জাতীয় ভোটার দিবস (বাংলাদেশ)

২ মার্চ ।। জাতীয় ভোটার দিবস (বাংলাদেশ)

প্রতি বছর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের পালনীয় সেই দিবসগুলির মধ্যে একটি হল জাতীয় ভোটার দিবস (National Voter’s Day)।

প্রতি বছর ২ মার্চ বাংলাদেশ জুড়ে পালন করা হয় জাতীয় ভোটার দিবস । বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের তরুণ যুবাদের নির্বাচনী গণতন্ত্রের মধ্যে দ্রুত অন্তর্ভুক্তি এবং সকলের মধ্যে গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা প্রচার করতে এই বিশেষ দিনটি পালিত হয়।

বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র। এখানে নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের প্রশাসক স্থির করার অধিকার পান সাধারণ নাগরিক। সমস্ত নাগরিক ১৮ বছর উত্তীর্ণ হলেই ভোটাধিকার পান। ভোটাধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ভোটদানের উৎসাহ বাড়িয়ে তোলার জন্য এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয় বাংলাদেশ জুড়ে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘সার্ক’ (SAARC)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলির নির্বাচন বিষয়ক সংগঠন কর্তৃক সমস্ত দেশগুলিতে জাতীয় ভোটার দিবস উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই থেকেই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এই দিনটি পালনের প্রস্তাব দেয়। সেই অনুমোদনক্রমে ২০১৮ সাল থেকেই ১ মার্চ তারিখটিকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালন করা হত। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ তারিখে এই বিশেষ দিনটি পালনের জন্য স্থির করা হয়েছে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে যে মন্ত্রীসভার বৈঠক আয়োজিত হয় সেখানে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও ভোটাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই ১ মার্চ দিনটিকে জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সাধারণভাবে দেখা গেছে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কোনও নির্বাচনে মাত্র ২০-২৫ শতাংশই ভোটদানে এগিয়ে আসে এবং নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন তারা। এই অবস্থা পাল্টাতে ও যথাসম্ভব বেশি তরুণ-তরুণীদের ভোটদানের কাজে উৎসাহিত করা এবং ভোটাধিকারের গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্যেই বাংলাদেশ সরকার এই দিনটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশ সরকার এই দিনটিকে ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে ধার্য করেছে যার অর্থ হল এটি একপ্রকার প্রচারমূলক উদ্‌যাপন।

প্রতি বছর নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বাংলাদেশে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ভোটার কার্ড বিতরণ ও ভোটার কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তি করা এই দিনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। তাছাড়া হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের একটা বিষয়ও এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে ভোটারদের এসএমএস পাঠানোর মধ্য দিয়ে সচেতনতা বিস্তার, সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার এবং নির্বাচন ভবন সজ্জিত করে তোলা এই দিনটি উদ্‌যাপনের অন্যতম দিক।

২০২১ সালের জাতীয় ভোটার দিবসের প্রতিপাদ্য (Theme) স্থির করা হয়েছিল ‘বয়স যদি আঠারো হয়, ভোটার হতে দেরি নয়’ (If You Are 18 – Do Not Late To Be a Voter)।

আপনার মতামত জানান