আজকের দিনে

১৭ মে ।। বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবস গুলোর মধ্যে একটি হল বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস (World Hypertension Day)।

১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালন করা হয়। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য মানুষকে উৎসাহ দানের জন্য এই দিনটিকে পালন করা হয়।

২০০৬ সালের ১৭ ই মে প্রথম বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালন করা হয়েছিল। বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালনের উদ্যোক্তা হল ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লীগ (World Hypertension League – WHL)। সারা বিশ্বের ৮৫ টি জাতীয় উচ্চ রক্তচাপ সোসাইটি এবং লীগ WHL- এর অন্তর্গত। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করাই এই সমস্ত সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। কারণ উচ্চ রক্তচাপ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সচেতনতার অভাবই এই রোগটি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ২০০৫ সালের ১৪ই মে WHL প্রথম এই দিনটির সূচনা করে। এরপর থেকে অর্থাৎ ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর ১৭ ই‌ মে এই দিনটি পালন করা হয়ে থাকে।

সাধারণত ১২০/৮০ এর অধিক রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়ে থাকে। ওপরের মাত্রাটিকে সিস্টোলিক চাপ বলা হয় এবং নিচের  মাত্রাটিকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় উপসর্গহীন হওয়ার জন্য একে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়ে থাকে।কিন্তু এর কারণে অনেক সময় শরীরের অন্য অঙ্গগুলো যেমন – হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, রক্তনালী, মস্তিষ্ক ও কিডনির মারাত্মক রকম ক্ষতি হয়। সেইজন্য এই রোগটির নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। সাধারণত ৪৫ বছরের উর্ধ্বে নারী-পুরুষ উভয়েরই উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটি সাধারণত বংশানুক্রমিক রোগ। পরিবারের অন্যদের উচ্চরক্তচাপ থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে অন্যান্য নানা কারণে উচ্চরক্তচাপ ঘটে থাকে। সুষম খাদ্য, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও নিয়মিত শরীরচর্চা এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, মানসিক চাপ, শারীরিক ওজন বৃদ্ধি প্রভৃতি এই রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এমনকি গর্ভাবস্থায় কারো কারো ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এর ফলে মা এবং শিশু দুজনেরই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই এই অবস্থায় নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া প্রত্যেকেরই নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অতিরিক্ত লবণ, রেডমিট অর্থাৎ খাসি বা গরুর মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার, মিষ্টি ইত্যাদি খাদ্য গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি।

সাধারণত বিভিন্ন আলোচনা সভা ও জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এই দিনটিতে। এছাড়া প্রতি বছর একটি থিম বা বিষয় নির্দিষ্ট থাকে। ২০০৫ সালে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস এর থিম বা বিষয় ছিল ‘উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা’ (Awareness of high blood pressure)। ২০০৬ সালের বিষয় বা থিম ছিল ‘লক্ষ্য পূরণ করা’ (Treat to goal)। ২০০৭ সালের বিষয় বা থিম ছিল ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ’ (Healthy diet, healthy blood pressure) । ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত থিম বা বিষয় একটাই রাখা হয়েছে – ‘নিজের নম্বর জানো’ (Know your numbers)। এই থিমের মাধ্যমে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং সেই সম্পর্কিত তথ্যগুলি নিয়ে ওয়াকিবহাল থাকার কথা প্রচার করা হয়। কারণ অধিকাংশ সময়ই নিয়মিত রক্তচাপ না মাপার কারণে ভিতরে কি পরিবর্তন হচ্ছে জানতে পারি না এবং আমরা আমাদের জীবনে নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হই। এর ফলে আমাদের শারীরিক অন্যান্য অঙ্গগুলি যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের কারণে অনেক সময় মৃত্যুও ঘটতে পারে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই রক্তচাপ নিয়মিতভাবে মাপার ব্যাপারে সচেতন নয়। যেহেতু উচ্চরক্তচাপ অনেক সময় উপসর্গহীন হয়, সেজন্য সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা বাড়িতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মীর দ্বারা রক্তচাপ মাপা খুবই জরুরী এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত।

Click to comment

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

To Top
error: লেখা নয়, লিঙ্কটি কপি করে শেয়ার করুন।