সব

ভোটের কালি

তর্জনীর প্রথম গাঁটটা থেকে নখ অবধি লাগানো লম্বা কালচে রঙের কালিটা দেখিয়ে অনেক সেলফি তোলে অনেকে।এই কালিটাই যদি আপনার রাজনৈতিক অধিকারের অব্যর্থ ট্যাগমার্ক হয় তাহলে এই কালিটা নিয়ে তো দু’এক কথা না জানলেই নয়! যতই হোক আমার আপনার রাজনৈতিক অধিকারের পরিচায়কের সি.ভি বলে কথা। এই ভোটের কালিটিকে বাংলায় বলে ‘অমোচনীয় কালি’ আর ইংরাজীতে ‘Indelible Ink’।কর্ণাটকের মহীশূরের ‘মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড বার্ণিশ লিমিটেড’ হল ভারতের একমাত্র সংস্থা যাদের এই ভোটের কালি তৈরী করার অনুমতি আছে। মহীশূররাজ নলবদি কৃষ্ণরাজ ওদেয়ার প্রথমে এই কোম্পানি টি যখন স্থাপন করেন তখন এর নাম ছিল ‘মাইসোর ল্যাক অ্যান্ড পেইন্টস লিমিটেড’।সেটা প্রায় ১৯৩৭ সালের কথা।স্বাধীনতার পর এটি পাবলিক সেক্টর কোম্পানিতে পরিণত হয় ও ভারতের তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন (১৯৬২)থেকে এদের হাতে দায়িত্ব পড়ে অমোচনীয় কালি তৈরীর।বর্তমানে এই ‘মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড বার্ণিশ লিমিটেড’ অমোচনীয় কালির মার্কার পেনও বানাচ্ছে যা সদ্য ব্যবহার হয়েছে আফগানিস্তানের নির্বাচনে।২০১২ সালে কম্বোডিয়ার নির্বাচনেও আমাদের দেশের এই কোম্পানীর কালিই কিন্তু ব্যবহার হয়।

থাইল্যান্ড,সিঙ্গাপুর,মালয়েশিয়া,নাইজেরিয়া ও সাউথ আফ্রিকাতেও কিন্তু আমাদের দেশের এই কালি রপ্তানী হয়।সমগ্র এশিয়ার মধ্যে এই ‘মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড বার্ণিশ লিমিটেড’-ই হল সবচেয়ে বড় সংস্থা অমোচনীয় কালি উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির মধ্যে। অমোচনীয় কালি তৈরীতে প্রধান যে রাসায়নিকটি ব্যবহার হয় তা হল সিলভার নাইট্রেট।এত রাসায়নিক থাকতে কেন সিলভার নাইট্রেটকে বাছা হল তার কারণ হিসেবে রসায়নবিদরা যা বলছেন সেটা হল এক, সিলভার নাইট্রেট সহজেই জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে দ্রবণ তৈরী করতে পারে ও দুই,অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে আসা মাত্রই কালচে রঙ ধারণ করে।এখন যখন এই কালি আমাদের চামড়ার ওপর লাগানো হয় কালিতে থাকা সিলভার নাইট্রেট আমাদের চামড়ায় থাকা নুনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড উৎপন্ন এই সিলভার ক্লোরাইড এর দাগ প্রায় কুড়ি দিন পর্যন্ত থাকে। করে।এই দাগ জল, অ্যালকোহল, ব্লীচ, নেলপলিশ রিমুভার কোণ কিছুতেই ওঠে না একমাত্র যতক্ষণ না পুরনো চামড়া খসে গিয়ে নতুন চামড়া গজাচ্ছে।বাণিজ্য মানের ভোটের কালিতে কতদিন পর্যন্ত কালির দাগ দেখা যাওয়া প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করে ১০%- ১৮% সিলভার নাইট্রেট এর দ্রবণ ব্যবহার হয়ে থাকে।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।