ভূগোল

বাংলাদেশ

 

 ” আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি ।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি ॥”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের পশ্চিমে আছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়, পূর্ব সীমান্তে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম , দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে মায়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণ উপকূলের দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভৌগোলিকভাবে একটি উর্বর ব-দ্বীপের অংশ বিশেষ। “বঙ্গ” ভূখণ্ডের পূর্বাংশ পূর্ব বাংলা নামে পরিচিত ছিল, যা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল পৃথিবীতে যে ক’টি রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা পায় তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম যদিও আয়তনের হিসেবে বাংলাদেশের স্থান বিশ্বে ৯৪তম ; ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে নবম স্থানের অধিকারী । মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলেরও কম এই ক্ষুদ্রায়তনের দেশটির (২০১৮) জনসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি অর্থাৎ প্রতি বর্গমাইলে জনবসতি ২৮৮৯ জন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১.৪৪ কোটি এবং ঢাকা মহানগরীর জনঘনত্ব প্রতি বর্গমা্গইলে ১৯,৪৪৭ জন। এই দেশের জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা; সাক্ষরতার হার ৭২%। ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বাংলাদেশের মধ্যভাগে বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি সমতল এলাকাতে অবস্থান করছে৷ ঢাকা শহরটি “মসজিদের শহর” নামেও পরিচিত কারণ এখানে ৭০০-রও বেশি মসজিদ আছে। এছাড়া ঢাকা “বিশ্বের রিকশা রাজধানী” নামেও পরিচিত হয়ে আছে৷ ১৯৭১ সালে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষিত হয়েছিল৷ দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘতম দুটি নদী – গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র যেখানে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে সেখানেই কালের পরিক্রমায় গড়ে ওঠে পৃথিবীর বৃহত্তম এই ব-দ্বীপ যার নাম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম স্বাভাবিক ভাবে গড়ে ওঠা সমুদ্র সৈকত।

বাংলাদেশের উচ্চতম স্থান দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মোডক পর্বত, সমুদ্রতল থেকে যার উচ্চতা ১,০৫২ মিটার । বঙ্গোপসাগর উপকূলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের অনেকটা অংশ জুড়ে সুন্দরবন অবস্থিত, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে রয়েল বেঙ্গল (টাইগার) বাঘ , চিত্রল হরিণ সহ নানা ধরনের প্রাণীর বসবাস ।

বাংলাদেশ ৮টি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত, সেগুলি হল – ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট এবং রংপুর । প্রতিটি বিভাগে রয়েছে একাধিক জেলা; বাংলাদেশের মোট জেলার সংখ্যা ৬৪টি।

ভারতের মতনই রাষ্ট্রপতি এদেশের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান, তাঁর সীমিত ক্ষমতা রয়েছে; কেননা কয়েকটি ক্ষেত্র ব্যতীত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে তিনি সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল ক্ষমতার অধিকারী হলেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি “সরকার প্রধান” হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। আর প্রধানমন্ত্রীকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হয়। মন্ত্রীসভার মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত এবং রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ঐতিহ্য হাজার বছরের বেশি পুরনো, বাংলার লোক সাহিত্যের কথা মৈমনসিংহ গীতিকায় পাওয়া যায়৷ বাংলাদেশের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়ের উৎসব ঈদুল ফিত্‌র , ঈদুল আজহা ও মিলাদুন্নবী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখে শহীদ দিবস পালিত হয় যেটি বাংলাদেশে অতি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জাতীয় খেলা হল হা-ডু-ডু বা কাবাডি।বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হল শাপলা, জাতীয় ফল কাঁঠাল, জাতীয় মাছ ইলিশ, জাতীয় পাখি দোয়েল এবং জাতীয় পশু হল বাঘ। বাংলাদেশের প্রধান দানাশস্য হল ধান ও গম এবং অপ্রধান শস্যের মধ্যে আছে যব, জোয়ার, ভুট্টা, বজরা, চীনা ও কাউন ইত্যাদি। তৈলবীজের মধ্যে তিল এবং সরিষাই প্রধান হলেও অন্যান্য ফসলের মধ্যে রয়েছে চা, তামাক, রাবার, ফুল এবং ভেষজ ও রঞ্জক উৎপাদক, গাছগাছড়া ইত্যাদি। দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল চায়ের উৎপাদন সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে হয়ে থাকে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে অসংখ্য নদনদী দেখা যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলি, শীতলক্ষ্যা, গোমতী ইত্যাদি।

বাংলাদেশের ভ্রমণযোগ্য স্থান গুলি হল যথাক্রমে, কক্সবাজার যেটি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, মহাস্থানগড়- বগুড়া যেটি ছিল প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী এবং পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে মহাস্থানগড় এবং সুন্দরবন যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ। তাই তো বংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি জীবনানন্দ দাশ বলেছেন “বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর”।

 

৬ Comments
To Top

 পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে সকলকে পড়ার সুযোগ করে দিন।  

error: Content is protected !!