সববাংলায়

ভিনসেন্ট ভ্যান গখ মৃত্যুরহস্য

সারা বিশ্বের চিত্রশিল্পের ধারায় ভিনসেন্ট ভ্যান গখ এক উজ্জ্বল নক্ষত্রস্বরূপ। এক স্বতন্ত্র চিত্ররীতির উদ্ভাবন করে তিনি এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছিলেন। আজ একজন কিংবদন্তি হিসেবেই তাঁকে সম্মান করেন বিশ্বের তাবড় তাবড় শিল্পবোদ্ধা। এমন একজন আন্তর্জাতিক মানের চিত্রশিল্পীর জীবন যেভাবে শেষ হয়েছিল তা নিয়ে বেশ জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ভিনসেন্ট ভ্যান গখ মৃত্যুরহস্য (Vincent Van Gogh Death Mystery) উন্মোচনে প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ফলে হতাশা ও অবসাদে ভুগে ভ্যান গখ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু এর পাশাপাশি অন্য আরেক তত্ত্বও পরবর্তীকালে উপস্থাপন করা হয়েছিল। নিজের প্রাণপ্রিয় ভাই থিওকে লেখা ভিনসেন্টের বহু চিঠিপত্র থেকে তাঁর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের প্রভূত প্রয়াস করেছেন গবেষকেরা। সেই চিঠিপত্র ভিনসেণ্টের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়কে জানার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়। তবু একাধিক মৃত্যুতত্ত্বের উপস্থিতির ফলে ভিনসেন্ট ভ্যান গখ মৃত্যুরহস্য আজও রহস্যের ধোঁয়াশাতেই রয়ে গেছে।

১৮৯০ সালের ২৯ জুলাই মাত্র ৩৭ বছর বয়সে ফ্রান্সের আউভার্স-সুর-ওইস গ্রামে আউবার্গ রাভক্সে নিজের ঘরেই ভিনসেন্ট ভ্যান গখের মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যু ঘটবার দুইদিন আগে তিনি নিজেই নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করবার চেষ্টা করেছিলেন, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণাই বেশিরভাগ মহলেই জনপ্রিয়। আত্মহত্যা করবার তত্ত্বটির সমর্থনে সাধারণত ভ্যান গখের মানসিক অবস্থার অবনতির কথাই তুলে ধরা হয়ে থাকে।

প্রথমত সেই গুলি লাগবার দিনটির কথা বলা যাক। আউভার্সের র‍াভক্স সরাইখানায় ছিলেন তখন ভিনসেন্ট। সেই সরাইখানার মালিকের কন্যা অ্যাডলিন রাভক্সের বয়স তখন ১৩। ১৮৯০ সালের ২৭ জুলাই দিনটির স্মৃতি অ্যাডলিন পরবর্তীকালে প্রকাশ করেছিলেন। সেদিন প্রাতঃরাশের পর ভ্যান গখ সরাইখানা থেকে চলে গিয়েছিলেন। তবে প্রতিদিন অভ্যাসমতো সন্ধেবেলায় ফিরে এলেও সেদিন তিনি ফেরেননি, ফলে সকলেই শিল্পীকে নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে রাত আরও বাড়লে, প্রায় নটার দিকে ভিনসেন্ট সরাইখানায় ফেরেন নিজের পেটটা চেপে ধরে। অ্যাডলিনের মা শিল্পীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন সমস্যা হয়েছে কিনা। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে অস্পষ্ট অসমাপ্ত উত্তর দেন তিনি। পরে অ্যাডলিনের বাবার মনে হয়েছিল তিনি শিল্পীর আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছেন এবং ভ্যান গখকে তিনি বিছানায় কুঁকড়ে পড়ে থাকতেও দেখেছেন। এমন দৃশ্য দেখে শিল্পীকে তিনি অসুস্থ কিনা জিজ্ঞেস করায় ভিনসেন্ট তাঁর ক্ষত দেখিয়েছিল অ্যাডলিনের বাবাকে। কেবল তাই নয়, সেই ক্ষত দেখিয়ে নাকি তিনি স্পষ্টই বলেছিলেন যে, রাতের দিকে তিনি গমের ক্ষেতের দিকে গিয়েছিলেন এবং ছবি আঁকছিলেন। সেখানেই নিজেকে নাকি গুলি করে আত্মহত্যা করবার চেষ্টা করেন। অ্যাডলিনের বাবা তখন স্থানীয় ডাক্তারকে খবর দেওয়ার জন্য সেই সরাইখানায় উপস্থিত একজন ডাচ শিল্পী অ্যান্টন হিরশিগকে পাঠান, কিন্তু সেই ডাক্তার তখন সেখানে ছিলেন না। ফলে তিনি তখন খবর দেন ভ্যান গখের বন্ধু ও ডাক্তার গ্যাচেটকে। গ্যাচেট এসে ক্ষতস্থান ড্রেসিং করে চলে যান। অ্যাডলিনের বাবা এবং হিরশিগ সারারাত ভিনসেন্টের কাছে বসে থাকেন। ভিনসেন্ট কখনও ধূমপান করে, কখনও কাঁদেন কিন্তু কথা তেমন বলেন না, মূলত নীরবই থাকেন। সকালে দুজন জেন্ডারমেস (ফরাসী অশ্বারোহী এবং নাইটদের উত্তরাধিকারী বলা চলে) সরাইখানায় এসে ভিনসেন্টকে তাঁর আত্মহত্যার চেষ্টা করবার কারণ জিজ্ঞেস করলে শিল্পী বলেন, তাঁর নিজের শরীর নিয়ে তিনি স্বাধীনভাবে যা খুশি তাই করতে পারেন, কাউকে অভিযুক্ত তিনি করবেন না।

