বিজ্ঞান

পৃথিবীর আহ্নিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে

বিজ্ঞান আমাদের মনের নানান প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন ভাবে দেওয়ার চেষ্টা করে । কিছু উত্তর পরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ দ্বারা হাতে কলমে পাওয়া যায় আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প-তাত্ত্বিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়। পৃথিবী তার অক্ষের চারিদিকে নিয়মিত ঘুরছে যাকে আমরা আহ্নিক গতি বলি। এই বেগ বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ঘন্টায় ১৬০০ কিলোমিটার। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে পৃথিবীর আহ্নিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে? যে গতির কথা আমরা পৃথিবীর মধ্যে থেকে বুঝতে পারি না, মনে হয় পৃথিবী স্থির সেই গতি থেমে গিয়ে পৃথিবী সত্যি সত্যি স্থির হয়ে গেলে কী হতে পারে সেই নিয়ে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন মতামত জেনে নিন এখানে।

  • পৃথিবীর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর চারপাশে থাকা বায়ুমন্ডল ও সমুদ্র একই বেগে ঘুরছে। পৃথিবীর নিজের চারিদিকে আবর্তন হঠাৎ থেমে গেলে বায়ুমন্ডল ও সমুদ্র গতিজাড্যের জন্য ঘুরতে থাকবে ফলে পৃথিবীপৃষ্ঠের সবকিছুকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে পূর্ব দিকে। নিরক্ষীয় অঞ্চলে ছিটকে পড়ার গতি বেশি হবে এবং মেরু অঞ্চলের দিকে ক্রমশ কমতে থাকবে।
  • পৃথিবীর নিজের অক্ষের চারিদিকে আবর্তনের জন্য তৈরি হওয়া অপকেন্দ্র বল (Centrifugal force) নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রে জলস্ফীতি ঘটায়। এই আবর্তন বন্ধ হলে যেহেতু উভয় মেরুতে অভিকর্ষ বল তুলনামূলক বেশি তাই বিপুল জলরাশি পৃথিবীর দুই মেরুতে ভিড় করবে (সুনামি) এবং বিশাল ভূমিক্ষয় ঘটতে পারে। নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রে ৮ কিমি জলস্তর নেমে সেই জল মেরুতে পৌঁছাবে ফলে আন্টারটিকাসহ অন্যান্য মহাদেশের বহু অংশ জলের তলায় ডুবে যাবে।পৃথিবীর দুই মেরুতে মহাসমুদ্র ও মাঝখানে ভূভাগ দিয়ে তা আলাদা-এই রকম দেখতে হবে।
  • দিন ও রাতের সময় সীমা বেড়ে গিয়ে ৬ মাস দিন ও ৬ মাস রাত হবে। যেদিক সূর্যের সামনে থাকবে টানা রোদে থাকায় মরুভূমি হয়ে যাবে,উল্টো দিকে সবুজ রোদের অভাবে ধ্বংস হবে।ভয়ঙ্কর তুষার ঝড়ে জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠবে। সূর্যের সামনে থাকা অংশের তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রী পার করে যাবে। পুকুর, নদ নদী, জলাশয় সব শুকিয়ে যাবে। একমাত্র প্রান্তীয় অঞ্চলে খুব সামান্য মানুষের আদিম জীবনযাপন সম্ভব হবে।
  • বিজ্ঞানীরা মনে করেন পৃথিবীর আবর্তনের জন্য এর চারিদিকে একটা চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয় যা সূর্যের থেকে আগত গরম সৌরবাতাসের (solar wind) ঝলকানি থেকে আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করে। স্বাভাবিক ভাবেই আবর্তন থামলে এই চৌম্বকক্ষেত্র আর থাকবে না সূর্যের বহ্নিশিখায় (sun flare) ও বিভিন্ন মহাজাগতিক রশ্মির কুপ্রভাবে পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
  • এই গতি হঠাৎ থেমে না গিয়ে ধীরে ধীরে বহু বছর ধরে কমতে থাকলে বিজ্ঞানীরা হয়তো সম্পূর্ণ না হলেও বেশ কিছু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে সময় পাবেন কিন্তু পৃথিবীর আবর্তন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে কোনোভাবেই আমাদের অস্তিত্ব টিকবে না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পৃথিবীর আহ্নিক গতি থেমে গেলে কী হতে পারে এই ভাবনাটির সমস্তটাই তাত্ত্বিক বিষয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে আগামী কয়েক লক্ষ বছরে পৃথিবীর হঠাৎ থেমে যাওয়ার সম্ভবনা প্রায় শূন্য।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর - জন্ম সার্ধ শতবর্ষ



তাঁর সম্বন্ধে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বাংলাভাষায় তথ্যের চর্চা ও তার প্রসারের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন