সব

রিসার্চ এন্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)

যেকোনো দেশের গুপ্তচর সংস্থা সেই দেশের সুরক্ষায় নিজেদের একটি আলাদা মাত্রা রাখে। বিদেশি গতিবিধিতে নজর রাখাই হোক বা জঙ্গীদের চক্রান্তের খবর রাখা এইসব কাজে এই সংস্থাগুলি সক্রিয় থাকে। বিভিন্ন দেশের গুপ্তচর সংস্থাগুলির মধ্যে একটি শক্তিশালী সংস্থা হল ভারতের (RAW), পুরো কথাটি হল রিসার্চ এন্ড অ্যানালিসিস উইং (Research And Analysis Wing)।

২১ শে সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে র (RAW) গঠিত হয়। র-এর কেন্দ্রীয় দপ্তর হল নিউ দিল্লি। র-এর নীতিবাক্য হল ‘The law protects when it is protected’। র (RAW) গঠিত হওয়ার আগে চরবৃত্তি করার ভার ছিল আইবি(Intelligence Bureau) এর উপর। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের স্বাধীনতার পর সঞ্জীবী পিল্লাই (Sanjeevi Pillai) আইবির প্রথম ভারতীয় ডাইরেক্টর হন। ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ভারত আর চীনের যুদ্ধে ভারত হেরে যায়। এই হারের বড় কারণ ছিল আইবি ঠিকমত কাজ না করতে পারা তাই সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরু অন্য একটি গুপ্তচর সংস্থা বানানোর প্রস্তাব দেন কিন্তু এই প্রস্তাব পরবর্তী কয়েক বছর শুধু পর্যালোচনার মধ্যে রয়ে যায়। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ভারতের তখনকার সেনাপ্রধান জানান তাঁদের আরও সঠিক খবরের দরকার। এরপর চরবৃত্তির জন্য অন্য সংস্থা গড়ার কাজ দ্বিগুণ গতিতে চলতে থাকে। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে র (RAW) গঠিত হয়।র-এর প্রথম চীফ্‌ হন আর এন কাও (R N Kao)। র (RAW) প্রধানত বাহ্যিক নিরাপত্তার ব্যাপারটি দেখে যেখানে আইবি (IB) আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে। শুরুর সময় র-এর লোক সংখ্যা ছিল ২৫০ জন। সেই সময় র-এ নিয়োগ এর জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসী সিপাহীদের বাছাই করা হত, তারপর কঠিন ট্রেনিং এ যারা উত্তীর্ণ হত তাদের নিয়োগ করা হত। এখন শুধু ডিফেন্স এর লোকই নয় র-এর কাজে আগ্রহীদেরও বাছাই করে নিয়োগ করা হয়।

আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে ঠিকভাবে কাজ করার জন্য র এর ৫ টি চাইল্ড এজেন্সী রয়েছে সেগুলি হল (১) দ্য এভিয়েশন রিসার্চ সেণ্টার (The Aviation Research Center) (২) ন্যাশানাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অরগানাইজেশন (National Technical Research Organisation) (৩) ইলেক্ট্রনিকস এন্ড টেকনিক্যাল সার্ভিসেস (Electronics and Technical Services) (৪) রেডিও রিসার্চ সেণ্টার (Radio Research Center (৫) স্পেসাল ফণ্টেয়ার ফোর্স (Special Frontier Force)।

র (RAW) তাদের রিপোর্ট সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠায়। র (RAW) বেশ কিছু অকল্পনীয় মিশন সফল করেছে, এরকম কিছু ভয়ানক মিশন হল অপারেশন মেঘদুত, অপারেশন কাহুতা, অপারেশন ক্যাক্টাস, অপারেশন চাণক্য। র (RAW), আইবি (IB) একসাথে মিলে নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশর ৪০০ বেশি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অনেক জঙ্গীর সন্ধান পায়। ১৯৭৫ সালের আগে সিকিম ভারতের অন্তর্গত ছিল না, সিকিমকে ভারতের মধ্যে আনতে র বড় ভূমিকা পালন করে। ভারতের পরামাণু পরীক্ষার কথা গুপ্ত রাখার ভার র-কে দেওয়া হই সেই সময়।

র (RAW) এর খারাপ দিকটি হল ভারতের কোনো চর অন্য কোনো দেশে চরের কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে ভারত সেই চরকে নিজের দেশের বলে মানতে নারাজ থাকে, সেই সব চর মৃত্যুর পরেও নিজের দেশের মাটি পায় না। এর বড় উদাহরণ হলেন ভারতের চর রবিন্দার কৌশিক (Ravinder Kaushik) যিনি পাকিস্তানে চরবৃত্তি করার সময় ধরা পড়েন ও পাকিস্তানের জেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এমনকি মৃত্যুর পরও ভারত সরকার তাঁকে ভারতীয় মানতে অস্বীকার করায় পাকিস্তানের জেলের পিছনে তাঁর দেহ সৎকার করা হয়।

বর্তমানে (২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে) র এর ডিরেক্টার অনিল কুমার ধাসমানা (Anil Kumar Dhasnama)। ভারতের বাহ্যিক সুরক্ষার দিকটি জন্মলগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত র (RAW) বেশ নির্ভরতার সঙ্গে পালন করছে।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!