সোমবার সকালে পোস্ট অফিস খোলবার পর অ্যাডলিনের বাবা ভ্যান গখের প্রাণপ্রিয় ভাই থিওকে টেলিগ্রাম করে দেন। বিকেলবেলা ট্রেনে করে এসে পৌঁছান থিও। অ্যাডলিন এবং থিও দুজন মিলে ভিনসেণ্টের প্রতি খেয়াল রাখতে শুরু করেন। ভিনসেন্ট ক্রমে কোমায় চলে যান এবং ২৯ জুলাই রাত দেড়টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। ডেথ সার্টিফিকেটে সময় লেখা ছিল ১.৩০ এএম।

নিজের বোন লাইসকে লেখা একটি চিঠিতে থিও মৃত্যুর আগে তাঁর ভাইয়ের অনুভূতি সম্পর্কে লিখেছিলেন যে, মৃত্যুশয্যায় ভিনসেন্টের পাশে বসে যখন তাঁরা বলেছিলেন যে, তাঁকে ভাল করে তুলতে চেষ্টা করবেন এবং ভেবেছিলেন এতে ভিনসেন্টের হতাশা দূর হবে, ভিনসেন্ট তখন বলেছিলেন, ‘লা ট্রিসটেসে দুরেরা টুজুরস’ অর্থাৎ দুঃখ চিরকাল থাকবে।

উপরোক্ত ঘটনার ভিত্তিতে ভিনসেন্টের মৃত্যুকে বেশিরভাগ মানুষ আত্মহত্যা হিসেবেই গণ্য করে থাকেন এবং আত্মহত্যার কারণ হিসেবে শিল্পীর মানসিক অবসাদ এবং হতাশাকেই দায়ী করা হয়। ১৮৮৯ সাল থেকে ভিনসেন্ট তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি অনুভব করেছিলেন বলে মনে হয়। ফ্রান্সের আর্লেসে থাকার সময় ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন এবং তারই ফলস্বরূপ একটি ক্ষুর দিয়ে তিনি বাম কানের অল্প একটু অংশ কেটে ফেলেছিলেন। আর্লেসের লোক তাঁকে পাগল বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে আর সেখানে থাকা হয়নি ভিনসেন্টের। এরপর তিনি সেন্ট-রেমিতে আশ্রয় নেন। ১৮৮৯ সালের মে মাসের প্রথম দিকে ভিনসেন্ট একটি অ্যাসাইলামে যান। তাঁর মানসিক অবস্থা একটু স্থিতিশীল হয়েছিল। সেখানেই বিখ্যাত ‘দ্য স্টারি নাইট’ ছবিটি এঁকেছিলেন। অবশ্য এরপর জুলাইয়ের শেষের দিকে তাঁর অবস্থার আবার অবনতি হয় এবং প্রায় একমাস ভোগেন তিনি। তারপর পুনরায় সেবছরই ডিসেম্বরের শেষ এবং জানুয়ারির শুরু থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৮৯০ সালের মে মাসে ভিনসেন্ট অ্যাসাইলাম থেকে মুক্তি পান এবং কিছুদিন থিও ও তাঁর স্ত্রী জো-এর সঙ্গে কাটানোর পরে চলে আসেন প্যারিসের আউভার্স-সুর-ওইস-এ।

