এখনকার দিনে প্রায় সকলের হাতেই স্মার্টফোন এসে গেছে আর ফোন পেয়ে খচখচ করে ছবি তুলতে ভালোবাসে না এমন লোক পাওয়াই মুশকিল। তার মধ্যে এ যুগের নতুন উদ্ভাবন সেলফি , ভাল বাংলায় যাকে বলা যায় নিজস্বী। নিজে হাতে ফোনের ক্যামেরায় নিজের ছবি তোলাকেই সেলফি বলা হয়। মানে নিজেই নিজের ছবি তোলা। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের সেলফি আমাদের হামেশাই চোখে পড়ে। আর সবথেকে বিস্ময়কর তথ্য হল ২০১৩ সালে ‘সেলফি’ এই শব্দটা অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিক্শনারির বিচারে ‘ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার’-এর মর্যাদা পেয়েছে। ঐ অক্সফোর্ড ডিকশ্নারি থেকেই ধার করে বলা যায়, স্মার্টফোন বা ওয়েবক্যামের সাহায্যে নিজের হাতে তোলা নিজেরই ছবি যখন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায়, সেটাই সেলফি। একবিংশ শতাব্দীর এই পর্যায়ে সেলফি এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না ১৮৩৯ সালে এক ডাচ্ চিত্রগ্রাহক বিশ্বের প্রথম সেলফিটি তুলেছিলেন। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, বিশ্বের প্রথম সেলফিটি (world’s first selfie) তোলা হয় আজ থেকে ১৮৩৯ সালে ফিলাডেলফিয়ায়। চিত্র সৌজন্য জানাতেই হবে রবার্ট কর্ণেলিয়াসকে।

১৮০৯ সালের ১ মার্চ পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় রবার্ট কর্ণেলিয়াসের জন্ম হয়। দক্ষ রসায়নবিদ কর্ণেলিয়াস তাঁর বাবার ল্যাম্প-তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। একইসঙ্গে ছবি তোলার ক্ষেত্রেও প্রবল আগ্রহ ছিল তাঁর। একদিন কাজ করতে করতেই ‘ডগারোটাইপ পদ্ধতি’তে তিনি নিজের একটি অগোছালো ছবি তুলে ফেলেন। ভাবছেন কী এই ডগারোটাইপ পদ্ধতি? চলুন জেনে নিই। আসলে উনবিংশ শতাব্দীতে ক্যামেরায় ছবি তোলার পদ্ধতি এত সহজ ছিল না। ল্যাম্প কারখানায় কাজ করার সুবাদে কর্ণেলিয়াস সিলভার-প্লেটিং এবং আলোকে ব্যবহারের বিশেষ কৌশল রপ্ত করেছিলেন। আর কারখানার পিছনদিকে ছবি ডেভেলপ করার জন্য একটি স্টুডিও বানিয়েছিলেন কর্নেলিয়াস। সেই স্টুডিওয় ছিল একটা টিনের বাক্স যাতে একটা ক্ষুদ্র ছিদ্রসহ একদিকের মুখ বন্ধ থাকতো। সেই ছিদ্রের মধ্যে ছোট্ট বৃত্তাকার লেন্স বা অপেরা গ্লাস বসানো হতো। লেন্সের খাপ খুলে দিলে দিনের আলো বক্সের মধ্যে প্রবেশ করে বক্সের মধ্যে রাখা সিলভার-প্লেটিং করা ব্রোমিন ও আয়োডিন যুক্ত তামার পাতে ছবি ফুটে উঠতো। ফরাসি ব্যক্তি ডগারে এই পদ্ধতি আবিষ্কার করেন বলে এর নাম হয় ‘ডগারেটাইপ’। ১৮৪০ থেকে ১৮৫০-এর দশকে সর্বপ্রথম এই পদ্ধতিতেই সেসময় সাধারণ মানুষ ছবি ডেভেলপ করতো। ১৮৩৯ সালের অক্টোবর মাসের একদিন তিরিশ বছর বয়সী রবার্ট কর্ণেলিয়াস ঠিক এভাবেই ল্যাম্প-কারখানার পিছনদিকে নিজের তৈরি ক্যামেরায় বিশ্বের প্রথম সেলফিটি তোলেন। প্রথমে ক্যামেরাকে ঠিকঠাক করে সেট করে, দৌড়ে ফ্রেমের মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়েন কর্ণেলিয়াস এবং টানা দশ-পনেরো মিনিট স্থিরভাবে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এর ফলে যে ছবিটি তৈরি হয় তা আসলে একটি ‘অফ্-সেন্টার ইমেজ’ অর্থাৎ ছবির ফোকাস থেকে খানিক সরে গিয়েছিলেন কর্ণেলিয়াস। স্থির ঋজুভাবে দুই হাত ক্রস করে বুকের উপর রেখে দাঁড়িয়ে এলোমেলো চুলে প্রথম সেলফি তোলেন কর্ণেলিয়াস। একইসঙ্গে কর্ণেলিয়াসের তোলা প্রথম ছবি এটাই এবং আমেরিকায় কোনো মানুষকে অবজেক্ট করে তোলা প্রথম ছবি ছিল কর্ণেলিয়াসের এই সেলফি।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান