বিজ্ঞান

রাগী মানুষদের ক্ষতস্থান সারতে দেরী হয় কেন

কথায় বলে রাগলে নাকি মানুষের জ্ঞান থাকে না।রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে এমন অনেক কাজ অনেকেই করে ফেলেন যার জন্য পরে আফসোস করতে হয়। এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন রেগে মেগে হাত কেটে ফেলবার আগে সাবধান- আপনার এই রেগে যাওয়ার জন্যই ঐ কাটা জায়গা সহজে সারবে না।রাগের সাথে আবার ক্ষত স্থানের কি সম্পর্ক ভাবছেন?

আমেরিকার ওহাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি পরীক্ষা করেন। তাঁরা ৯৮ জন স্বেচ্ছাসেবীর হাতে অল্প করে ছ্যাঁকা দিয়ে লক্ষ্য রাখেন কতদিনে ক্ষত সারে।এই ছ্যাঁকা দেওয়ার আগে তাঁরা এই ৯৮ জনের সাইকোলজিক্যাল টেস্ট নেন এটা দেখতে কত সহজে তারা রেগে যাচ্ছেন, কতক্ষণ সময় লাগছে।পরীক্ষার পর রাগের একটা স্কেলে তাদের স্থান নির্দিষ্ট করা হয়। এই ৯৮ জনের মধ্যে যারা বিশেষ কিছু ওষুধ,সিগারেট এবং অত্যধিক ক্যাফেইনযুক্ত খাবার খেয়েছেন এবং যারা অত্যধিক রোগা কিংবা মোটা তাদের এই পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়-যাঁরা সহজে রেগে যান তাদের ক্ষতস্থান সারতে চারদিনেরও বেশি লাগার সম্ভাবনা চারগুণ বেশি তুলনায় যারা সহজে রাগেননা।তবে এর মধ্যেও তারতম্য আছে-যারা রাগে ফেটে পড়েছেন বা একটুও রেগে যাননি তাদের ক্ষতস্থান বেশি তাড়াতাড়ি শুকিয়েছে যারা অনেক চেষ্টা করেও রাগ চেপে রাখতে পারেননি তাদের থেকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা যাঁরা রগে ফেটে পড়েন অর্থাৎ রেগে যাওয়ার পর বাহ্যিক অভিব্যক্তি দিয়ে রাগ প্রকাশ করে দেন বা যাঁরা একদমই রাগেন না তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অনেকটা এক রকম হয় কিন্তু যাঁরা রেগে গিয়ে রাগটা নিয়ন্ত্রণ করতে চান বা চেপে রাখতে চান তাঁদের ক্ষেত্রে হয় অন্যরকম। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন মানুষের রাগের সঙ্গে কর্টিসোল হরমোনের একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। যে সব ব্যক্তি সাংসারিক ঝগড়ার সময় স্ত্রীয়ের ওপর ভয়ানক রাগারাগি করেন তাদের শরীর থেকে রেগে যাওয়ার সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণে এন্ডোক্রিন মডিউলেটর বের হতে শুরু করে।বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন এই কর্টিসোল ক্ষরণ বেশি হলে ক্ষতস্থান জুড়তে যে দুইরকম সাইটোকাইন(সাইটোকাইন একরকম প্রোটিন যা দরকারের সময় ইমিউন সিস্টেম সেল থেকে ক্ষরণ হয়) লাগে কর্টিসোল ক্ষরণে এর পরিমাণ কমে যায়।

জাঁ ফিলিপ লুঁই, এই গবেষণার মূল কান্ডারি যিনি,এই সিদ্ধান্তে এসেছেন -" The ability to regulate the expression of one's anger has a clinically reluctant impact on wound healing.Those who have low anger control secreted more Cortisol following exposition to stressor. This individual difference in the response to the blistering was related to longer healing."

তথ্যসূত্র


  1.  অল্প অল্প বিজ্ঞানঃ ডঃ রমেন মজুমদার- বেস্ট বুকস্ঃ পৃঃ২০৭-২০৮
  2. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2502071/

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!