এখানে উল্লেখ্য যে, ছোটবেলা থেকেই আসলে ভিনসেন্ট একা একাই প্রায় বেড়ে উঠেছিলেন। নানারকম ঘটনার অভিঘাতে ছোট থেকেই ডিপ্রেশন দানা বেঁধেছিল তাঁর ভিতরে। আধুনিক মনোবিদদের অনেকের মতেই, ভিনসেন্ট স্ক্রিৎজোফ্রেনিয়া, সিফিলিস, হাইপার-গ্রাফিয়া, ম্যানিক-ডিপ্রেশন, টেম্পোরাল লোব এপিলেপ্সির মতো রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভিনসেন্টের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার আরও একটা কারণ সম্ভবত এটাও যে, অর্থকষ্টের কারণে ভাই বিবাহিত থিও-র ওপর আর্থিক দিক থেকে নির্ভর করে থাকতে হতো তাঁকে, যার ফলে মানসিকভাবে অস্বস্তি ও কষ্ট বোধ করতেন তিনি।

থিওকে লেখা ভ্যান গখের বিভিন্ন চিঠিতে জীবন সম্পর্কে তাঁর হতাশা ও ব্যর্থতার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। ১০ জুলাই লেখা একটি চিঠিতে দেখা যাচ্ছে লিখেছেন যে, তিনি ব্যর্থতা অনুভব করছেন এবং সমস্ত সম্ভাবনা অন্ধকার হয়ে আসছে ও তিনি কোনও সুখী ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না। সেই ১০ জুলাইয়েরই অন্য একটি চিঠিতে তিনি তাঁর সাম্প্রতিক আঁকা ছবিতে দুঃখ ও একাকিত্বের প্রকাশ সম্পর্কে লিখেছেন এবং বলেছেন সেই একাকিত্ব ও দুঃখ প্রকাশ করবার জন্য তাঁকে নিজের পথের বাইরে যেতে হয়নি। এর থেকেই সেসময় তাঁর নিজের ভিতরে যে শূন্যতা ও দুঃখবোধের অস্তিত্ব ছিল তা টের পাওয়া যায়। এই ধরনের হতাশাজনক চিঠির মাঝে মাঝে অবশ্য খুব আশাব্যাঞ্জক, উচ্ছ্বসিত উচ্চারণও শোনা যায় তাঁর চিঠিতে। শান্ত আকাশ, গমক্ষেত, পাহাড়, কোমল সবুজ প্রান্তরে তাঁর মন যে খুব শান্ত রয়েছে সেসব কথাও তাঁর এইসময়ের চিঠির মধ্যে দেখা যায়। তবে থিও কিন্তু ভিনসেন্টের বেশ কিছু চিঠির বয়ান থেকেই বুঝতে পারছিলেন যে তিনি আসলে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। অবশেষে এই জুলাই মাসেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক ঘটনা।

ভিনসেন্ট ভ্যান গখ নিজেই নিজেকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করবার চেষ্টা করে মারা গিয়েছিলেন কিনা দীর্ঘকাল এই প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ২০১১ সালে স্টিভেন নাইফেহ এবং গ্রেগরি হোয়াইট স্মিথ তাঁদের রচিত ‘ভ্যান গখ : দ্য লাইফ’ নামে শিল্পীর একটি জীবনী প্রকাশ করেন এবং সেই গ্রন্থে ভিনসেন্টের মৃত্যু যে আত্মহত্যা, সেই বিষয়ে তাঁদের কলমে সংশয় প্রকাশ পায়। তাঁদের মতে, ভিনসেন্টের পক্ষে আত্মহত্যা করবার সম্ভাবনা কম ছিল, কারণ মৃত্যুর ঠিক আগে যেসব চিত্রকর্ম তিনি সৃষ্টি করেছিলেন সেগুলিতে এক উচ্ছ্বসিত মনেরই প্রকাশ লক্ষ করা যায়। এছাড়াও অনেক চিঠিতে ভ্যান গখ নিজেই আত্মহত্যাকে পাপ বলে বর্ণনা করেছিলেন। লেখকদ্বয় আরও প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, নিজেকে গুলি করবার পর তিনি পেটের সেই জখম নিয়ে কীভাবে গমক্ষেত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের সরাইখানা পর্যন্ত যেতে পারলেন! এছাড়াও তাঁর মানসিক অসুস্থতার খবর মানুষের মধ্যে এতখানি প্রচারিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি আত্মহত্যার অস্ত্রটি অর্থাৎ পিস্তলটি কীভাবে হাতে পেলেন! এমনকি সেদিন ভিনসেন্ট নিজের সঙ্গে ছবি আঁকার যে সরঞ্জাম নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ সেসবেরও হদিশ পায়নি। এছাড়াও প্রশ্ন থেকে যায়, যদি ভ্যান গখ আত্মহত্যাই করতে চাইবেন তবে একটি গুলি চালিয়ে নিজেকে কেবল আহত করেই কেন ফিরে এলেন সরাইখানায়? কেন দ্বিতীয় গুলি চালিয়ে নিজের মৃত্যু নিশ্চিত করেননি?

