বিজ্ঞান

তারা তারকা আকৃতির হয় কেন

যদি আপনাকে তারার ছবি আঁকতে বলা হয়, তাহলে আপনি পাঁচ, ছয় বা তার অধিক সূচ্যগ্র বিশিষ্ট তারা আঁকবেন। তারা চিহ্ন বা স্টার শেপ বলতেও আমরা এরকমই বুঝি যদিও আমরা জানি তারা সাধারণত গোলাকার হয়। তাহলে কখনও কি ভেবে দেখেছেন তারা তারকা আকৃতির হয় কেন বা গোটা বিশ্ব জুড়ে মানুষ এরকম ছবিই এঁকে আসছে কেন?

আসলে মানুষ যা দেখে সেরকমই আঁকার চেষ্টা করে, সমস্ত কিছুই। তারার বেলায়ও তাই হয়। তাই তারা তারকা আকৃতির দেখায় কেন সেটাই মূল প্রশ্ন। এখানে উল্লেখ্য, শুধু মানুষ নয়, সব প্রাণীই তারাকে এরকম দেখে, এমনকি উচ্চ মানের টেলিস্কোপের ক্ষেত্রেও তাই।

পদার্থবিদ্যা অনুসারে আমরা জানি আলো তরঙ্গধর্মী। যদিও আলোর দ্বৈত সত্তা আছে – কণা ও তরঙ্গ ধর্মী, তবে এক্ষেত্রে আলোর তরঙ্গ ধর্মই প্রাধান্য লাভ করে। এই তরঙ্গ ধর্মের জন্য যখন দূরের কোন আলো কোন বস্তু বা ছিদ্রের ভিতর দিয়ে যায় আলোক তরঙ্গের কিছুটা বিচ্যুতি ঘটে (বেঁকে যায় বা ধাক্কা খায়) ফলে তারপর যখন কোন জায়গায় আলো পড়ে তখন বিভিন্ন প্যাটার্নের তৈরি হয়। এর সব চেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জানলার ঝিলমিলি বা দেওয়ালের ঘুল্ঘুলি দিয়ে আলো এসে যখন দেওয়ালে পড়ে সেখানে সুন্দর আল্পনা তৈরি হয়। এই একই কারণে কোন উজ্জ্বল আলোর দিকে চোখ খুব ছোট করে নিয়ে দেখলে আলোটিকে বহু সূচ্যগ্র বিশিষ্ট দেখায়।

এ তো গেল, আলোর ধর্মের কথা। কিন্তু এর সঙ্গে যোগ হয় আমাদের আমাদের চোখের গঠনও। আমাদের চোখের তন্তুগুলি মিলিত হয়ে যেখানে লেন্স তৈরি করে তা নিঁখুত গোল হয় না বরং অনেকটা সেলাই সন্ধির মত হয়, ইংরাজিতে একে সুচার লাইন (Suture lines) বলে। ফলে আলো যখন এই অংশ দিয়ে যায় তখন এর আকৃতি সুচ্যগ্র বিশিষ্ট হয়।

আরও মজার কথা হল, প্রতিটি মানুষের চোখের এই সুচার লাইনগুলি এক রকম তো হয়ই না, এমনকি আমাদের দুচোখের সুচার লাইনগুলিও আলাদা হয়, তাই আমরা যদি এক চোখ বন্ধ করে আলাদাভাবে দুবার তারা দেখি তখন সামান্য হলেও আলাদা হবে। তবে, একজন মানুষ সব তারার আকৃতি একই রকম দেখবে।

একইভাবে এপারেচার নিঁখুত গোল না হওয়ায় ক্যামেরায় আলোর ছবি তুললেও বহু সূচ্যগ্র বিশিষ্ট হয় এমনকি হাবল টেলিস্কোপেও বহু দূরের তারার চার সুচ্যগ্র বিশিষ্ট ছবি ওঠে।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

ভিডিও

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


১ Comment

1 Comment

  1. অরবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়​

    অক্টোবর ১০, ২০১৯ at ০৯:১৯

    এত ভালো আর প্রয়োজনীয় লেখা–অথচ, বড্ড অশুদ্ধ বাংলা, তথা বানান।
    যদি বাংংলা বানানটুকুও শুদ্ধ লেখা যেত. . .!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।