আজকের দিনে

৩ জুন ।। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলোর মধ্যে একটি হল ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’ (World Bicycle Day)।

প্রতিবছর ৩ জুন সারাবিশ্বে ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে। বাইসাইকেল ব্যবহারের উপযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে এর জনপ্রিয়তা জনসমাজে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এই দিনটি পালন করা হয়।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ তার সাধারণ সভায় (United Nations general assembly) ৩‌ জুন দিনটিকে ‘বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ঐ বছরেই ৩ জুন, রবিবার, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা নিউইয়র্কে এই দিবসটি প্রথম উদযাপন করে। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বাইসাইকেলের উপযোগিতা নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি‌ (Leszek Sibilski) বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালনের জন্য প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বীকৃতির জন্য এক অভিযানের  সূচনা করেছিলেন। তাঁর এই অভিযানকে তুর্কমেনিস্তান সহ ৫৬ টি দেশ সমর্থন করে।

লোগো

এরজন্য একটি সরকারি লোগো বা প্রতীক নির্দিষ্ট করা হয়। আইজাক ফেল্ড (Isaac Feld) বড় আকারের ও নীলরঙের এই লোগোটি তৈরি করেছিলেন। এই লোগোতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সাইকেল আরোহীদের দেখানো হয়েছে। সাইকেল মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যায় – এটাই হল এর মূল উদ্দেশ্য। অধ্যাপক জন ই শোয়ানসন (John E Swanson) এই বিষয়ে একটি অ্যানিমেশন প্রস্তুত করেছিলেন।সাইকেল মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের প্রতীক। মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি করে সামাজিক শান্তি প্রদান করে। এর পাশাপাশি মানব স্বাস্থ্য রক্ষায় সাইকেলের অনন্য অবদান রয়েছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে এবং সংরক্ষণের জন্য সাইকেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে সাইক্লিং। নিয়মিত সাইকেল চালালে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাইক্লিং টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমাতেও সাহায্য করে সাইক্লিং। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে যদি নিয়মিত সাইকেল চালানো যায়। যারা নিয়মিত সাইকেল চালায়, তাদের মানসিক চাপ অনেক কম থাকে। এমনকি কাজের ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। হার্টের জন্য সাইকেল চালানো একটি ভালো ব্যায়াম। শরীরের চর্বি জমতে বাধা দেয় সাইকেল চালনা। তাই নিয়মিত সাইকেল চালানো, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে সচল ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া সাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খুবই কম খরচ লাগে। এছাড়া সাইকেল কিনতেও তুলনামূলক কম টাকা লাগে। সাইকেল খেলাধুলার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে স্পোর্টস সাইকেলের প্রচলন আছে। এই ধরনের সাইকেলগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যেতে পারে এবং অন্যান্য সাইকেলের তুলনা বেশি শক্তপোক্ত হয়। তাছাড়া সাইকেল চালাতে কোন জ্বালানি লাগেনা। ফলে পরিবেশ দূষণের কারণ থাকে না। তাই যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সাইকেল  সহজেই ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশের জন্য উপযোগী।

এই বিশেষ দিনটিতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ও বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা সাইকেল চালানোর উপযোগীতা নিয়ে বিভিন্ন বক্তৃতা‌ ও আলোচনার আয়োজন করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় সাইকেল চালানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এভাবেই বর্তমান প্রজন্মকে সাইকেল ব্যবহারে সচেতন ও আগ্রহী করে তোলার প্রচেষ্টা করা হয়।

স্বরচিত রচনা পাঠ প্রতিযোগিতা, আপনার রচনা পড়ুন আপনার মতো করে।

ভিডিও

বিশদে জানতে ছবিতে ক্লিক করুন। আমাদের সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুন। ইমেল – contact@sobbanglay.com

 


Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।