স্টিভেন নাইফেহ এবং গ্রেগরি হোয়াইট স্মিথ অন্য একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করে বলেছেন, সম্ভবত এটি কোনো দুর্ঘটনাজনিত হত্যা অথবা শিল্পী ফাউল খেলার শিকার। তাঁরা বলেছেন বুলেটটি তীর্যকভাবে ভ্যান গখের পেটে প্রবেশ করেছে, নিজেকে গুলি করলে যা সম্ভব নয়। তাঁদের গবেষণায় উঠে আসে কয়েকটি ছেলের কথা যাদের ভ্যান গখ চিনতেন এবং যারা ভিনসেন্টকে গুলি করেছিল বলে তাঁদের অনুমান। সেই ছেলেদের মধ্যে একজন ছিল যে কাউবয়ের পোশাকে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করত, যার নাম রেনেয়া সেক্রেটান। ভ্যান গখের কর্তিত কান, পাগলামি রেনেয়ার কাছে ঠাট্টার খোরাক ছিল৷ ভ্যান গখকে প্রায়ই তারা উত্যক্ত করত। পরবর্তীকালে রেনেয়া বলেছেন তিনি ভিনসেন্টের পিছনে লাগতেন ঠিকই তবে তাঁকে গুলি তিনি করেননি, তবে পিস্তলটি দিয়েছিলেন। যদিও পুলিশের রেকর্ডে এমন কোনও ঘটনার উল্লেখ নেই। হতে পারে হয়তো মজা করার ছলেই পিস্তলের ট্রিগারে চাপ দিয়েছিলেন রেনেয়া এবং সেই গুলিতেই বিদ্ধ হন ভিনসেন্ট। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী কেউ ছিলেন না। পরে ভিনসেন্টের ক্ষতর পাশে দুটি গোলাকার দাগ দেখা গিয়েছিল, একটি কালচে বেগুনি ও অন্যটি বাদামি। এই দাগ থেকেই অনেকে বলেন বন্দুক চামড়ার সঙ্গে লাগিয়ে ভিনসেন্ট নিজেই নিজেকে গুলি করেন। এবিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য উপরোক্ত লেখকদ্বয় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডি মায়োর কাছে যান। ডি মায়ো পিস্তলটি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। ১৮৮৪ সালে স্মোকলেস গানপাউডার আবিষ্কৃত হয়। তার আগে বন্দুকে ব্যবহৃত হত ব্ল্যাক পাউডার৷ কিন্তু নবাবিষ্কৃত গানপাউডার ১৮৯০ সালেও ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর কাছে আসেনি এবং ব্ল্যাক পাউডারের বন্দুক কাছ থেকে ব্যবহার করলে দেহে একটিমাত্র ছিদ্র থাকার কথা নয় এবং আশেপাশের চামড়াও পুড়ে যাওয়ার কথা। অতএব মায়োর মতে, এই গুলি অন্তত দেড়ফুটের বেশি দূরত্ব থেকে চলেছিল। তাই যদি হয় তবে আত্মহত্যা তত্ত্বটি আরও বেশি সংশয়ের মুখে পড়ে।

পরবর্তীকালে শিল্প ইতিহাসবিদ জন রিওয়াল্ড ১৯৩০-এর দশকে আউভার্সে যখন গিয়েছিলেন তখন ভিনসেন্টের মৃত্যু সম্পর্কিত একটি রটনা সেখানে শুনেছিলেন যে, কয়েকটি ছোট ছেলের হাত থেকে চলা পিস্তলের গুলিতে দুর্ঘটনাবশত ভ্যান গখ বিদ্ধ হয়েছিলেন। ছেলেরা তারপর এগিয়ে আসেনি কারণ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা তাদের ছিল। ভ্যান গখও তাই মৃত্যুশয্যায় কারও নাম না করে আত্মহত্যার কথা বলেছেন, এমন একটি তত্ত্বও উঠে আসে।

তবে ডাক্তার গ্যাচেট, থিও প্রমুখ ভ্যান গখের কাছের মানুষেরা শিল্পীর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলেই মনে করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সব মহলেই আত্মহত্যার তত্ত্বই ছিল জনপ্রিয় এবং আজও তা রয়েছে কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণার ফলে উপস্থাপিত নতুন তত্ত্ব একপেশে এই সিদ্ধান্তের পথে অন্তরায় তৈরি করে এবং ভিনসেন্ট ভ্যান গখ মৃত্যুরহস্যকে আরও জটিল করে তোলে।


সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন।  যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন। 


 

error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

Discover more from সববাংলায়

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading