনের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যশস্য, হীরক, ফল, স্বর্ণ, ধাতব ও খনিজ দ্রব্য, চিনি ও উল হল প্রধাণ রপ্তানী দ্রব্য।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!