প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট কিছু দিনে অতীতের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণকরা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরী করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। তেমনই বিশ্বব্যাপী পালনীয় সমস্ত দিবস গুলির মধ্যে একটি হল ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ (World Mental Health Day)।
সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।
১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল রিচার্ড হান্টারের উদ্যোগে প্রথমবার সারা বিশ্বজুড়ে মোট ১৫০টি দেশ এই দিবস পালন করে। এরপর থেকে এই দিবস প্রতি বছর ১০ অক্টোবর পালিত হয়ে থাকে ৷
শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবে নিরোগ থেকে জীবন উপভোগ করা ও সাধ্য অনুযায়ী ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে কিছু করতে পারার সক্ষমতাই হল মানসিক স্বাস্থ্য। মানুষের শারীরিক সুস্থতা তখনই আসে, যখন সে মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ থাকে।
প্রথমদিকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচার করে এই দিনটি উদযাপন করা হত৷ ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ইউজিন ব্রডির পরামর্শে প্রথমবার “বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস” একটি থিমের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। সেই বছরের থিমটির বিষয় ছিল “বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো।” তারপর থেকে প্রতিবছরই বেশ কিছু থিমের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়৷ ২০১৭ সালের থিম ছিল, “কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য”, ২০১৮ সালের থিম ছিল, ” পরিবর্তিত বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য “। ২০১৯ সালের থিম ছিল, ‘’আত্মহত্যা প্রতিরোধে মনোযোগ দেওয়া’’ (Focus on Suicide Prevention)। ২০২০ সালের থিম ছিল, “মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া: মানসিক স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি” (Step up for mental health: More money spent on mental health)। ২০২১ সালের থিম ছিল, “একটি অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য” (Mental Health in an unequal world)। ২০২২ সালের থিম ছিল, “মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার সার্বজনীন প্রবেশযোগ্যতা বা অ্যাক্সেসকে শীর্ষ অগ্রাধিকার প্রদান করুন” (Make universal access to mental health and well-being a top priority)। ২০২৩ সালের থিম ছিল – মানসিক স্বাস্থ্য একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার (Mental health is a universal human right)। ২০২৪ সালের থিম হল – কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে (It’s Time to Prioritize Mental Health in the Workplace)।
বর্তমান বিশ্বে হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবনতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার হার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। এই দিন বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। মিছিল, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন করা হয় জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য৷ বিশ্বের কিছু দেশে, এই দিবস সংক্রান্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলি বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ এবং এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত চলে। উদাহরণ স্বরূপ, অস্ট্রেলিয়ায় ‘মানসিক স্বাস্থ্য সপ্তাহ’ পালন করা হয়।
সববাংলায়-এর উদ্যোগ ভাল লাগলে আপনার সাধ্য মতো অনুদান দিয়ে সাহায্য করুন। যেকোন অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করতে এখানে ক্লিক করুন।


আপনার মতামত জানান